Thursday, December 29, 2022

অবান্তর ১২৫ আদুরে গীতি

     আদুরে গীতি


তুমি কেউ নয় অথচ সর্বস্বসুখ
তোমাকে ছাড়িয়ে যাওয়া আত্মাকে ছাড়িয়ে যাওয়া, 
লেগে আছো অন্তরাত্মায় কি সহজে।
ওখানে নির্বাসন দিয়েছি তোমায়।
বন্দি করেছি বন্দিনী করে।
সহজ সুখের মত আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে নিয়েছি গায়,
শীতের চাদর, দুখের ওড়না।
আজ আর জলধারা ঝরনা হয় না,
ঝরনা হয় না নদী,
নদী হয় না সমুদ্র
শুধু শীত জাগানিয়া জংলী পাতারা মুখের উপর ঝরে পড়ে, শিশির ভেজার ডাক শোনায়।
শিশিরে ভিজবো বলেই আত্মাকে ছুঁয়েছি আমি।
অন্তিমে আত্মা, ঈশ্বর, প্রকৃতি , প্রেম নিরাকার
শুধু ছুঁয়ে যেতে হয় গভীর আদরে।

Sunday, December 25, 2022

অবান্তর ১২৫ এমনই তো হবার ছিল

   এমনই তো হওয়ার ছিল


তোমার সঙ্গে যদি  বিচ্ছেদ ঘটে
অনন্ত অভাব থাকবে, প্রতিদিনের কান্না থাকবে, তবু চাওয়া থাকবে না।
আসলে অনন্ত পথ যে পথের গ্ৰন্থি
সে পথের শেষ নেই, সীমা নেই, চাওয়া নেই, পাওয়া নেই, বাঁচা নেই, মরা নেই
শুধু আছে অনন্ত যাপন অনুভব,
ঘুমেল স্বপ্ন আর অন্তরের কথা।

নিজের সাথে তোমার কথা,
নিজের সাথে নিজের কথা
তাড়া নেই, খেদ নেই, উদ্বেগ নেই, আবেগ নেই
শুধু অনন্ত স্থিরতা যেন এমনই নিশ্চিন্ত পরিপাটি ,
তাই মনে মন জোড় বাঁধি, সাজায় গোছায়  কোনো এক অনন্ত অধিকারে সুখে থাকি, 
দুখে ভাসি একার জঠরে।
সংসার সাজাই একাই একার।

Saturday, December 24, 2022

অবান্তর ১২৩ আধকপালে হৃদয়

  আধকপালে হৃদয়

হৃদয় ছুঁতে গিয়ে দেখি আধেক হৃদয় নেই
আধেক হৃদয় ছুঁয়ে আছে ঠোঁটের কোনাতেই
ঠোঁটের কোনায় খুঁজতে গিয়ে আধেক হৃদয় পার।
চোখের কোনের জলের ধারায় হৃদয় ছারখার।
আর কতদিন আধ হৃদয়ে  জীবন করবে পার
গোটা হৃদয় খুঁজতে গেলেই জগত ছেড়ছাড়।
ভালোবাসার হৃদয় গুলো দুখের তাতে মরে।
আধেক হৃদয় আধেক গলি আগুন হৃদয় জ্বলে। 

অবান্তর ১২৪ কিছুই পারিনা

  কিছুই পারিনা

আমি সঙ্গী হতে পারি
নীড় হতে পারিনা।
প্রত্যেক পুরুষই নীড় চায়,
ঝড়ের শেষে ওম চায়,
খড়কুটো সারিয়ে ছাদ চায়,
চাওয়ার মধ্যে বাঁচা চায়,
খড়ের মধ্যে হাত চায়,
হাতের ভেতর সুখ চায়,

অথচ আমি তো শুধুই দুঃখ হতে পারি।

 

Thursday, November 24, 2022

অবান্তর ১২১ অবনীতির নীতি

  অবনীতির নীতি 

আমাদের এখন ভাত লাগে না হাত লাগে
কর্মে অজুহাত লাগে
আমাদের এখন ঘর লাগে না ছাদ লাগে
ছাদ ছেড়ে আকাশ লাগে
কিন্তু কিসে তল পাবে?

হাত বাড়ালেই শূন্যতা
জীবন মানেই দৈন্যতা
নিজের কাছেই মুখ ঢাকা
কেমনে তার দিক পাবে?

দিক নামে দিক শূন্যপূর
রাজায় প্রজায় এক গ্লাসের সুর
এক লাইনে ধনী মজুর
কেমনে শিশু ঘর পাবে?

প্রেমেও যখন খেলা হয়
খেলা খেলা প্রেমিক হয়
ভালোবাসা মুখ লুকায়
জীবন কোথায় কাঁধ পাবে?

বেকার জীবন ধর্ণা দেয়
স্বপ্ন তখন স্বপ্ন রয়
প্রেম যখন হাত ছাড়ায়
চোখের কোনের জলের মত
প্রিয়তমা নারীর আঁচল উড়তে থাকে
কেমনে তার লাগ পাবে?

নীতির পিঠে অবনতি
তারই নাম দূর্নীতি
পূর্বপুরুষ প্রাপ্ত যা
মানুষ কেন ভয় পাবে?

জন্ম থেকে প্রাপ্ত যা
অন্যকে ছেড়ে এগিয়ে যা
শিখেছি আমরা প্রানপনে
মানছি আমরা মনেপ্রানে।

রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়
উলুখাগড়া প্রানে সয়
দুর্নীতি  আর নীতির প্রশ্নে
জীবন কোথায় ভাত পাবে?







Saturday, November 12, 2022

অবান্তর ১২২ হৈমন্তী

হৈমন্তী



হৈমন্তী হলুদ ছাওয়া মাঠে,
লেগে আছে ঘরে ফেরার ডাক।
হেমন্ত মানেই তো ঘরে ফেরার গান।
গর্ভিনী ধানেরা গরবিনী পা ফেলে সন্তান বুকে করে লক্ষ্ণীর পায়ে পা ফেলে ঘরে ফিরবে।
দুয়ারে জলের ঝারি প্রস্তুত।
নিকানো খামার প্রতীক্ষা করছে আলপনা সাজিয়ে।

ঝরে পড়া হলুদ স্তুপে লেগে আছে শরতের ঘ্রান।
প্রতিটা পাতার হলদে ছোপে লেগে আছে সবুজ স্মৃতি,
এও এক গন্তব্যে ফেরা।

তুমিও শীত,গ্ৰীষ্ম, বর্ষা চেয়েছো গন্তব্যে ফেরাতে,
অথচ গন্তব্য আসার আগেই সবুজ স্মৃতিরা ভিড় করে,
অর্ধপথে ফিরে যেতে হয়,
গন্তব্যের অধরায় রাতে চাঁদ ওঠে,
গর্ভিনী ধানের বুক বেয়ে চাঁদ এসে উঁকি দেয় বালিশে শিয়রে।
বারে বারে ঘরে ফেরার ডাক আসে
অন্ধকারের বুক চিরে পৌঁছে দিতে চাও ঘরে।

নরম সর কুয়াশা সরিয়ে, সদ্য গজানো অন্ধকারে বারে বারে গন্তব্য হারিয়ে যায়।
নিকানো উঠোন, আলপনা দেয়াল, বাকল ত্যাগী পেয়ারা আর লালপেড়ে আলতা পা
নবীন শিশিরে ভিজে প্রতীক্ষা করে -
দুটি গন্তব্য এক হওয়ার ,
শিশির পায়ে হলুদে হেমন্তে চৌকাঠ ছোঁয়ার।

Wednesday, October 19, 2022

অবান্তর ১২১ অর্ধ মনের গল্প

     অর্ধ মনের গল্প


মন্দারমনি,দীঘা, তাজপুর,গাদিয়াড়া
ছুটে চলি একের পর এক ডেষ্টিনেশন,
তবু গোটা মন নিয়ে ছুটে যেতে পারি কই বল?

চলে যায় জলাভূমি, বালিয়াড়ি, জোয়ার ভাঁটা,
আধখানা  অসংসারী মন পড়ে থাকে শুকনো মাছের মত,
বড় আঁশটে গন্ধ তার, 
সযত্নে ঠান্ডা ঘরে, জলের তলায় আধখানা মন ঘুরে মরে,
সারাবেলা গোটা মন নিয়ে  সংসারী কে বল?
যে বুঝেছে সং মানে সার,
সে তো আধখানা মনে ঘুরে মরে সারাবেলা।

তারপর পাপোশের কোনে মন রেখে হাসি হাসি মুখে সুখী সাজে , আদরে সোহাগে ভালোবেসে সামাজিক হয়।
ঘুমঘোরে আধখানা সংসারী মন বালিশের কোনে গুঁজে রাখা অশ্রুকে গল্প বলে,
কোনো এক হাতের গল্প, কাঁধের গল্প, নিশ্চিত নির্বাসিত অধরের গল্প , 
একটা উড়ন্ত অলৌকিক দিনের গল্প ।

তারপর ঘুমঘোরে মনে মনে ঘুরে মরে , ঘুরে মরে

Monday, October 10, 2022

অবান্তর ১২০ ক্ষয়

          ক্ষয়


ভালোবাসাকে ভুলতে চেয়ে নিজেকে ঘৃনা বাসি ।
নুড়ি পাথর জল ক্ষয়ে মসৃন হয়,
পিচ্ছিল সে পথ রাত বাড়ায়,
অন্ধকার খোঁজে নিজের কাছে বসবার।

