Thursday, December 29, 2022
অবান্তর ১২৫ আদুরে গীতি
Sunday, December 25, 2022
অবান্তর ১২৫ এমনই তো হবার ছিল
Saturday, December 24, 2022
অবান্তর ১২৩ আধকপালে হৃদয়
অবান্তর ১২৪ কিছুই পারিনা
Thursday, November 24, 2022
অবান্তর ১২১ অবনীতির নীতি
Saturday, November 12, 2022
অবান্তর ১২২ হৈমন্তী
Wednesday, October 19, 2022
অবান্তর ১২১ অর্ধ মনের গল্প
Monday, October 10, 2022
অবান্তর ১২০ ক্ষয়
অবান্তর ১১৯ দ্রোহকাল
Monday, September 19, 2022
অবান্তর ১১৮ অনুমতিহীন বিচ্ছেদ
Wednesday, September 7, 2022
অবান্তর ১১৭ উড়ো খাম
Saturday, August 13, 2022
অবান্তর১১৬ না পাঠানো চিঠি
Saturday, August 6, 2022
অবান্তর ১১৫
Saturday, July 16, 2022
অনুগল্প। দাম্পত্য ১,২
অবান্তর ১১৪ রাধা
Monday, July 11, 2022
অবান্তর ১১৩ প্রবাহ
Saturday, July 9, 2022
কথন
Friday, June 24, 2022
অবান্তর ১১২ জীবন
Thursday, June 23, 2022
অবান্তর ১১১
অবান্তর ১১০ শ্রাবন
অবান্তর ১০৯ দূস্তর
Monday, June 13, 2022
অবান্তর ১০
হলুদ হেমন্ত
এমন হেমন্ত আসেনি কোনোদিন
এমন হলুদ হেমন্ত।
এ তো বার্ধ্যকের ঝরা পাতা নয়, এ তো আগত যৌবন,
তবু হাতে হাত রাখা হয়নি কতদিন
অথবা কচি শিশিরের ঘ্রান মৃদুতা হারিয়েছে বহুকাল,
হলুদ ফুলেরা পাক ব্রীড়ায় ঠোঁট ফোলায় অজানা উত্তাপে
হয়তো বা আগত পৌষে সমস্ত উষ্ণতা শুষে নেবে উষ্ণতার জন্য, নয়তো ফাল্গুনে।
তবু হেমন্তের গুটি গুটি প্রস্থানের আগে ভীরু চোখে ইতিউতি চাওয়া প্রেমিকের প্রস্থানের মত,
স্বপ্নচিহ্ন রেখে যাবে আরো দুরতর হেমন্তের।
শুধু তখনও কথা রাখার কথা থাকবে না কানে কানে,
কিংবা মনে মন জানে বলে কোনো কথা বাকি নেই আগত বসন্তে।
তাই এমনি চলে যাবে অনাগত অতিথির মত ঝোড়ো বাতাসের মত উড়ে উড়ে।
অথচ তখনো শালবন, লালমাটি তোমার হলুদ রঙ্গে রাঙ্গা বৌয়ের মত লজ্জাবতি,
কুসুমিকা তার সর্ব অঙ্গে রতির আরতি।
অথচ চোখে কোনো আশা নাই , মুখে নাই ভাষা
হৃদয়ের মুখ নাই, নাই ভালোবাসা।
তাতে কি সে প্রেম কমে?
