Thursday, November 24, 2022

অবান্তর ১২১ অবনীতির নীতি

  অবনীতির নীতি 

আমাদের এখন ভাত লাগে না হাত লাগে
কর্মে অজুহাত লাগে
আমাদের এখন ঘর লাগে না ছাদ লাগে
ছাদ ছেড়ে আকাশ লাগে
কিন্তু কিসে তল পাবে?

হাত বাড়ালেই শূন্যতা
জীবন মানেই দৈন্যতা
নিজের কাছেই মুখ ঢাকা
কেমনে তার দিক পাবে?

দিক নামে দিক শূন্যপূর
রাজায় প্রজায় এক গ্লাসের সুর
এক লাইনে ধনী মজুর
কেমনে শিশু ঘর পাবে?

প্রেমেও যখন খেলা হয়
খেলা খেলা প্রেমিক হয়
ভালোবাসা মুখ লুকায়
জীবন কোথায় কাঁধ পাবে?

বেকার জীবন ধর্ণা দেয়
স্বপ্ন তখন স্বপ্ন রয়
প্রেম যখন হাত ছাড়ায়
চোখের কোনের জলের মত
প্রিয়তমা নারীর আঁচল উড়তে থাকে
কেমনে তার লাগ পাবে?

নীতির পিঠে অবনতি
তারই নাম দূর্নীতি
পূর্বপুরুষ প্রাপ্ত যা
মানুষ কেন ভয় পাবে?

জন্ম থেকে প্রাপ্ত যা
অন্যকে ছেড়ে এগিয়ে যা
শিখেছি আমরা প্রানপনে
মানছি আমরা মনেপ্রানে।

রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়
উলুখাগড়া প্রানে সয়
দুর্নীতি  আর নীতির প্রশ্নে
জীবন কোথায় ভাত পাবে?







Saturday, November 12, 2022

অবান্তর ১২২ হৈমন্তী

হৈমন্তী



হৈমন্তী হলুদ ছাওয়া মাঠে,
লেগে আছে ঘরে ফেরার ডাক।
হেমন্ত মানেই তো ঘরে ফেরার গান।
গর্ভিনী ধানেরা গরবিনী পা ফেলে সন্তান বুকে করে লক্ষ্ণীর পায়ে পা ফেলে ঘরে ফিরবে।
দুয়ারে জলের ঝারি প্রস্তুত।
নিকানো খামার প্রতীক্ষা করছে আলপনা সাজিয়ে।

ঝরে পড়া হলুদ স্তুপে লেগে আছে শরতের ঘ্রান।
প্রতিটা পাতার হলদে ছোপে লেগে আছে সবুজ স্মৃতি,
এও এক গন্তব্যে ফেরা।

তুমিও শীত,গ্ৰীষ্ম, বর্ষা চেয়েছো গন্তব্যে ফেরাতে,
অথচ গন্তব্য আসার আগেই সবুজ স্মৃতিরা ভিড় করে,
অর্ধপথে ফিরে যেতে হয়,
গন্তব্যের অধরায় রাতে চাঁদ ওঠে,
গর্ভিনী ধানের বুক বেয়ে চাঁদ এসে উঁকি দেয় বালিশে শিয়রে।
বারে বারে ঘরে ফেরার ডাক আসে
অন্ধকারের বুক চিরে পৌঁছে দিতে চাও ঘরে।

নরম সর কুয়াশা সরিয়ে, সদ্য গজানো অন্ধকারে বারে বারে গন্তব্য হারিয়ে যায়।
নিকানো উঠোন, আলপনা দেয়াল, বাকল ত্যাগী পেয়ারা আর লালপেড়ে আলতা পা
নবীন শিশিরে ভিজে প্রতীক্ষা করে -
দুটি গন্তব্য এক হওয়ার ,
শিশির পায়ে হলুদে হেমন্তে চৌকাঠ ছোঁয়ার।