রাত কেটে যায়
  গোলাপের শুকনো পাপড়ি স্মৃতি জাগায়।
ঘুরপথে ঘুরে চলে, বয়ে যায় আরো এক ঋতু মাস ।
দিনান্তে দিন বয়ে যায় অসম্ভবেরা,
ভিড়ের মাঝে অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে,
হাসি গাই দিই করতালি ভিতর হাঁফায়।

যতবার ভুলে যেতে চাই ততবার কাটে হাত ছুরিকাধারে।
রক্তাক্ত গোলাপী আশায় নুন চেপে ধরি,
অবোধ পোষ মানে না!
ঘৃনা বাড়ে নিজের আশায়। 

আবার অতি স্বাভাবিক
যেন কিছু হয়নি জীবন এমন যাপনে সাজিয়ে তুলি কার্ণিস,
পায়রার বকম বকম।
তারপর আবার শুঁড়িপথে মন্ত্রনা ভিড় করে
নিস্তব্ধ  সকালে।

চলে যেতে চাই পাহাড়ের এক কোনে
যেখানে মানুষ নেই, যেখানে গাছ নেই , যেখানে রক্তাক্ত সমুদ্র নেই।
শুধু বেলাভুমি শুয়ে আছে অলস জঠরে,
শামুক খোল পাহাড়ের কোলে।

অবান্তর ১১৯ দ্রোহকাল

     দ্রোহকাল


দূর্গা মা ফিরে গেল, 
এত আলো ঝলমলে রাত চলে গেল।
তবু ,আমরা কেউ কারো জন্য অপেক্ষা করিনি।
আমরা অপেক্ষা করিনি ভালোবাসার কাছে বসে থাকার,ছুঁয়ে থাকার, বেঁচে থাকার।
বরং নিজেদের থেকে পালিয়ে বেঁচেছি ভালোবাসার ঘাড়ে ভরসা রেখে।

এমন কত কত রাত কেটে যাবে , দিন চলে যাবে আর আমরা দ্বন্দ্বের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যাবো।
দিন থেকে রাত, রাত থেকে দিন-
উৎসব থেকে আঁধার, আঁধার থেকে উৎসব।

দ্রোহকাল ।

Monday, September 19, 2022

অবান্তর ১১৮ অনুমতিহীন বিচ্ছেদ

  অনুমতিহীন বিচ্ছেদ



এই যে এত ছেড়ে যাবো  বল -
চলে যাবার সময় এলে  আমিও তো তোমার সাথে  যেতে পারবো না।
আঁকতে পারবো না একটা সুস্মিত আখর তোমার কপালে।
সহস্র কুঞ্চিত ভ্রুতলে দাঁড়িয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারবো না ভাঙ্গা নৌকার মত বুকে,
আমাদের না পাওয়া দুঃখগুলো এক থাকবে,আর তুমি চলে যাবে!

অথচ এই যে চাওয়া এই যে বিচ্ছেদ এ তো শুধুই তোমার আমার চাওয়া।
এর মাঝখানে যারা আছে, 
অতবড় গিরিলঙ্ঘন করে ফিনিক্স হওয়ার সাধ্য আমার নেই ,তুমি তো জানো।

অথচ, তোমার বড় তাড়া ছেড়ে যাবার।
যাবার সময় অনুমতি না দিলে যেতে পারবে তো?

Wednesday, September 7, 2022

অবান্তর ১১৭ উড়ো খাম

   উড়ো খাম


একটা শহর লিখেছি তোমার নামে
চিঠি উড়ে গেছে আ্যসফল্টের খামে
দখিনা রোদেতে বৃষ্টিতে মাখামাখি
এখনো দাঁড়িয়ে চৌরাস্তার কোনে।

তোমার শহরে এখনো অনেক ভোর
আমার শহর রাতজাগানিয়া  কালি
দেখা নেই তবু মনে  কথা সারাদিন
একলা শালিখ ঘুরছে আনমনে।

তোমার বিকেল আমার অপেক্ষায়
ট্রেন চলে গেছে ফাঁকা রেলপথ পড়ে
তুমি আর আমি আজও ভিজছি সাথে
দেখা, হোক বা নাহোক তোমাতে আমাতে।

তুমি তো এখনো বড্ড ছেলেমানুষ
আমার মেয়েমানুষি তোমাকে ঘিরে
মুখ গোমড়ার সমীকরনে তাই
ইলিবিলি কাটি আঙ্গুলে আঙ্গুল ঘিরে।

অনেক অদেখা বরফ জমায় ধীরে
অভিমানে আর দিন কাটে আড়ষ্ঠতায়
রাত নিঃঝুম বকুল শিমুল তলে
ষ্ট্রীটল্যাম্প একা একাই আলো ছড়ায়।

আধেক ভোরে জেগে উঠি ফুঁপিয়ে
মন জেগে ওঠে প্রবল আশঙ্কায়
ছুটে চলে যাই সব অভিমান ফেলে
আজও রাস্তায় চলেছে দুইজনায়।


Saturday, August 13, 2022

অবান্তর১১৬ না পাঠানো চিঠি

  না পাঠানো চিঠি


রক্তাক্ত হই তাই  বেঁচে থাকি।
প্রেমিক বলেই প্রেম ঘুরেফিরে আসে ।
যাকে পাওয়া হয়নি কখনো
তার নামে গোটা রাজপথ লিখে দিই ,
ভিজে থাকা পুকুরের কোন তার নামে তুলে রাখি কুলুঙ্গির খামে।

একরাশ বকবক লিখে দিই জমানো ঠিকানায়
মিশে যায় হাত, আর ভেজা ঘাম চুপিসারে।
যে আমার ঘুমঘোরে উঁকি মারে,
দেখা হলে একরাশ উড়ো চিঠি মেলে ধরে,
একা করে, ফাঁকা করে মনে মনে খুব তাকে ঘিরে ধরে।

একা এক রাজপথ, একা এক গলি,
কখনো কখনো তারা করে গলাগলি।
শ্রাবনের শূন্যতা চক্ষু না ভেজে,
ভিজে থাকে মনগলি স্যাঁতস্যাঁতে মেঝে।

বৃষ্টির পরে যদি বুকে রাখো হাত
তখনো দেখবে কাঠফাটা বৈশাখ।
দেখা হবে ঠিক জেনো, হবে আমাদের,
তখনো অচেনা যেন একে অপরের

মনে মনে জল ঝরে
মুখে ভাব নেই
কথা যেন উড়ে গেছে গোপন খামেই।

Saturday, August 6, 2022

অবান্তর ১১৫

     
আমি তোমার রক্তাক্ত হৃদয়,
তবু হৃদয় খুঁড়তে খুঁড়তেই জীবন জাগে।
প্রতিটা রক্তাক্ত পল এক একটা মদির পেয়ালা
ভর দে পেয়ালা সাকী।


যন্ত্রনা জেনেই পান করেছি পেয়ালা,
তাই ধীরে ধীরে আয়েশে পান করি জ্বালা।
তাড়া নেই , তাই  ধীরে চলা
সমস্ত নিরুদ্দেশ জুড়ে কুয়াশা আবেগ।


ক্ষনিক জড়িয়ে নিতে চাই আবেশ চাদর,
যেন ঘুম না ভাঙ্গে, ঘোর না কাটে,
শ্রাবন মেঘ কুয়াশা হয়ে জমে থাকুক বুকের ভেতর,
ও সখি খোল খোল অবগুণ্ঠন দোর।

Saturday, July 16, 2022

অনুগল্প। দাম্পত্য ১,২

            দাম্পত্য (প্রথম পাঠ)
              অর্পিতা চৌধুরী


রিটায়ারমেন্টের পর একবছর পার হতে চললো জীবনের এই দ্বিতীয় ভাগে এসে নবীনবাবু আর প্রভাদেবী এক নতুন ইনিংস শুরু করেছেন। নবীনবাবুর বদলীর চাকরী  আর বাড়িতে বৃদ্ধ শ্বশুর শাশুড়ির রক্ষনাবেক্ষন, ছেলেমেয়ের পড়াশোনা এসবের কারনে দুজনের সেরকমভাবে একসঙ্গে থাকা হয়নি, এখন এই একবছরে তারা একে অপরকে যেন নতুন করে  চিনছেন, জানছেন। দৈনন্দিনতায় একে অপরকে একটা অভ্যাস করে ফেলেছেন এই এক বছরে। নবীনবাবু এখনো যথেষ্ট আ্যকটিভ হলেও প্রভাদেবী বাত আর সুগারে জর্জরিত, ইনসুলিন চলে নিয়মিত তাই খাওয়া দাওয়ায় ব্যাপারে নবীনবাবু  তাকে চোখে চোখে রাখেন।

অনেকদিন পর পুরনো বন্ধুদের সাথে নবীনবাবুর যোগাযোগ হয়েছে, সবাই মিলে পরিকল্পনা করেছেন কলেজ বেলার মত  পরিবার ছাড়া তারা ঘুরতে যাবেন। আরেকবার ফিরে পেতে চাইবেন কিশোরবেলাকে। প্রভাদেবীর মনে মনে সায় নেই কিন্তু ব্যাগ গুছিয়ে চলেছেন,কেমন যেন নতুন বিয়ের পরপর বিচ্ছেদ দুঃখে ভারাক্রান্ত মন। আর দিন দুই বাকি, মনে মনে পরিকল্পনা এঁটে ফেললেন। নবীনবাবু নিয়মমাফিক সুগার টেষ্ট করেন, আর কপালের ভাঁজ চওড়া হয় হঠাৎ সুগার বৃদ্ধির বাড়বাড়ন্তে, অথচ কারন খুঁজে পান না।  কয়েকদিন থাকবেন না তাই নবীনবাবু গুছিয়ে বাজার করে এনেছেন, দুই হাতে দুই ব্যাগ, উচ্চস্বরে প্রভাদেবীকে ডাকছেন দরজা খোলার জন্য। 