যে প্রেম করেছে মোরে শীতের বৈরাগী।
খড়িওঠা পথে, ধুঁন্দুলের ছালে, নতুন গুড়ের আখনিতে মন বারে বারে ফেরে খঞ্জনী ধুলায়।
রসখড়ি ওঠা মন , কে করে যতন, অজয়ের কূলে, বৈরাগীনি সনে,
সারারাত আগুনে শরীরে ওমের পর শিশির রোদ কচি প্রেমে জাড় করে।
নতুন সে প্রেম সখি , আদুরে বেড়ালের মত ওম খুঁজে ফেরে, ঘোরে পায়ে পায়ে অচেতনে,সযতনে।
যতই ফেরাতে চাই, ততই জড়িয়ে ধরে বারেবার, ক্ষনকাল মাত্র না ছাড়ে।
আধেক আমার প্রিয় আধেক তোমার যাতায়াত বারেবারে বেপথু করেছে আমায় ।
শীতের ওমের মত তাপ খুঁজি জানু ও জঙ্ঘায়,
স্বপ্নে কিংবা স্পর্শে হোক, সে তো একান্ত আমার,
প্রৌঢ় হেমন্তের তরে লেপ দিই মেলে শীতের উত্তাপে, বলি ভালোবাসো, ভালোবাসো,
দীর্ঘ বাসো যারে ।
,
অবান্তর ১ যোনীসম্ভূতা
যোনীসম্ভূতা
ধর্ষন .......
যেন ভালোবাসার প্রতিশব্দ ,
সিলমোহর পড়ছে দুমদাম করে।
বেশ উপজীব্য খেলা।
কাল অথবা হয়তো আজকেও কোনো পিতা শিশুকে ভোলাতে ধর্ষন ধর্ষন খেলা খেলবে,
তারপর হাতের কাজ সেরে এসে আর একবার খেলবে বলে সান্ত্বনা দিয়ে হাতের কাজ সারবে।
কিংবা কোনো নামধারী বিপরীত লিঙ্গ , চিপসে কামড় দিয়ে বলবে -
উঃ বোর হয়ে গেছি, চলো একটু ধর্ষন ধর্ষন খেলে নেওয়া যাক।
অবান্তর ১০৮ পুরুষ আমার কেউ নয়
Friday, June 10, 2022
অনুগল্প
অবান্তর ১০৭ ফোনকল
অবান্তর১০৬ শ্রাবন
অবান্তর ১০৫ স্বীকারোক্তি
Tuesday, May 24, 2022
অবান্তর ১০৪ প্রেম
Monday, May 9, 2022
অবান্তর ১০৩ অমিমাংসিত
অবান্তর১০২ চরাচর
Saturday, May 7, 2022
অবান্তর ১০০ সময়
Tuesday, May 3, 2022
অবান্তর ১০১ দূরত্ব
Monday, April 11, 2022
অবান্তর ৯৯ সরল প্রশ্ন
Friday, April 1, 2022
অবান্তর ৯৮ হৃদয় কাব্য
Wednesday, March 23, 2022
অবান্তর ৯৭ আগুন ফাগুন
আগুন ফাগুন
চলছে এখন রক্ত ফাগের খেলা
রক্ত আমায় মাতাল রঙিন করেছে।
আবির এখন মন মাতায় না আর
রক্তে লাশে হৃদয়ে দেয় দোলা
আগুন পলাশ ঢালছে ভীষণ রাগ
বসন্তে আজ চৈত্র দাহন জ্বলে
মন মেতেছে মন রেঙেছে আজ
খুনখারাবি আগুন রঙা ত্রাসে ।
Thursday, March 10, 2022
অবান্তর ৯৬ , সীমান্ত প্রেম
সীমান্ত প্রেম
সূর্য ধরতে চেয়েছি বলেই তোকে ভালোবাসি
না হলে হাত পুড়িয়ে আগুন ভালোবাসতাম
হাত পোড়াতে চাইনি বলেই বুক পেতেছি
অনন্ত প্রেম বুকের ভেতর বাঁধলাম।
তারকাঁটারই অন্তে দুই দেশ
হৃদয় যদি পাখির ডানা মেলতো
ভাগাভাগির হিসেবনিকেশ শেষ
স্বপ্নেরা সব উড়াল ডানায় মিলতো।
পাখির কোথাও দেশবিদেশ নেই তো,
পরিযায়ীর ঘরের বিড়ম্বনা
স্বপ্নগুলো তাঁরকাটাতে আছড়ায়
শব্দ ভীষন ক্রমশ অচেনা।
সমস্ত নীল শোধ করেছি শূন্যে
গরলখানি আমারই নয় হোক
ভালো থেকোর কাব্য গাথা থাক
দুই সীমান্তে ভালোবাসার দেশ।
Friday, March 4, 2022
অবান্তর ৯৫ যুদ্ধকথা
১
যুদ্ধ তো শেষ কথা নয়,
শরনের ত্রানে এসো শরনার্থী হই।
সব দীপ নিভে গেলে
যদি শুধু মোমবাতি থাকে
তোমার হৃদয়ে শরনার্থী হই।
২
রাত বাড়ছে
বাঙ্কারে নিভু নিভু আলো
বাইরে বিপদ সংকেত মৃত্যুকে কড়া নাড়ে।
তবু, জীবনকে আঁকড়ে ধরে আমি
ঠোঁটে ঠোঁট রাখি।
মৃত্যুকে মনে হয় সুধা,
জীবনের তরে।
৩
শিশুটির চোখে জল
আঁকড়ে আছে হাত
যুদ্ধে যাচ্ছে বাবা।
যুদ্ধ কি? শিশু জানে না।
শুধু জানে -
এরপর বাবা ধীরে ধীরে মুছে যাবে,
সত্যি যুদ্ধ শুরু হবে এইবার,
জীবনযুদ্ধ।
Wednesday, February 16, 2022
অবান্তর ৯৪ কৌতূহল
কৌতূহল
১
তুমি কে?
জানতে গিয়েই প্রেমে পড়লাম।
তুমি কি ? জানতে চেয়েই প্রেমে পড়লাম।
তুমি কি চাও?
শুধুমাত্র এই কৌতূহলে প্রেমে পড়লাম।
তোমার পূর্বপুরুষের সাথে আমার উত্তরপুরুষের কখনো দেখা হবে না।
আমার তোমার সঙ্গে কোনো নিভৃত আলাপচারিতা নেই,
তবু সম্পর্ক জানতে চেয়েই প্রেমে পড়লাম।
কৌতূহল
২
অসময়ী বৃষ্টিতে মধুকরঞ্জায় রক্ত জমেছে।
শীত লেপনীতে এখন ওদের মতি নেই।
এবার ওরা খেলতে নামবে পলাশতলীতে।
ওদের দেখে বসন্ত প্রেমিকেরা জুটবে ।
কথা হবে না, অনন্ত প্রশ্নে চোখাচোখি কৌতূহল,
মুখে সৌজন্য নেই, যেন রেষারেষি।
তবু অদ্ভুত চোরা টানে ,
রোজ পলাশতলীতে তারা একে অপরের জন্য অপেক্ষা করবে ,
বিশ্রাম নেবে কুসুমবনীতে,
মধুকরঞ্জায় শিশিরগন্ধী অভিমান জমছে।
Sunday, February 13, 2022
অবান্তর ৯৩ চর্বিতচর্বন
চর্বিতচর্বন
প্রেম অনন্ত নয় মানি
মাথার ভিতর আত্মঘাতী শব্দেরা আনাগোনা করে
জিভের উপর সুড়সুড়ি দেয়
এক্কাদোক্কা খেলে।
উদবমনের ভয়ে চেপে ধরি ,
বাবা বাছা করে।
জানি -
সূর্য পেলেই তৈরী হবে আরো এক তালিবানী নিঃসঙ্গ শহর,
কালাশনিকভ আর হৃদয়ের ফাঁকে ,
বেড়াজাল কালো কালো মানুষের ছায়া,
ছায়া হয়ে রয়ে যাবে,