প্রভাবতীর মুখে তখন ঠাসা মিষ্টি, ফ্রিজের দরজা খোলা, মিষ্টির বাক্স খোলা, কোনোরকমে সাড়া দিলেন উঁ উঁ।


       দাম্পত্য ( দ্বিতীয় পাঠ)
             অর্পিতা চৌধুরী

একসঙ্গে আটত্রিশটা দাম্পত্য কাটানোর পর আজ এ বাড়িটা আশ্চর্য রকম শুনশান।  বাহাত্তর ছুঁইছুঁই অভিরূপ বাবু সারাদিন আজ চুপচাপ। রান্নার মেয়েটি রান্না করছে রান্নাঘরে, আজ আর তিনি কোনো বিষয়েই মাথা ঘামাচ্ছেন না,শুধু মাথা ঝুঁকিয়ে ঢুলছেন আর মাঝেমধ্যে দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন। গোটা বাড়িটা যেন ঘুমিয়ে পড়েছে। শুধু মাঝে মাঝে কড়াই খুন্তির আওয়াজ আসছে রান্নাঘর থেকে। আসল ঘটনা হল, অভিরূপ বাবুর স্ত্রী প্রতিমা দেবী দুদিন ধরে নার্সিংহোমে আই সি ইউ তে ভর্তি রয়েছেন বেশ সংকটজনক অবস্থায়। এর আগে অসুস্থ হলেও তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে এসেছেন, তবে এবারে ?

দুদিন পর প্রতিমা দেবী আবার একবার যুদ্ধ জয় করে বিকেল বেলা নার্সিংহোম থেকে বাড়ি ফিরেছেন। ঘরে চারদিকে আলো জ্বলছে, টিভিতে সিরিয়াল চলছে আর অভিরূপ বাবুর উত্তেজিত মতামত শোনা যাচ্ছে থেকে থেকে। এখনো প্রতিমা দেবী বেশ দুর্বল, শুয়ে আছেন, রাত দশটা, মশারী টাঙানোর পালা, এমন সময় অভিরূপ বাবুর গলা পাওয়া গেল, চড়া গলায় গজগজ করে বলছেন - এমন কুঁড়ে, অকেজো মেয়েমানুষ আমার বাপের জন্মে দেখিনি বাবা। চিরকেলে  মশারী টাঙ্গানো নিয়ে তাদের ঝগড়া।প্রতিমা দেবী আগের মতই নির্বিকারে পাশ ফিরে বললেন, টিভির সামনে থেকে সরাও তো , শুধু ঝামেলা ।

দেওয়াল ঘড়িটা টিকটিক শব্দ করছে,  বাড়িটা জাগছে।



     
            



অবান্তর ১১৪ রাধা

      রাধা
অর্পিতা চৌধুরী


তোমাকে ভালোবেসে 
 অনন্ত আয়ূধ জয় করেছি।
এক মুহূর্তের কান্না  বাঁচতে শিখিয়েছে হাজার বছর।
অনন্ত আয়ূ অতিক্রম করে এক দুঃসাহসী নারী জন্ম নিয়েছে আজ।
এ নারী ভালোবাসায় মরে যেতে আসেনি,
বাঁচতে এসেছে অনন্ত কাল।
এ এক মোহনীয় পথ
যে পথের দেখা মিলেছে অনন্তের গতিপথে শূন্যবিন্দুতে , অপূর্ণতার আত্মানুসন্ধানে,
 আজ তা পূর্ণ।

আমি কোনোদিন কেউ হব না, অথচ আমিই সব।
এই বোধে আজ অনন্ত লক্ষ্য যোজন বিরূদ্ধতা অতিক্রম করতে পারি,
অতিক্রম করতে পারি এক জীবন।
যেদিন সমস্ত অঙ্গুরীয় বন্ধন ছুঁড়ে জলভরা চোখ প্রশ্ন রেখেছিল,
একটি চুম্বন আখর যেন অনেক আখর এঁকে দিল আকাশ গায়ে, শিলাখন্ডে।
ঝরে পড়া অশ্রু গন্ডুষপাত্রে তুলে নিলে অনায়াসে।

জানলাম অনন্ত বলে কিছু হয় না,
 মূহুর্তই অনন্ত হয়ে যায়।

Monday, July 11, 2022

অবান্তর ১১৩ প্রবাহ

      প্রবাহ

    
ভালোবাসায় যুদ্ধ চলে না
তুমি হও বা আমি
রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত দুমড়ে মুচড়ে ওঠা জীবন 
যতক্ষন না ক্লান্ত রিক্ত হয়ে ওঠে
ততক্ষন অন্ধ আনুগত্যে একে অপরকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে যেতে  একদিন হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে দেখবে তুমি আর তুমি নেই অন্য মানুষ, অন্য হাত, অন্য পা, অন্য জীবন
ঠিক যেন দূরতর অচেনা মানুষ ।
ঠিক যেন কতদিন ঘুম থেকে জেগে উঠে না খাওয়া বুভুক্ষু জীবন
অনন্ত ক্ষিদের মুখে সব কিছু বিস্বাদ বিস্বাদ
অথচ জীবন কিছু চায়,
কি যে চায় , কিছুই না জানে
তবু ঘুম ভাঙ্গা আলসেমি জুড়ে থাকে মন,
চুপচাপ পড়ে থাকে, মাথা ফাঁকা , গা ভারী
সব কথা যেন শেষ হয়ে গেছে চিরদিন 
অথবা সব শব্দই হয়ে গেছে নিংশব্দ আজীবন।
সব কিছু বিষাদ, বিষাদ
যেখানে একদিন আর কোনো তুমি নেই আমি নেই, অস্থিরতা নেই সবকিছু গভীর গভীর , স্থির অনন্ত নীল।

Saturday, July 9, 2022

কথন

     কথন


আবার এক মৃত্যুকীর্ণতা, আবার এক মরচে পড়া দিন। এ দিনের যেন শেষ নেই, কানাগলির মত, শুরু আছে শেষ নেই। অথবা শেষ হলেই সমাপ্ত বলেই এ অনন্ত। ঈশ্বর, নিরীশ্বর, প্রার্থনার মাঝে নির্লিপ্ত জীবন, যে জীবনে সংঘাত পদে পদে নৈরাশ্যের সাথে তবু সব কিছু আলগা আলগা যেন আমি বলে এখানে কোনো দুঃখ সুখের লীলা নেই, সবই দর্শকের দর্শনমাত্র। এই যে একটা দৈনন্দিন সকাল শুরু হল তারপর আবার ঘটনার পুনরাবৃত্তি অভ্যস্থ দ্রুততায় জামাকাপড়, প্রয়োজনয়াদি ব্যাগে পোরা, এখন সে যেন শিশু আমি ধাত্রী, তাই উপশমে নয় প্রয়োজনে বিশ্বাসী, দ্রুততায় সিদ্ধান্তে আসি, আবার সেই হাসপাতাল,শুশ্রুষা,বমন গা, তবু কেন জানি বিবমিষা আসে না, মুছিয়ে দিই, সরিয়ে দিই না। ক্ষিধে নেই, বোধ নেই, অনায়াসে পাঁজাকোলা করে তুলে আনি, এও বুঝি প্রাপ্তি, উপলব্ধি, নিজের সাথে নিজের। সারাদিন দাঁড়িয়ে,ক্লান্তি নেই অথচ ডাক্তার অমিল।

এই তো সেদিনও অচেতন দেহ কাছে সবাই যখন ইতস্তত তখনও কোনো এক বোধের কাছে জিম্মেদারি করেছি মন। কোথাও যেন এক বিচ্ছেদ গন্ধ তীব্র হচ্ছে দ্রুততায় অথচ কি নির্লিপ্ত আমি, যেন মুখোমুখি হতে প্রস্তুত কোনো এক ভবিষ্যতের অথচ কোনো ভয় নেই, ভাবনা নেই , সবই চলছে যন্ত্রসংগীতের মত, সুরে তালে কোথাও কোনো খামতি নেই, ওজর নেই।

বেশ একটা বোধ জন্মেছে আমিত্বে। সেই যখন করোনাকালে একলা উপরনিবাসী সন্ধ্যেবেলায় জানালাপাশে মেঝেতে বসে লিখতে লিখতে অনুভব করলুম মোটাসোটা কালোকুলো একটা সাপ ঢুকে পড়ছে জানলা দিয়ে, চমকে তাকাতেই দেখি কোথাও কিছু নেই, গা টা ছমছম করে উঠলো, দিলুম জানলাটা বন্ধ করে। অথচ ঠিক পরের দিন ভরদুপুরে অমনিই এক ঢ্যামনা জানলা দিয়ে বুকে পড়লো রান্নাঘরে, মনে মনে কেমন একটা খটকা লাগলো, বললাম না, কিন্তু খচখচানি রয়ে গেল। 
আবার দেখ সেই মানুষটা যেদিন বললো মেয়েলি দুপেয়ের তেলখাবার জায়গার সে খোঁজ জানে না, হয়তো মশকরা করেই, তবু কেমন যেন সেই খচখচানিটা ফিরে  এল আর তারপরই ধরনীপ্রপাত । 
আবার দেখ না এই যে সেদিন ঘুমোতে ঘুমোতে কেঁদে কেঁদে উঠলাম, দেখলাম যে ওম স্কুলে খুব অসুস্থ অথচ সেদিন রবিবার, ঠিক পরদিন ছেলে জ্বরের ঘোরে ছেলে বাড়ি ফিরলো। এ কি? এ কেন? প্রশ্ন খুঁজতে ইচ্ছে হয় না, তবু খচখচানিটা ফিরে ফিরে আসে।