হৃদয়ে অনন্ত প্রেম নিয়ে ।
জিরজিরে কেঠো মানুষের দল চলে নীলকন্ঠ খোঁজে
তারপর, চুলে পাক মেখে
নিঃসঙ্গ হৃদয় ফেরে ভাঙ্গা ফুট ধরে ধীরে ধীরে।
Thursday, February 10, 2022
অবান্তর ৯২ রং বেরং
রং বেরং
আবার এক বসন্ত
ধু ধু হেমন্তের মাঠে তবু বেনো জল
যখন তখন বৃষ্টি ঝরছে অবেলার।
কোনো বন্ধন নেই,
শুধু তাড়া,
ফেরার।
নির্জনতার মধ্যে থাকা,
চুপ করে দেখা,
এও এক ভালোবাসা।
সঙ্গোপনে নিরন্তর খোঁজ,
অন্ধকারের ভালোবাসা।
রাত্রির অন্ধকারে সবুজ নিওনের জীবনচরিত,
নিভৃত স্মৃতিচারন, স্মৃতি যেন জানতে না পারে এমন ভরসায় ,হাত তালুতে মাথা রাখে।
জানে এতদিনে, প্রেম অনন্ত নয়
কাটাকুটি খেলা,
অবশেষে যে পড়ে রয়, সেই জয়ী।
পরাজিতের হার নেই,
তাই শুধু ভালোবেসে যাওয়া।
রাঢ় ভূম ধুলো জমে
প্রেম মালভূমি হয়,
পলাশ গড়িয়ে পড়ে ঢাল গাত্রে ।
নিস্তব্ধ নির্জন ভালোবাসা।
টুপটুপ করে তুলে নেয়
জীবন পুরুষ সন্তর্পনে, আঁজলা করে যেন
কুবেরের ধন, সঞ্চিত সম্পদ।
একটু একটু করে জীবন রাঙ্গাবে তার
পলাশী ভুবন, স্মৃতিকোন।
এখানে কোনো খেদ নেই, খাদ নেই
কৃষ্ণচূড়ার লাল পলাশ আগুন ছড়িয়েছে রাধাচূড়ায়,
তবু বসন্ত থমকে দাঁড়িয়ে আছে নির্জন চাহনিতে, অস্থিরতায়।
এও এক বসন্ত-
এও এক দ্বন্দ্ব-
এও এক ভালোবাসা ।
Sunday, January 23, 2022
গল্পস্বল্প , নিরামিষেনী
নিরামিষেনী
অর্পিতা চৌধুরী
ফুলি বাগদি মেয়ে হলে কি হবে ,চার ভাইয়ের কোলে এক বোন বলে বড় আদরের। চার ছেলের পর মা মনসার কাছে মানত করে পাওয়া ফুলি, বাপ রামদুলালের জান অন্ত প্রান। পুরো নাম ফুলকুমারী বাগদি, তবে মা মনসার দয়ায় ফুলি বড়ই সুন্দরী, বিশেষত বাগদি সমাজে।কটা কটা ডাগর চোখ, একমাথা চুল, ফরসা রঙ, পাড়ার মেয়ে বৌরা বলে, মা মনসা আঁইছে গো। এ নিয়ে মা রামী বাগদিনীর বেশ চাপা গর্ব আছে। দাদাদের আদর আর বাপের প্রশ্রয়ে ফুলি বেশ জেদী আর রাগী। বাড়ন্ত সাত মুখের সংসারেও ফুলি মোটামুটি যা চায় তাই পায় আর যেটা না পায় তা নিয়ে মাথা কুটে মরে সারাদিন, বাপে আদর করে বলে,' মা আমার মা মনসা গো, রাইগলে যাচাই নাই'। সবচেয়ে সমস্যা বাড়ে যেদিন ঘরে মাছ মাংস না জোটে, নিরামিষ ফুলির দুচক্ষের বিষ, গেঁড়ি গুগলি হলেও তার পাতে চায়, না হলে সেদিন সত্যিই সে মনসা হয়ে ওঠে।