কিছুদিন ধরেই এক বিচ্ছেদ সুর শুনতে পাচ্ছি, এ যেন অবচেতনের গান, এখানে কোন ভয় নেই, ভাবনা নেই শুধু কর্তব্য, সবাই কে আশ্বস্ত করার অথচ কেমন যেন নির্লিপ্ততা। সব কিছু তে থেকেও কেমন যেন হাঁসের মত গাঝাড়া দিয়ে চলেছি। বাইরের আমির সাথে ভেতরের আমির কোনো সংঘাত নেই, কোনো দ্বন্দ্ব নেই শুধু যেন বাইরের আমির জন্যে ভিতরের আমি ঘুমিয়ে থাকতে চায়। ঘুম থেকে উঠে হাই তোলে, ভাবে খুব ফাঁকি দেওয়া গেল যাইহোক। এতদিনে ভিতর আমি বুঝতে পারে এই যে মানুষগুলোকে  নাড়ছি ঘাঁটছি এটাই  কর্ম, এরপর অন্তিমে কে কি  আড়ম্বর করলো, কে কত সখ্যতা দেখালো সবই নশ্বর, আপেক্ষিক। তখন আর তোমার কোনো কাজ নেই, তখন তোমার কোনো দায় নেই, তখন বোধহয় তোমার ক্লান্ত হওয়ার সময়, জিরোবার সময়। এখন, এই যে তুমি পাশে আছো, বারে বারে লড়াইয়ে জয়ী হচ্ছো অথচ তুমি নিশ্চিত জানো একদিন হারবেই, তবু লড়াই ছাড়ছো না এটাই প্রাপ্তি, এখানে কোনো শুন্যতা নেই, আফশোস নেই, বলন নেই, শুধুই নৈব্যক্তিকতা।

তবু মাঝে মাঝে বুঝতে ইচ্ছে হয় সত্যিই কি সব দৈন্যতা ঝরে গেছে মাটি থেকে, এখনও কোনো গাছ যদি ঋজু হয়ে দাঁড়ায়, জড়িয়ে ধরে বলে আয় তোর ছায়া হই, অনেকদিন রোদে পুড়ছিস, জলে ভিজছিস, তখনও কি , তখনও কি তামাটে রোদে রোদ ঝরবে না বৃষ্টি!
কি জানি? হয়তো বা ----

Friday, June 24, 2022

অবান্তর ১১২ জীবন

            জীবন


এমন একটা গোপন কান্না থাক
থাক একটা গোপন কোনো বুক
গোপন কাঁধ ভরসাদার সুখ
গোপন ব্যাথা তবু একটা থাক।

গোপন রেখা নাই বা প্রকাশ হল
তুমিও হও গহীন গভীর বন
আমিও হব স্রোতস্বীনি নদী
তটেই হোক হৃদয় উদযাপন।

Thursday, June 23, 2022

অবান্তর ১১১

 শ্রাবন কথা


     হৃদয় তো ধূসর
তুমি সবুজ দেখো বলেই সবুজ হয়।
ধূসর মাটি লাল কাঁকুরে তপস্বীনি,
তবু সিঁদুর রঙা বিকেল এলেই বিবাগী মন উদাসিনী।

নীলদরিয়ার সবুজ পানি বুকের মাঝে ঢেউ,
ধূসর মাটি জল ভাঙ্গছে সঙ্গে নেই তো কেউ।
সবুজ বনের ধূসর ছায়া মনের কালো মেঘ,
দেখা হলেই বর্ষা নামে উপচে পড়া আবেগ।

ঢেউয়ে ভাসবো কুলে ভিড়বো পথ যে পথে হারাই,
শ্রাবন এলেই বর্ষা কেন এমনতর হয়?
মনের কোনে মেঘ জমেছে ঘরে থাকা দায়,
ঈশান কোন স্পষ্ট ভীষণ দুয়ার আঙ্গিনায়।
ধূসর জলের ঘূর্ণি এখন স্রোতের বেগে ধায়
সবুজ বন আঁকড়ে ধরে দূর্বাঘাসের ছায়।

কাঁকুরে জল নামছে ভীষণ নাবাল জমির গায়,
নিংসঙ্গ হাত কোল পেয়েছে মনের আঙ্গিনায়।

অবান্তর ১১০ শ্রাবন

    শ্রাবন


শ্রাবন নেমেছে, 
রোদমেঘলায় দেখা হল আমাদের।
প্রতীক্ষিত, অস্থির নয়।
এ যেন নিশ্চিত প্রতীক্ষা,
অবধারিত আসার।

বলেছিলে খুব ঝগড়া করতে চাও!
দেখা হওয়া খুব জরুরী।
বুঝলাম একান্ত করে সময় চাইছো, নিজেদের মত,
অনেকদিনের পর বদ্ধ শার্সিগুলো সবুজ পেতে চাইছে।

দেখার পরের গল্পটা ?
হৃদয় ঝরলো, মেঘ রোদেতে শ্রাবন হাসলো,
সব কথা শূন্য হল দশ আঙ্গুলে।
বাকি ঝগড়া ভাদ্রের রোদে জমা থাকলো।

আসলেই আজ শ্রাবন এল শেষ বিকেলে।

অবান্তর ১০৯ দূস্তর

        দূস্তর

তোমাকে না বললে জীবন থেকেই দূরে যাই ।
অথচ হ্যাঁ তে লোভ বাড়ে।
অস্ত্যর্থক আর নঞর্থকের ফাঁক কিছুতেই বোজে না।
মনকে বোঝানো বড় দায়।

                                        
                        অর্পিতা

Monday, June 13, 2022

অবান্তর ১০

 

               হলুদ হেমন্ত

এমন হেমন্ত আসেনি কোনোদিন
এমন হলুদ হেমন্ত।
এ তো বার্ধ্যকের ঝরা পাতা নয়, এ তো আগত যৌবন,
তবু হাতে হাত রাখা হয়নি কতদিন
অথবা কচি শিশিরের ঘ্রান মৃদুতা হারিয়েছে বহুকাল,
হলুদ ফুলেরা পাক ব্রীড়ায় ঠোঁট ফোলায় অজানা উত্তাপে
হয়তো বা আগত পৌষে সমস্ত উষ্ণতা শুষে নেবে উষ্ণতার জন্য, নয়তো ফাল্গুনে।
তবু হেমন্তের গুটি গুটি প্রস্থানের আগে ভীরু চোখে ইতিউতি চাওয়া প্রেমিকের প্রস্থানের মত,
স্বপ্নচিহ্ন রেখে যাবে আরো দুরতর হেমন্তের।

শুধু  তখনও কথা রাখার কথা থাকবে না কানে কানে,
কিংবা মনে মন জানে বলে কোনো কথা বাকি নেই আগত বসন্তে।
তাই এমনি চলে যাবে অনাগত অতিথির মত ঝোড়ো বাতাসের মত উড়ে উড়ে।
অথচ তখনো শালবন, লালমাটি তোমার হলুদ রঙ্গে রাঙ্গা বৌয়ের মত লজ্জাবতি,
কুসুমিকা তার সর্ব অঙ্গে রতির আরতি।
অথচ চোখে কোনো আশা নাই , মুখে নাই ভাষা
হৃদয়ের মুখ নাই, নাই ভালোবাসা।

তাতে কি সে প্রেম কমে?
যে প্রেম করেছে মোরে শীতের বৈরাগী।
খড়িওঠা পথে, ধুঁন্দুলের ছালে, নতুন গুড়ের আখনিতে মন বারে বারে ফেরে খঞ্জনী ধুলায়।
রসখড়ি ওঠা মন , কে করে যতন, অজয়ের কূলে, বৈরাগীনি সনে,
সারারাত আগুনে শরীরে ওমের পর শিশির রোদ কচি প্রেমে জাড় করে।
নতুন সে প্রেম সখি , আদুরে বেড়ালের মত ওম খুঁজে ফেরে, ঘোরে পায়ে পায়ে অচেতনে,সযতনে।

যতই ফেরাতে চাই, ততই জড়িয়ে ধরে  বারেবার, ক্ষনকাল মাত্র না ছাড়ে।
আধেক আমার প্রিয় আধেক তোমার যাতায়াত বারেবারে বেপথু করেছে আমায় ।
শীতের ওমের মত তাপ খুঁজি জানু ও জঙ্ঘায়,
স্বপ্নে কিংবা স্পর্শে হোক, সে তো একান্ত আমার,
প্রৌঢ় হেমন্তের তরে লেপ দিই মেলে শীতের উত্তাপে, বলি ভালোবাসো, ভালোবাসো,
             দীর্ঘ বাসো যারে ।

,

অবান্তর ১ যোনীসম্ভূতা

  

যোনীসম্ভূতা


ধর্ষন .......