এ হেন ফুলি ধীরে ধীরে কৈশোরে পা দেয় আর ফুলি থেকে ফুলকুমারী হয়ে ওঠে। এক ক্রোশ দুরে স্কুল হওয়ায় অ আ তেই ফুলির লেখাপড়ার সমাপ্তি ঘটে, এদিকে গাঁ ঘরে চন্দ্রকলা বড় হলে পাড়ার লোকের নজর বাড়ে আর বাপ মায়ের দুশ্চিন্তা। রামী তাকে চোখে চোখে রাখে, দিনকাল ভালো না, গাঁয়ের ছেলেদের নজরে পড়তে কতক্ষন , তাই আজকাল ফুলিকে সে ছাগল চরাতেও একা একা শালবনে ছাড়ে না, কিংবা কিছুক্ষন না দেখতে পেলেই ছেলেদের পাঠায়। মেয়ের রূপের দিকে তাকিয়ে সে রাতের বেলায় ভয় পায়। ১৪ পার পার ফুলির একঢাল চুল, কটা চোখ,গোরা রঙ, দীঘল বরন , মনে মনে মা মনসা কে স্মরন করে সে বলে 'রইকখে কর মা' , ফুলি তখন হয়তো চুনোমাছের বাটি চাঁছছে একমনে।
রাতের বেলা ক্লান্ত রামদুলালকে চুপিচুপি রামী মনের কথা পাড়ে, ' ইবার তো ছেল্যা দেইখতে হবেক' ? রামদুলালও যে ভাবেনি তা নয় তবে এখন সে বলে, ' হবে খন '। আসলে আদরের ফুলিকে গাঁ ঘরে বিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে নেই তার, তাই সময় পার করে। এদিকে মনসা পুজোতে ফুলিকে দেখে পছন্দ হয়ে যায় ছেলের মেসোর। সম্বন্ধ পাতায় রামদুলালের সাথে, শহরের ছেলে, রঙ মিস্ত্রির কাজ করে, যদিও ঘরে নয় নয় করে অনেকগুলো সদস্য তবে বাগদি ঘরে যত লোক, তত বল। আর ঘর ছাড়াও আরো একটু জমি আছে চাইলে আলাদা ঘর করে থাকতে পারে।
পনেরো পা দিতেই বাপের আদরের ফুলি শহরে এল বড় বৌ হয়ে। দশজনের সংসার আর শহরের নিম্নবিত্তের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম কানুন বুঝতে বুঝতেই সংসার অনভিজ্ঞ ফুলির মাস ছয়েক কেটে গেল। আগে রাগ করলে বাপ- দাদায় চুনো পুঁটি হলেও ধরে আনতো এখন খাবার দিতে দিতেই অভাবের সংসারে শেষে তার ঝোল ছাড়া কিছুই জোটে না, কিছুক্ষন নাড়াচাড়া করে উঠে পড়ে সে। শাশুড়ি আর ননদেরা মুখ বাঁকিয়ে বলে 'বড়লোকের বিটি'। শুধুমাত্র পরম যখন রাতে দিশী খেয়ে ফেরে আর লুকিয়ে কাঁকালে গুঁজে শালপাতায় কাঠিতে মুড়ে কুঁকড়ার ছাঁট নিয়ে আসে, তারপর রাতে সবাই ঘুমোলে তার সামনে ধরে বলে ' খাঁইয়ে লে' সে দিনটায় পরমের ঝাঁঝালো দিশীর গন্ধ ভুরভুর বুকের ভেতর লেপ্টে আয়েশ করে ঘুমোয় ফুলি।