যেন ভালোবাসার প্রতিশব্দ  ,

সিলমোহর পড়ছে  দুমদাম করে।

বেশ উপজীব্য খেলা।

কাল অথবা হয়তো আজকেও কোনো পিতা শিশুকে ভোলাতে ধর্ষন ধর্ষন খেলা খেলবে, 

তারপর হাতের কাজ সেরে এসে আর একবার খেলবে বলে সান্ত্বনা দিয়ে হাতের কাজ সারবে।

কিংবা কোনো নামধারী বিপরীত লিঙ্গ , চিপসে কামড় দিয়ে বলবে -

উঃ বোর হয়ে গেছি, চলো একটু ধর্ষন ধর্ষন খেলে নেওয়া যাক।


অবান্তর ১০৮ পুরুষ আমার কেউ নয়

পুরুষ আমার কেউ নয়


যে পুরুষকে ভালোবেসেছিলাম কৈশোর দিয়ে,
সে যখন দায়িত্বের কথা বলেছে,
তাকে ক্ষমা করেছি।

যে পুরুষকে বিবাহে জড়িয়েছি,
বুঝলাম সে শুধু এককোল ছাড়িয়ে আরেক কোলে এসেছে-
হলুদগন্ধী আঁচল খুঁজতে।

যে পুরুষকে হৃদয়ে বেঁধেছি,
সেও মনকোল খোঁজে।
আমি যখন মূর্ঝিত হই,
সেও তখন অস্তমিত হয়।  

Friday, June 10, 2022

অনুগল্প

           অনুগল্প


শেষ বিকেলে প্রেমিক পুরুষটি তার প্রেমিকার হাতে হাত রেখে বললো, তুমি তো আমার দায়িত্বের কথা জানো, আমি তো তোমাকে কিছুই দিতে পারবো না। মেয়েটি হাসলো।


নার্সিংহোমের এগারো নম্বর বেড, এক ষাটোর্ধ্ব  মহিলা বেডে বসে আছেন , সামনে তরুন ঝকঝকে স্মার্ট ডাক্তার খসখস করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ লিখে যাচ্ছেন দ্রুত। সঙ্গে শত ব্যস্ততায় উপস্থিত নার্সকে কিভাবে ক্যানসারের কেমোর ডোজ ঠিক করতে হবে তার প্রয়োজনীয় উপদেশাবলী দিচ্ছেন । নার্সটি একবার মিনমিন করে বলার চেষ্টা করলো, কেমো শুরুর সময় যদি তিনি একটু উপস্থিত থাকতেন। ডঃ ঘোষের এখন সময় নেই অন্য নার্সিংহোম থেকে সমানে ফোন আসছে তাই নার্সকে গুরুত্ব না দিয়ে রুগিনীকে চোখের  কোন দিয়ে একবার জরিপ করলেন, বৃদ্ধ হলেও একমাথা কোঁকড়া  চুল তার নজর এড়ালো না। এটি তার সেকেন্ড কেমোথেরাপি, অবজ্ঞার সুরে টাকা গুনতে গুনতে বললেন , জানেন তো আপনার এই কোঁকড়ানো চুল গুলো আর থাকবে না, সব ঝরে  গিয়ে ন্যাড়া হয়ে যাবেন।প্রথম ডোজে পড়েনি তবে সেকেন্ড ডোজের পর ঝরে যাবে।বলেই দ্রুততার সঙ্গে বললেন, সঙ্গে তো কাউকে দেখছি না, নামটা বলুন, লেখাপড়া জানেন তো না কি? 

ভদ্রমহিলা ক্লান্ত দৃষ্টিতে তাকালেন একবার, তারপর মৃদু হেসে ঋজুকন্ঠে বললেন ডঃ আরাত্রিকা মজুমদার, গাইনোকোলজিস্ট আ্যন্ড অবসষ্ট্রেটিক্স, স্পেশালিষ্ট ইন ইনফার্টিলিটি।

অবান্তর ১০৭ ফোনকল

            ফোনকল


অনেক দিন পর বৃষ্টি নেমেছে
বোশেখের গনগনে পুরুষ বৃষ্টি নয়, 
জৈষ্ঠের নারী বৃষ্টি।
সব কেমন লজ্জা পাচ্ছে দেখতে পাচ্ছো?
বহু প্রতীক্ষিত দেখা যেন
আদরে সোহাগে লজ্জায় জড়জড়
অথচ সুন্দর।

আজ পাহাড়টিলাটার মনেও কুয়াশা ফুটেছে
মেঘকুয়াশার ধোঁয়াশা সরিয়ে বৃষ্টিকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নিচ্ছে গায়, কামরাগে।
ভিজছে, সবাই ভিজছে,
প্রতীক্ষিত অবগাহন।

অনেক দিন পর একটা ফোন এল
কেমন আছোর বার্তা,
বহু প্রতীক্ষিত।

অনেক দিন পর বৃষ্টি নেমেছে .....

অবান্তর১০৬ শ্রাবন

         শ্রাবন


ঠোঁট থাকবে ঠোঁটের উপর
হাতে থাকবে হাত,
বন্ধু আবার দেখা হবে
আসছে শ্রাবন মাস।

চোখের উপর চোখ থাকবে
জল ঝরবে আঝোর,
সুখের দিনে আবার এক
দুখের বীজ রুই।

অঝোর ধারে শ্রাবন আবার
ভিজিয়ে দেবে গা,
স্পর্শ পাবো মাতাল প্রেমের,
ভিজিয়ে দুই পা।

শ্রাবন তুমি পুরুষ ভীষণ
এলোমেলো ঝড়,
বুকের ভিতর টুকরো মেঘের 
কান্না খোঁজো কই?

তোমায় ছুঁয়ে সুখ খুঁজি কি দুখের বীজ বুনি,
তবে এবার দেখা হবেই মনে মনে জানি।




অবান্তর ১০৫ স্বীকারোক্তি

       স্বীকারোক্তি


স্বীকার করতে দোষ নেই।
এখনও তুই হারিয়ে গেলে,
আমি এলোমেলো হই।

এত অভিমান  মেঘের কোলে ডুব দেয়।
যখন তুই হারিয়ে যাস,
আমিও  বানভাসী হই।

হাতড়াই না তোকে, নিজেকেও।
অথচ  হারিয়ে যাই,
আজও এলোমেলো হই ।

প্রলাপ, বিলাপ, আলাপ, কূতুহল
কোথায় যে যায় !
অথচ সবই নিজের মধ্যে রয়,
তবু যখন তুই লুকিয়ে যাস,
আজও যাযাবর হই।

Tuesday, May 24, 2022

অবান্তর ১০৪ প্রেম

     প্রেম


ক্ষনিকের পথ চলা শেষে,
যখন বিরহ এসে মেশে,
সব সত্য স্বপ্ন মনে হয়।
হাতে হাত রাখা,শব্দ অপচয়।
ছিল না প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কথা
নিংশর্তে আত্মসমর্পণ।
চোখে চোখে কিছু অবুঝ কথন
বলার চেয়ে না বলা অনুক্ষন,
নিরুচ্চারিত শব্দ যোজনায়
দুয়ে দুয়ে চার করে বুঝে নিতে হয়।
তাতে বুঝি বাকি থেকে যায়, কিছু পরিপাটি।

ভুল বোঝার হালখাতা সেরে
সময় গড়িয়ে চলে। 
যেটুকু এলিয়ে পড়ে আছে
সে তো অচেতন, 
সেটুকুই মন, ভাঙ্গাকোন।

ফিরে যেতে যেতে বলি,
বাকি রয়ে গেল কিছু টুকরো জীবন ।
না পাওয়া বাকিটা চির প্রেম,
বাকি সব চির পুরাতন।

Monday, May 9, 2022

অবান্তর ১০৩ অমিমাংসিত

   অমিমাংসিত

তুমি আমার কে? 
উত্তরে বলি ,
আসলেই সব নও , সবটা।
কিছু সম্পর্ক খুব কম দামী
তবু জানি খুঁটি স্তম্ভের মত তারাই ধরে থাকে মাটিতল।
ক্ষনিক হলে, এতদিনে ঝোড়ো হাওয়া উড়িয়ে নিতো কোনকালে
থেকে যাবে বলেই জাপটে ধরে আছড়ে মারে,
তারপর, ফিসফিসে অভিমানে বলে,
আমি তোমার কে?

অবান্তর১০২ চরাচর

       চরাচর


জ্বলন্ত বোশেখ , বৃষ্টি হাত,
শিরশিরে সকাল,
এত হন্তদন্ত ত্রস্ত ব্যস্ততায় ,
তবু,মাঝপথেই ফিরতে হয়
আসলে -
বুক ভিজলেও বৃষ্টিতে তোমায় আমায় ফিরতে হয়।
সব বৃষ্টিতে ভেজা যায় না,
সব বৃষ্টিতে ভেজা হয় না,
ঝকঝকে তারাদের গা থেকে জল ঝরে,
তবু ভেজা হয়না বহুকাল।

শ্যাওলা জমতে জমতে ,
পিছল গায়ে জল ধরে না,
ঘেঁটু ফুলের বাস ওড়ে না,
কুঁড়চি লতায় ফুল ঝরে না,
না এর রাজ্যে হ্যাঁ বসে না,
তবু ,কোথাও যেন বৃষ্টি ঝরে বৃষ্টি পড়ে
বারো মাস তিরিশকাল।

Saturday, May 7, 2022

অবান্তর ১০০ সময়

               সময়

বন্ধ দরজার চাবি হন্যে হয়ে খুঁজছি,
আসলে সে তো ভেতর থেকেই বন্ধ। 

বারে বারে ধাক্কা খাচ্ছি বলেই, 
অন্ধকারকে দোষারোপ করি।
আসল সত্য, কোনো হাত কেউ বাড়ায়নি।

অঝোর ধারায় ঝরছি বলেই-
ঝরনা বইয়ে যাবে,
এমন ভালোবাসা, থাক।

সামাল দিতে দিতে সমুদ্র পার ,
তারপরের হাত 
আপেক্ষিক , অদরকারী।

একা হতে হতে বিস্তৃত,
তারপর অন্তিমে চলা।
তখন সবই কৌতুক, চরাচর।

অথচ ,
এই ভালোবাসার জন্যই উচ্ছন্নে যেতেচেয়েছিলাম,
এখন পথই আমার ঘর।

Tuesday, May 3, 2022

অবান্তর ১০১ দূরত্ব

       দূরত্ব



দুরত্বের একটা নিশ্চুপ গন্ধ থাকে।
তুমি আছো অথচ নেই,কিংবা আছো,
অথচ অস্বীকার করছো জনসমক্ষে।
কি আশ্চর্য !
তবু আমার দুঃখগুলো আগের মত আর ঝর্না হচ্ছে না
জলের সঙ্গে ঝর্নার দূরত্ব বাড়তে বাড়তে খরজমি।
দূরত্বের ফাটলে হাত বাড়ালে হাত লম্বা হতে হতে বেনাগাল।
অনুগতর জার্সি পরে যখন দাঁড়ালে 
তখনও ঘরে ফেরার আনন্দ হচ্ছে না বুকের ভেতর,
দ্রিমিদ্রিমি শব্দেরা সব উধাও আজ।

সবই কেমন নিটোল, নিভাঁজ, সাজানো, পরিপাটি, তবু  বোশেখ শূন্যতা।
যেন আগে যেমন কোথাও ছিল না, এখনো নেই।
শুনছি সবই!
তবু, গরম লু এর মত  ঝাপটা মারছে না, 
অ- সুখ

প্রান পুড়ছে না, শরীর গলছে না।
সব ঝর্না কি আসলেই একসঙ্গে শুকিয়ে মস্তিষ্ক হয়ে যায়?
এত এত প্রশ্ন!
তবু কেমন নির্লিপ্ত ধারাবাহিকতা।
যেন ছিল তাই আছো , না থাকলেও থাকবে।

Monday, April 11, 2022

অবান্তর ৯৯ সরল প্রশ্ন

        সরল প্রশ্ন


একটা অতীব সরল প্রশ্ন রাখি তোমার কাছে -
আমার দেহে যদি তোমার মাথা থাকতো
আর তোমার দেহে আমার ,
তাহলে সত্যি বল, তুমি কাকে ভালোবাসতে?
আমার হাত যদি তোমার হোত
আর তোমার হৃদয় আমার,
তখনো কি অবহেলার দিকশূন্যপূরে ঐ পাঁচআঙ্গুল অযত্নে কোলে পড়ে থাকতো?

তোমার ব্যস্ততাগুলো সব যদি চুরি করে 
অকেজো করে দিতাম
তাহলেও‌ কি ধড়হীন মুন্ডকে
অথবা মুন্ডহীন ধড়কে এমন করে ভালোবাসতে পারতে?


Friday, April 1, 2022

অবান্তর ৯৮ হৃদয় কাব্য

        হৃদয় কাব্য
       অর্পিতা চৌধুরী


যতই বোঝাতে চাই
ততই ঝরতে থাকো
চলে যাবো বললেই কি চলে যাওয়া যায়?


হয়তো তুমি সুদূর সাইবেরিয়া থেকে এসেছো-
সমস্ত ভয় উপেক্ষা করে।
অথচ, এসে দেখলে হৃদয়ে ঝুলছে তালা
কেমন হয় বল?


শত কর্মের ভীড়ে মিশে থাকো
অথচ চোখ বুজলেই
হাজির হও, মুচকি হেসে।
স্বার্থপর!


যে চোখে চোখ রাখলে
হৃদয় দেখতে পাই,
সে তো ভালোবাসা নয়,
নিশ্চিত মরন।


একটা প্রস্তাব দিতে চাই।
আমার মনটা তোমাকে দিলে ,
তুমি কি হৃদয়টা দেবে?


সমস্ত সংসার দেখছে বলেই
আমরা দেখিনা কিছু।
শুধু বলি-
তফাৎ যাও, তফাৎ যাও।


আমাদের দায়িত্ব এতটাই গভীর
যে-
দায়িত্বকেই ভালোবেসে ফেলেছি।


শুধু  শুনবো বলেই
উত্তর দিই না।
অথচ তুমি শুধু,
চেয়েই থাকো, চেয়েই থাকো।



Wednesday, March 23, 2022

অবান্তর ৯৭ আগুন ফাগুন

              আগুন ফাগুন


চলছে এখন রক্ত ফাগের খেলা

রক্ত আমায় মাতাল রঙিন করেছে।

আবির এখন মন মাতায় না আর

রক্তে লাশে হৃদয়ে দেয় দোলা

আগুন পলাশ ঢালছে ভীষণ রাগ

বসন্তে আজ চৈত্র দাহন জ্বলে

মন মেতেছে মন রেঙেছে আজ

খুনখারাবি আগুন রঙা ত্রাসে  ।

Thursday, March 10, 2022

অবান্তর ৯৬ , সীমান্ত প্রেম

       সীমান্ত প্রেম



সূর্য ধরতে চেয়েছি বলেই তোকে ভালোবাসি

না হলে হাত পুড়িয়ে আগুন ভালোবাসতাম

হাত পোড়াতে চাইনি বলেই বুক পেতেছি

অনন্ত প্রেম বুকের ভেতর বাঁধলাম।


তারকাঁটারই অন্তে দুই দেশ

হৃদয় যদি পাখির ডানা মেলতো

ভাগাভাগির হিসেবনিকেশ শেষ

স্বপ্নেরা সব উড়াল ডানায় মিলতো।


পাখির কোথাও দেশবিদেশ নেই তো,

পরিযায়ীর ঘরের বিড়ম্বনা

স্বপ্নগুলো তাঁরকাটাতে আছড়ায়

শব্দ ভীষন ক্রমশ অচেনা।


সমস্ত নীল শোধ করেছি শূন্যে

গরলখানি আমারই নয় হোক

ভালো থেকোর কাব্য গাথা থাক

দুই সীমান্তে ভালোবাসার  দেশ।



Friday, March 4, 2022

অবান্তর ৯৫ যুদ্ধকথা

 


             ১

যুদ্ধ তো শেষ কথা নয়,

শরনের ত্রানে এসো শরনার্থী হই।

সব দীপ নিভে গেলে

যদি শুধু মোমবাতি থাকে

তোমার হৃদয়ে শরনার্থী হই।


      ২

রাত বাড়ছে

বাঙ্কারে নিভু নিভু আলো

বাইরে বিপদ সংকেত মৃত্যুকে কড়া নাড়ে।

তবু, জীবনকে আঁকড়ে ধরে আমি 

ঠোঁটে ঠোঁট রাখি।

মৃত্যুকে মনে হয় সুধা,

জীবনের তরে।



         ৩

শিশুটির চোখে জল

আঁকড়ে আছে হাত

যুদ্ধে যাচ্ছে বাবা।

যুদ্ধ কি? শিশু জানে না।

শুধু জানে -

এরপর বাবা ধীরে ধীরে মুছে যাবে,

সত্যি যুদ্ধ শুরু হবে এইবার,

জীবনযুদ্ধ।



Wednesday, February 16, 2022

অবান্তর ৯৪ কৌতূহল

     কৌতূহল 

           ১

তুমি কে?

 জানতে গিয়েই প্রেমে পড়লাম।

তুমি  কি ? জানতে চেয়েই প্রেমে পড়লাম।

তুমি কি চাও?