সংসারযাত্রার নিয়ম-কানুন বুঝতে না বুঝতেই কখন যে এক নতুন জীবন তার শরীরে বাঁসা বাঁধে টের পায় না ফুলি।এখন তার শরীর জুড়ে ক্লান্তি, টগবগে ওঠা ফ্যানের গন্ধে বমি আসে, মাছেও যেন আঁশটে গন্ধ ।শুধু ,মাংসের দুর্ণিবার টান যেন ভিতর থেকে আছাড়ি পিছাড়ি করে। শাশুড়ি গাল দেয় তবু ফুলির মাংস ছাড়া রুচি হয় না, প্রথম প্রথম পরম ও বাপ হওয়ার আনন্দে লুকিয়ে চুরিয়ে ফুলিকে খাওয়ায়, তবে প্রথম আবেগ কেটে গেলে আর নারী শরীর বিহীন দিন কাটাতে কাটাতে সেও কেমন যেন নিস্পৃহ হয়ে আসে। বৌ এর থেকে মদেই জীবন খুঁজে নেয়। নারী মাংস আর প্রানী মাংস আজ সমার্থক। শত প্রলোভনেও সাবধানী ফুলি এখন দূরে থাকে পরমের থেকে ।
অবশেষে মা হয়েছে ফুলি, অর্ধাহারে এক অপুষ্ট শিশুর জন্ম দিয়েছে সে। শাশুড়ি মাথায় করাঘাত করে আর বলে, সব কপালের দোষ, সব মাংস খাওয়ার দোষ । দুমুখে শাপশাপান্ত বাপবাপান্ত করে আর গোলাঘর থেকে মেগে আনা সরষের তেল মাখায় নাতিকে। পরমের মুখ ভার, ছেলে হওয়ার পর থেকে ভাটিতে আনাগোনা আরো বেড়েছে, এদিকে ভাত ভটকায় আর নির্জীব দৃষ্টিতে ফুলি কাঁচা কাঠের জালন গুঁজতে থাকে উনুনে, বোধহয় কাঁচা কাঠের ধোঁয়ায় ফুলির চোখে জল ঝরে।
পাড়ার আটচালায় আজ দুদিন ধরে হরিনাম চলছে। দুদিন ধরে বৈষ্ণব বৈষ্ণবীদের রান্নার জোগাড়ের কাজ করছে ফুলি। দুপুরে কাজ শেষে যখন খেতে বসেছে হঠাৎ বড় বৈষ্ণবী কোথা থেকে এসে এক চামচ গাওয়া ঘি পাতে ফেলে বলে, খাও মা , নইলে গায়ে গত্তি লাগবে কেন। এতদিন বহু লাঞ্ছনায় যে জল ঝরেনি আজ যেন টোকা পড়তেই উষ্ণ প্রসবন বিগলিত হয়। ভাত আর চোখের জল মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।কার যে কি স্বাদ! বেদনা খুঁড়লেই যে দুঃখ ঝরে তা বোধহয় ফুলি ভুলেই গিয়েছিল।
কদিন বৌ কে কাছে না পেয়ে পরম গলা পর্যন্ত মদ গিলে এসেছে কিন্তু মনে করে শালপাতার ডোঙলায় ভুঁড়ি চটপটি এনেছে ফুলির জন্য। আজ তার ফুলিকে চায়।ফুলির কাছে পৌঁছতে হলে তার দুর্বলতা সে জানে। মাংসের স্বাদ আর নারীর স্বাদ দুইই বড় প্রবল। রাত বাড়ে, পরমের অস্থিরতা বাড়ে, অথচ ফুলি আসে না, কোলের ছেলে কোলে থাকে। বিরক্ত, নেশাখোর পরম একসময় ঘুমিয়ে পড়ে। মাংসের চটপটি পাশে পড়ে থাকে, খুপরি ঘরের নিঃশ্বাসে উড়ে ধেনো গন্ধ। ভোর হয়ে আসে , ঘুম চোখে একবার শালপাতা দেখে ফুলি, তারপর পরমের ছেঁড়া বালিশের তলায় মুচকি হেসে চটপটির খালা গুঁজে দেয় ফুলি।
সদ্য স্নাত চুল থেকে জল ঝরে ফুলির। মুখে তার প্রশান্তির আভা। আধভাঙ্গা চোকলা ছাড়া গুটি বসন্তের দাগে ভরা আয়নাটার কোন ধরে যেটুকু দেখা যায় সেটুকু দেখেই যত্নে রসতিলক কাটে সে। পরনে আজ তার ধবধবে কাচা সাদা শাড়ি সাপটা দিয়ে পরা, গলায় তুলসী কাঠির মালা। সদ্যথ্থিত বিস্মিত পরমের সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায় সে। সবে জাগরন গান শুরু হয়েছে আটচালায়, ভেসে আসছে তারই সুর, রাই জাগো গো, জাগো শ্যামের মনমোহিনী বিনোদিনী রাই।
সূর্যের ঘুম ভাঙ্গছে।
সুবিধার্থে
কাঁকাল : কোমর
কুঁকড়া : মুরগী
ভটকায় : টগবগ করে ফোটে
Saturday, January 22, 2022
অবান্তর ৯১ বেঁচে ওঠা
বেঁচে ওঠা
কথা হয়না, দেখা হয় না,
কাজে ব্যস্ত রাখি নিজেদের,
বাড়ি থেকে বেরোই না অতিমারির ভরসায়,
এমনকি অসুস্থ হলে খোঁজ নিই না।
আসলেই খুব ভালোবাসি ,
তাই খোঁজ অবশ্যম্ভাবী নয়।
মরে যাওয়া সহজ নয়
অনেক ক্লান্তি জমলে বোধ মরে,
তারপরে মানুষ,
মৃত্যু হলে-
স্মৃতিচেতনায় আবার জীবন্ত হয় ,
বহুদিন পর বিস্মৃত মানুষ আবার জেগে ওঠে
স্মৃতিচারনায়।
যে মানুষ মৃত ছিল এতদিন,
খোঁজ করা হয়নি বহুকাল,
মৃত্যুর পরে জেগে ওঠে হঠাৎ।
কত ভালোবাসা ছিল নশ্বর জীবনে, অথবা কত উপকারী,
সব মনে পড়ে একে একে।
এও তো বাঁচা
জীবন জুড়ে যত্ন, ভালোবাসা সব ঝরে গেলে
মৃতপ্রায় মানুষের দল
বেঁচে ওঠে মৃত্যু প্রতীক্ষায়।
Monday, January 17, 2022
অবান্তর ৯০ তীর্যকতা
তীর্যকতা
কত তীর্যক লিপিমালা গেঁথে নিয়ে লিখতে বসি,
মনে সারাদিনের শব্দ আনাগোনা
ধরতে গেলে পালিয়ে যায়, পালিয়ে যাওয়া ঘিরে ধরে।
যখনই নালিশ মালা খুলে বসি,
কত কত জড়তা, চোখের সামনে ভিড় করে,
কোন শব্দ সাজালে জুৎসই হবে -
ভাবতে ভাবতে ভুলে যাই,
আসলে ঠিক কি লিখতে চেয়েছিলাম।
কলম খুললেই সব কেমন উবে যেতে চায়,
শব্দ হয়ে যায় শূন্য,
মন হয়ে যায় নরম।
দেরী করে আসা শব্দগুলোকেই ভালোবাসতে ইচ্ছে করে।
লিখতে চাইলেই ঝাঁঝ কমে গিয়ে,
সব কেমন মোলায়েম হয়ে যায়।
নিজেকেই ভালোবাসতে ইচ্ছে করে,
নরম ঠোঁটের মত।
অবান্তর ৮৯ অনন্য অনুভূতি
অনন্য অনুভূতি
ফি রোববার বেড়ে যাওয়া অনুভুতিগুলো নখ কাটার মত সাইজ করে ছেঁটে ফেলবো,