শুধুমাত্র এই কৌতূহলে প্রেমে পড়লাম।

তোমার পূর্বপুরুষের সাথে  আমার  উত্তরপুরুষের কখনো দেখা হবে না।

আমার তোমার সঙ্গে কোনো নিভৃত আলাপচারিতা নেই,

তবু সম্পর্ক জানতে চেয়েই প্রেমে পড়লাম।



            কৌতূহল 

                 ২

অসময়ী বৃষ্টিতে মধুকরঞ্জায় রক্ত জমেছে।

শীত লেপনীতে এখন ওদের মতি নেই।

এবার ওরা খেলতে নামবে পলাশতলীতে।

ওদের দেখে বসন্ত প্রেমিকেরা জুটবে ।

কথা হবে না, অনন্ত প্রশ্নে চোখাচোখি কৌতূহল,

মুখে সৌজন্য নেই, যেন রেষারেষি।

তবু অদ্ভুত চোরা টানে ,

রোজ পলাশতলীতে তারা একে অপরের জন্য অপেক্ষা করবে ,

বিশ্রাম নেবে কুসুমবনীতে,

মধুকরঞ্জায় শিশিরগন্ধী  অভিমান জমছে।



Sunday, February 13, 2022

অবান্তর ৯৩ চর্বিতচর্বন

    চর্বিতচর্বন



প্রেম অনন্ত নয় মানি

মাথার ভিতর আত্মঘাতী শব্দেরা আনাগোনা করে

জিভের উপর সুড়সুড়ি দেয়

এক্কাদোক্কা খেলে।

উদবমনের ভয়ে চেপে ধরি ,

বাবা বাছা করে।

জানি -

সূর্য পেলেই তৈরী হবে আরো এক তালিবানী নিঃসঙ্গ শহর,

কালাশনিকভ আর হৃদয়ের ফাঁকে , 

বেড়াজাল কালো কালো মানুষের ছায়া,

ছায়া হয়ে রয়ে যাবে,

হৃদয়ে অনন্ত প্রেম নিয়ে ।

জিরজিরে কেঠো মানুষের দল চলে নীলকন্ঠ খোঁজে

তারপর, চুলে পাক মেখে

নিঃসঙ্গ হৃদয় ফেরে ভাঙ্গা ফুট ধরে ধীরে ধীরে।


Thursday, February 10, 2022

অবান্তর ৯২ রং বেরং

     রং বেরং



আবার এক বসন্ত

 ধু ধু হেমন্তের মাঠে তবু বেনো জল

যখন তখন বৃষ্টি ঝরছে অবেলার।

কোনো বন্ধন নেই,

শুধু তাড়া, 

ফেরার।


নির্জনতার মধ্যে থাকা,

 চুপ করে দেখা,

এও এক ভালোবাসা।

সঙ্গোপনে নিরন্তর খোঁজ,

অন্ধকারের ভালোবাসা।


রাত্রির অন্ধকারে সবুজ নিওনের জীবনচরিত,

নিভৃত স্মৃতিচারন, স্মৃতি  যেন জানতে না পারে এমন ভরসায় ,হাত তালুতে মাথা রাখে।


জানে এতদিনে, প্রেম অনন্ত নয়

 কাটাকুটি খেলা,

অবশেষে যে পড়ে রয়, সেই জয়ী।

পরাজিতের হার নেই,

তাই শুধু ভালোবেসে যাওয়া।

রাঢ় ভূম ধুলো জমে

প্রেম মালভূমি হয়,

পলাশ গড়িয়ে পড়ে ঢাল গাত্রে ।

নিস্তব্ধ নির্জন ভালোবাসা।


টুপটুপ করে তুলে নেয় 

জীবন পুরুষ সন্তর্পনে, আঁজলা করে যেন

কুবেরের ধন, সঞ্চিত সম্পদ।

একটু একটু করে জীবন রাঙ্গাবে তার

পলাশী ভুবন, স্মৃতিকোন।


 এখানে কোনো খেদ নেই, খাদ নেই

কৃষ্ণচূড়ার লাল পলাশ আগুন ছড়িয়েছে রাধাচূড়ায়,

তবু বসন্ত থমকে দাঁড়িয়ে আছে নির্জন চাহনিতে, অস্থিরতায়।

এও এক বসন্ত-

এও এক দ্বন্দ্ব-

এও এক ভালোবাসা ।


Sunday, January 23, 2022

গল্পস্বল্প , নিরামিষেনী

 নিরামিষেনী

অর্পিতা চৌধুরী

 ফুলি বাগদি  মেয়ে হলে কি হবে ,চার ভাইয়ের কোলে এক বোন বলে বড় আদরের। চার ছেলের পর মা মনসার কাছে মানত করে পাওয়া ফুলি, বাপ রামদুলালের জান অন্ত প্রান। পুরো নাম ফুলকুমারী বাগদি, তবে মা মনসার দয়ায় ফুলি বড়ই সুন্দরী, বিশেষত বাগদি সমাজে।কটা কটা ডাগর চোখ, একমাথা চুল, ফরসা রঙ, পাড়ার মেয়ে বৌরা বলে, মা মনসা আঁইছে গো। এ নিয়ে মা রামী বাগদিনীর বেশ চাপা গর্ব আছে। দাদাদের আদর আর বাপের প্রশ্রয়ে ফুলি বেশ জেদী আর রাগী। বাড়ন্ত সাত মুখের সংসারেও ফুলি মোটামুটি যা চায় তাই পায় আর যেটা না পায় তা নিয়ে মাথা কুটে মরে সারাদিন, বাপে আদর করে বলে,' মা আমার মা মনসা গো, রাইগলে যাচাই নাই'। সবচেয়ে সমস্যা বাড়ে যেদিন ঘরে মাছ মাংস না জোটে, নিরামিষ ফুলির দুচক্ষের বিষ, গেঁড়ি গুগলি হলেও তার পাতে চায়, না হলে সেদিন সত্যিই সে মনসা হয়ে ওঠে।


এ হেন ফুলি ধীরে ধীরে কৈশোরে পা দেয় আর ফুলি থেকে ফুলকুমারী হয়ে ওঠে। এক ক্রোশ দুরে স্কুল হওয়ায় অ আ তেই ফুলির লেখাপড়ার সমাপ্তি ঘটে, এদিকে গাঁ ঘরে চন্দ্রকলা বড় হলে পাড়ার লোকের নজর বাড়ে আর বাপ মায়ের দুশ্চিন্তা। রামী তাকে চোখে চোখে রাখে, দিনকাল ভালো না, গাঁয়ের ছেলেদের নজরে পড়তে কতক্ষন , তাই আজকাল ফুলিকে সে ছাগল চরাতেও একা একা শালবনে ছাড়ে না, কিংবা কিছুক্ষন না দেখতে পেলেই  ছেলেদের পাঠায়। মেয়ের রূপের দিকে তাকিয়ে  সে রাতের বেলায় ভয় পায়। ১৪ পার পার ফুলির একঢাল চুল, কটা চোখ,গোরা রঙ, দীঘল বরন ,  মনে মনে মা মনসা কে স্মরন করে সে বলে 'রইকখে কর মা' , ফুলি তখন হয়তো চুনোমাছের বাটি চাঁছছে একমনে। 


রাতের বেলা ক্লান্ত রামদুলালকে চুপিচুপি রামী মনের কথা পাড়ে, ' ইবার তো ছেল্যা দেইখতে হবেক' ? রামদুলালও যে ভাবেনি তা নয়  তবে এখন সে বলে, ' হবে খন '। আসলে  আদরের ফুলিকে গাঁ ঘরে বিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে নেই তার, তাই সময় পার করে। এদিকে মনসা পুজোতে ফুলিকে দেখে পছন্দ হয়ে যায় ছেলের মেসোর। সম্বন্ধ পাতায় রামদুলালের সাথে, শহরের ছেলে, রঙ মিস্ত্রির কাজ করে, যদিও ঘরে নয় নয় করে অনেকগুলো সদস্য তবে বাগদি ঘরে যত লোক, তত বল। আর ঘর ছাড়াও আরো একটু জমি আছে চাইলে আলাদা ঘর করে থাকতে পারে।


পনেরো পা দিতেই বাপের আদরের ফুলি শহরে এল বড় বৌ হয়ে।  দশজনের সংসার আর শহরের নিম্নবিত্তের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম কানুন বুঝতে বুঝতেই সংসার অনভিজ্ঞ ফুলির মাস ছয়েক কেটে গেল। আগে রাগ করলে বাপ- দাদায় চুনো পুঁটি হলেও ধরে আনতো এখন খাবার দিতে দিতেই অভাবের সংসারে শেষে তার ঝোল ছাড়া কিছুই জোটে না, কিছুক্ষন নাড়াচাড়া করে উঠে পড়ে সে। শাশুড়ি আর ননদেরা মুখ বাঁকিয়ে বলে 'বড়লোকের বিটি'। শুধুমাত্র পরম যখন রাতে দিশী খেয়ে ফেরে আর  লুকিয়ে কাঁকালে গুঁজে শালপাতায়  কাঠিতে মুড়ে কুঁকড়ার ছাঁট নিয়ে আসে, তারপর রাতে সবাই ঘুমোলে তার সামনে ধরে বলে ' খাঁইয়ে লে' সে দিনটায় পরমের ঝাঁঝালো দিশীর গন্ধ ভুরভুর বুকের ভেতর লেপ্টে আয়েশ করে ঘুমোয় ফুলি। 


সংসারযাত্রার নিয়ম-কানুন বুঝতে না বুঝতেই কখন যে এক নতুন জীবন তার শরীরে বাঁসা বাঁধে টের পায় না ফুলি।এখন তার শরীর জুড়ে ক্লান্তি, টগবগে ওঠা ফ্যানের গন্ধে বমি আসে, মাছেও যেন আঁশটে গন্ধ ।শুধু ,মাংসের দুর্ণিবার টান যেন ভিতর থেকে আছাড়ি  পিছাড়ি করে। শাশুড়ি গাল দেয় তবু ফুলির মাংস ছাড়া রুচি হয় না, প্রথম প্রথম পরম ও বাপ হওয়ার আনন্দে লুকিয়ে চুরিয়ে ফুলিকে খাওয়ায়, তবে প্রথম আবেগ কেটে গেলে আর নারী শরীর বিহীন দিন কাটাতে কাটাতে সেও কেমন যেন নিস্পৃহ হয়ে আসে। বৌ এর থেকে মদেই জীবন খুঁজে নেয়। নারী মাংস আর প্রানী মাংস আজ সমার্থক।  শত প্রলোভনেও সাবধানী ফুলি এখন দূরে থাকে পরমের থেকে । 

অবশেষে মা হয়েছে ফুলি, অর্ধাহারে এক অপুষ্ট শিশুর জন্ম দিয়েছে সে। শাশুড়ি মাথায় করাঘাত করে  আর বলে, সব কপালের দোষ, সব মাংস খাওয়ার দোষ । দুমুখে শাপশাপান্ত বাপবাপান্ত করে আর গোলাঘর থেকে মেগে আনা সরষের তেল মাখায় নাতিকে। পরমের মুখ ভার, ছেলে হওয়ার পর থেকে ভাটিতে আনাগোনা আরো বেড়েছে, এদিকে ভাত ভটকায় আর নির্জীব দৃষ্টিতে ফুলি কাঁচা কাঠের জালন গুঁজতে থাকে উনুনে, বোধহয় কাঁচা কাঠের ধোঁয়ায় ফুলির চোখে জল ঝরে।