নিয়ম করে আগাছা ছাঁটবো প্রতি রোববার।
তারপর সুন্দর রঙচঙ করে শোপিসের মত সাজিয়ে রাখবো।
নিজে না পারি -
পার্লারে যাবো, সেলফি তুলবো।
বাইরের উঠোনে পিঁড়ি পেতে,হাত পা মেলে। কাঠের উনুনে রগরগে আগুনে ফোটা লাল মাংসের সুবাস ছড়াবে চারদিকে,
পেটের ধুনি জ্বলবে ধিকধিক,
তাজা ফ্যানের গন্ধ ছড়াবে
সদ্য কাটা অনুভূতি গুলি ঘষেমেজে, আরেকবার ভোঁতা করে নিয়ে ,
কলতলার দিকে এগিয়ে যাবো।
Tuesday, January 11, 2022
অবান্তর ৮৮ এমন যদি হোত
এমন যদি হোত
অনেক কিছু ইচ্ছে করে,
ঠিক যেমন করে সেদিন করতো,
বৃষ্টি ঝরছে , ঠিক এমনি করেই ,
একটাই বর্ষাতি, অথচ একা ছাড়বে না,
কাটা মুন্ড হাত পা খোলার মত বর্ষাতিটা ভাগ করে নিয়েছি, আর বৃষ্টিটাও।
তারপর কখনো বা বৃষ্টি এসে ছুঁয়ে যাচ্ছে ,
পাহাড় থেকে নদীকে, নদী থেকে পাহাড়ে
আষাঢ়স্য প্রথম ঝরনের কালে, অপাংক্তেয় শাল ফুলে সাজিয়ে দিয়েছো খোড়ো ছাউনি,
লজ্জা পাচ্ছে কালিদাস,
পর্দা টাঙিয়েছে অঝোর বৃষ্টি,
ঠোঁটেও নেমে আসছে বৃষ্টির ছাঁট।
ঠিক সেই সময়,ঝোড়ো কাকের দল ঢুকলো খোড়ো চালায়,
জোড় শালিকের বেজায় বিরক্তি।
আবার, আবার ছুটে চলা, কখনো একটু ছুঁয়ে, কখনো অঝোর ভিজে।
একজনের গন্তব্য সামনে , আর একজনের দুর, অথচ সবই যেন অবান্তর,
শুধু ছুটে চলাটাই স্থির ।
সেদিনটা আবার খুব ছুঁতে ইচ্ছে করছে -
সেই ফ্যাকাসে হাত, ভেজা চোখ, নীরব কথা, অঝোর বোবা বৃষ্টি,
আর একটা অস্পষ্ট একগুঁয়ে মানুষ।
সমস্ত বিরহকে জয় করেই মিলনেরা জয়ী হয় ঠিক বিরহী অশ্রুর মত।
আবার বৃষ্টি নেমেছে রাতভোর বৃষ্টি,
সব ধুয়ে মুছে নিকোনো উঠোন ,
অথচ ,স্মৃতিরা ঝুল কালি মেখে দাঁড়িয়ে আছে।
ওদের বৃষ্টি লাগে না, ওদের বৃষ্টি হয় না,
কাঠফাটা রোদ্দুরেই ওদের বাস।
আবার বৃষ্টি নামছে, মন কেমনের বৃষ্টি।
Monday, January 10, 2022
অবান্তর ৮৮ ভবিষ্যত
ভবিষ্যত
আমরা একসাথেই বুড়ো হব
একসাথেই জীর্ন হবে আমাদের সমস্ত মনস্তাপ
এক জীবন ভালোবাসা যে হাতে সাজিয়েছিলে
আর এক সমুদ্র পিপাসা যে আঁচল থেকে চেয়ে নিয়েছিলে,
কখন যে খসে খসে ঝরে ঝরে পড়বে,
বাড়ি ফিরবো, অথচ তারা পৌঁছবে না।
আমরা জানবো না একে অপরের খবর,
তবু খবর খুঁজে চলবো পাতায় পাতায়,
ইজিচেয়ারের কোলে শুয়ে বুঝবো,
সত্বা আছে তাই স্মৃতি আছে,
ভালোবাসা থাকলে মরে যেত।