পাড়ার আটচালায় আজ দুদিন ধরে হরিনাম চলছে। দুদিন ধরে বৈষ্ণব বৈষ্ণবীদের রান্নার জোগাড়ের কাজ করছে ফুলি। দুপুরে কাজ শেষে যখন খেতে বসেছে হঠাৎ বড় বৈষ্ণবী কোথা থেকে এসে এক চামচ গাওয়া ঘি পাতে ফেলে বলে, খাও মা , নইলে গায়ে গত্তি লাগবে কেন। এতদিন বহু লাঞ্ছনায় যে জল ঝরেনি আজ যেন টোকা পড়তেই উষ্ণ প্রসবন বিগলিত হয়। ভাত আর চোখের জল মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।কার যে কি স্বাদ! বেদনা খুঁড়লেই যে দুঃখ ঝরে তা বোধহয় ফুলি ভুলেই গিয়েছিল।


কদিন বৌ কে কাছে না পেয়ে পরম গলা পর্যন্ত মদ গিলে এসেছে কিন্তু  মনে করে শালপাতার ডোঙলায়  ভুঁড়ি চটপটি এনেছে ফুলির জন্য। আজ তার ফুলিকে চায়।ফুলির কাছে পৌঁছতে হলে তার দুর্বলতা সে জানে। মাংসের স্বাদ আর নারীর স্বাদ দুইই বড় প্রবল। রাত বাড়ে, পরমের অস্থিরতা বাড়ে, অথচ ফুলি আসে না, কোলের ছেলে কোলে থাকে। বিরক্ত, নেশাখোর পরম একসময় ঘুমিয়ে পড়ে। মাংসের চটপটি পাশে পড়ে থাকে, খুপরি ঘরের নিঃশ্বাসে উড়ে ধেনো গন্ধ। ভোর হয়ে আসে , ঘুম চোখে একবার শালপাতা দেখে ফুলি, তারপর পরমের ছেঁড়া বালিশের তলায় মুচকি হেসে চটপটির খালা গুঁজে দেয় ফুলি।


সদ্য স্নাত চুল থেকে জল ঝরে ফুলির। মুখে তার প্রশান্তির আভা। আধভাঙ্গা চোকলা ছাড়া গুটি বসন্তের দাগে ভরা আয়নাটার কোন ধরে যেটুকু দেখা যায় সেটুকু দেখেই যত্নে রসতিলক কাটে সে। পরনে আজ তার ধবধবে কাচা সাদা শাড়ি সাপটা দিয়ে পরা, গলায় তুলসী কাঠির মালা। সদ্যথ্থিত বিস্মিত পরমের সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায় সে। সবে  জাগরন গান শুরু হয়েছে আটচালায়, ভেসে আসছে তারই সুর, রাই জাগো গো, জাগো শ্যামের মনমোহিনী বিনোদিনী রাই। 

সূর্যের ঘুম ভাঙ্গছে। 





সুবিধার্থে

কাঁকাল : কোমর

কুঁকড়া : মুরগী

ভটকায় : টগবগ করে ফোটে







Saturday, January 22, 2022

অবান্তর ৯১ বেঁচে ওঠা

         বেঁচে ওঠা



কথা হয়না, দেখা হয় না,

 কাজে ব্যস্ত রাখি নিজেদের,

বাড়ি থেকে বেরোই না  অতিমারির ভরসায়,

এমনকি অসুস্থ হলে খোঁজ নিই না।

আসলেই  খুব ভালোবাসি ,

তাই খোঁজ অবশ্যম্ভাবী নয়।

মরে যাওয়া সহজ  নয়

অনেক ক্লান্তি জমলে বোধ মরে,

তারপরে মানুষ,


মৃত্যু হলে-

স্মৃতিচেতনায় আবার জীবন্ত হয় ,

বহুদিন পর বিস্মৃত মানুষ আবার জেগে ওঠে

স্মৃতিচারনায়।

 যে মানুষ মৃত ছিল এতদিন,

খোঁজ করা হয়নি বহুকাল,

মৃত্যুর পরে জেগে ওঠে হঠাৎ।

 কত ভালোবাসা ছিল নশ্বর জীবনে, অথবা কত উপকারী,

 সব মনে পড়ে একে একে।


এও তো বাঁচা

জীবন জুড়ে যত্ন, ভালোবাসা সব ঝরে গেলে

মৃতপ্রায় মানুষের দল 

বেঁচে ওঠে মৃত্যু প্রতীক্ষায়।



Monday, January 17, 2022

অবান্তর ৯০ তীর্যকতা

                 তীর্যকতা



কত তীর্যক লিপিমালা গেঁথে নিয়ে লিখতে বসি,

মনে  সারাদিনের শব্দ আনাগোনা

ধরতে গেলে পালিয়ে যায়, পালিয়ে যাওয়া ঘিরে ধরে।

যখনই নালিশ মালা খুলে বসি,

কত কত জড়তা, চোখের সামনে ভিড় করে,

কোন শব্দ সাজালে জুৎসই হবে -

ভাবতে ভাবতে ভুলে যাই,

আসলে ঠিক কি লিখতে চেয়েছিলাম।


কলম খুললেই সব কেমন উবে যেতে চায়,

শব্দ হয়ে যায় শূন্য,

মন হয়ে যায় নরম।

দেরী করে আসা শব্দগুলোকেই ভালোবাসতে ইচ্ছে করে।


লিখতে চাইলেই ঝাঁঝ কমে গিয়ে,

সব কেমন মোলায়েম হয়ে যায়।

নিজেকেই ভালোবাসতে ইচ্ছে করে,

নরম ঠোঁটের মত।


অবান্তর ৮৯ অনন্য অনুভূতি

   অনন্য  অনুভূতি



ফি রোববার বেড়ে যাওয়া অনুভুতিগুলো নখ কাটার মত সাইজ করে ছেঁটে ফেলবো,

নিয়ম করে আগাছা ছাঁটবো প্রতি রোববার।

তারপর সুন্দর রঙচঙ করে শোপিসের মত সাজিয়ে রাখবো।

নিজে না পারি -

পার্লারে যাবো, সেলফি তুলবো।


বাইরের উঠোনে পিঁড়ি পেতে,হাত পা মেলে। কাঠের উনুনে রগরগে আগুনে ফোটা লাল মাংসের সুবাস ছড়াবে চারদিকে,

পেটের ধুনি জ্বলবে ধিকধিক,

তাজা ফ্যানের গন্ধ ছড়াবে


সদ্য কাটা অনুভূতি গুলি  ঘষেমেজে, আরেকবার ভোঁতা করে নিয়ে ,

কলতলার দিকে এগিয়ে যাবো।


Tuesday, January 11, 2022

অবান্তর ৮৮ এমন যদি হোত

    এমন যদি হোত




অনেক কিছু ইচ্ছে করে,

ঠিক যেমন করে সেদিন করতো,

বৃষ্টি ঝরছে , ঠিক এমনি করেই ,

একটাই বর্ষাতি, অথচ  একা ছাড়বে না,

কাটা মুন্ড হাত পা খোলার মত বর্ষাতিটা ভাগ করে নিয়েছি, আর বৃষ্টিটাও।

তারপর কখনো বা বৃষ্টি এসে ছুঁয়ে যাচ্ছে ,

পাহাড় থেকে নদীকে, নদী থেকে পাহাড়ে

আষাঢ়স্য প্রথম ঝরনের কালে, অপাংক্তেয় শাল ফুলে সাজিয়ে দিয়েছো খোড়ো ছাউনি,

লজ্জা পাচ্ছে কালিদাস,

পর্দা টাঙিয়েছে  অঝোর বৃষ্টি,

ঠোঁটেও নেমে আসছে বৃষ্টির ছাঁট।


ঠিক সেই সময়,ঝোড়ো কাকের দল ঢুকলো খোড়ো চালায়, 

জোড় শালিকের বেজায় বিরক্তি।

আবার, আবার ছুটে চলা, কখনো একটু ছুঁয়ে, কখনো অঝোর ভিজে।

একজনের গন্তব্য সামনে , আর একজনের দুর, অথচ সবই যেন অবান্তর,

শুধু  ছুটে চলাটাই স্থির ।


সেদিনটা আবার খুব  ছুঁতে ইচ্ছে করছে -

সেই ফ্যাকাসে হাত, ভেজা চোখ, নীরব কথা, অঝোর বোবা বৃষ্টি,

আর  একটা অস্পষ্ট একগুঁয়ে মানুষ।


সমস্ত বিরহকে জয় করেই মিলনেরা জয়ী হয় ঠিক বিরহী অশ্রুর মত।

আবার বৃষ্টি নেমেছে রাতভোর বৃষ্টি,

সব ধুয়ে মুছে নিকোনো উঠোন , 

অথচ ,স্মৃতিরা ঝুল কালি মেখে দাঁড়িয়ে আছে।

ওদের বৃষ্টি লাগে না, ওদের বৃষ্টি হয় না,

কাঠফাটা রোদ্দুরেই ওদের বাস।



আবার বৃষ্টি নামছে, মন কেমনের বৃষ্টি।



Monday, January 10, 2022

অবান্তর ৮৮ ভবিষ্যত

       ভবিষ্যত



আমরা একসাথেই বুড়ো হব

একসাথেই জীর্ন হবে আমাদের সমস্ত মনস্তাপ

এক জীবন ভালোবাসা যে হাতে সাজিয়েছিলে

আর এক সমুদ্র পিপাসা যে আঁচল থেকে চেয়ে নিয়েছিলে,

কখন যে খসে খসে ঝরে ঝরে পড়বে,

 বাড়ি ফিরবো, অথচ  তারা  পৌঁছবে না।

আমরা জানবো না একে অপরের খবর,

তবু খবর খুঁজে চলবো পাতায় পাতায়,

ইজিচেয়ারের কোলে শুয়ে বুঝবো,

সত্বা আছে তাই স্মৃতি আছে,

ভালোবাসা থাকলে মরে যেত।