Tuesday, February 23, 2021

অবান্তর ৪২

         অস্থিরতায় স্থির আছি



যে ওষ্ঠে অধর মেলেছি

তা  অন্যে অদংশনীয়।


যে হস্তে অন্তিম ছুঁয়েছি,

তা অনতিক্রম্য কালপুরুষের কাছে।


যে কোমরে পাক দিয়েছিল কলমিলতা ,

তা এখন স্রোতস্রাবী নদী,


যে শরীর চাঁচর বেড়ার ডাল ছুঁয়েছে,

তার শতছিদ্র আলো আর টপকাতে না মরালশমরাল 


জলবিন্দু থেকে স্বেদ চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ে,

গোপন তিল নিঃশ্বাস ফেলে আজও আদুরে প্রতীক্ষায়।


হৃদয় থেকে মস্তিষ্ক ,আযোজন পথ।

যে পথ নিস্তরঙ্গে রচিত হয়েছে,

ফেরার সময়  সমস্তই সে ভুলে ভুলে যায়।


রাত এখনও গভীর নয়, অথচ সান্ধ্য সঙ্গীত নীরব, নীরবতাই এখন গান।


ছোঁব বললেই ছোঁয়া যায় না কি?

যখন ছুঁয়েছে হাত অন্তিম হৃদয়।

ধরব বললেই ধরা যায় না কি?

যখন দিয়েছি কথা বিশুদ্ধ নিঃশ্বাস।

আঙ্গুল ছোঁয়ানো ঠোঁটে কান্না বারোমাস।


ফাগুনে আগুন নয়, আগুনে ফাগুন।



Wednesday, February 17, 2021

অবান্তর ৪১

 

        কোলাজ

ভালোবাসি বলেই দূরত্ব মাপি,
যোজন যোজন জল তারপর দ্বীপ,
কি করে ভালোবাসি ?

বাইরে দাঁড়ানো পক্ষীরাজ,
পা ঠুকছে এক দশক ধরে,
অথচ আগের আগের দশকেও তুমি এত নীরব ছিলে না,
যেখানে তোমার হৃদয় পড়তে পারতাম না।

ভাবছো তুমি ভাবছি আমি,
হৃদয় খুঁড়তে খুঁড়তে চোরা হ্রদ,
চোরাশিকারীরা পিচ্ছিল করছে রক্তাক্ত পথ,
তবু বাইরে নির্বিকারের হাসি,
বোঝা যাচ্ছে না কিছুই।

এমনি ভাবেই আরো তিনদশক কেটে যাবে,
দেখা হলেই স্তিমিত রক্ত দ্রুতগামী ,অথচ মুখ স্থির,
যথারীতি গন্তব্যে এগিয়ে দিয়ে , তুমি কর্তব্যপথ ধরবে,
মাঝে পড়ে থাকবে দু ফোঁটা অশ্রু।

রক্তাক্ত জেনেও যে রাত্রিপথ খনন হয়েছে,
তাকে উদযাপনের জন্য আরো এক রাত্রি কান্না লম্বমান।
আকাশের তারারা শুধু হাসিমুখের দিকে চেয়ে আছে।
কখন বৃষ্টি নামবে ?

এক রাত্রি কান্নায় কোথাও প্রেম ছিল না।
কোথাও ভালোবাসা ছিল না।
কোথাও দূরত্ব ছিল না।
কোথাও লজ্জা ছিল না।
শুধু নিঃশর্ত সমর্পণের মুক্তি ছিল।

আয়না দেখলেই যদি কান্না পায়,
প্রতিবিম্বের মত শুধু হাসো, হাসো এবং হেসেই যাও।
দিনের শেষে জোকারেরাও হাততালি কুড়োয়।

বুকে তোলার আগে ধুলো ঝেড়ে নাও,
বসন্তের আগে তো শীতই আসে,
ঝরাপাতাদের গায়েও তো আগুন থাকে,
তাকে জড়িয়ে রাখো, ভরিয়ে রাখো।

যত ভালোবাসছো ততই নীরবতা বাড়ছে,
বিভ্রম ঐ চাউনিতে,
দূরত্ব এত বাড়িয়ো না,
যেথা স্বপ্নরা নাগাল পায় না,
মাঝে মাঝে প্রেমিক হতেও তো ইচ্ছে করে।



Saturday, February 13, 2021

অবান্তর -৪০

                   অকাল কামিনী



অকাল শীতে ঐ যে বস্তিপারের রোগা জিরজিরে কামিনী ছিল দাঁড়িয়ে ,

দেখো -

সেও আজ কাঞ্চনে সজ্জিত হয়ে কাঞ্চনা হয়েছে।

বসন্ত নামের যে অনাগত পুরুষটি জীবনে আসবো আসবো করছে ,

তার জন্য দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অনেক স্বপ্ন গাঁথছে আর এক স্বপ্ন থেকে পালিয়ে গিয়ে আরেক স্বপ্ন অক্লান্ত হয়ে সাজিয়ে তুলছে তার গালে, মাথায়, কপালে , আর রাঙ্গা অধরে।


একটু একটু করে সাজ সম্পূর্ণ করছে সে, একেবারে রমনী সাজ, চৌদ্দ কলায় পরিপূর্ণ।

পথের মানুষেরা তাকায় আর বলে - ঢ---ং ।

কাঞ্চনা আজ মুচকি হেসে মন ঠাওরায়, জলবিম্বে তাকিয়ে বলে - বয়েই গেছে।

তারপরই বেপাড়ার বেয়াড়া হাওয়ারা ঢলতে এলেই আঁচল সামলে নীরব কটাক্ষে বলে , রাস্তা দেখো।



ভয় সে ঝোড়ো হাওয়াকে করেনি কখনো গভীর রাতেও।

সর্বৈব ভয়, লজ্জা,  তুলে দিয়েছে সে মৃদুমন্দ বসন্তের হাতে ।


Tuesday, February 9, 2021

অবান্তর - ৩৯

 

     ভালোবাসার ২১ শে



হাত বাড়ালে যেই তোমাকে পাই,
ঘুম ভাঙলে খুব জড়িয়ে থাকি,
স্বপ্নে যদি ওকাকুরা হই,
জড়িয়ে থাকি বসন্ত উৎসবে।

হাত বাড়িয়ে হাতটা ছুঁতে চাই,
শার্টের বোতাম আলগা দলছুট
মুঠোয় ধরে সামনে নিয়ে মাথা
চুল করে দিই আলতো এলোমেলো

তখনো যদি মুখ গোমড়া কর
আলতো করে ঠোঁট বাড়াবো তবে,
ইষ্টিকুটুম দেখবে বসে বসে
কেমন তুমি রাগ করতে পারো।

ঠোঁট ফোলাবো জড়িয়ে ধরবো মাথা
বুকের মাঝে বড্ড আলুথালু,
হাতের উপর হাত রাখতে গিয়ে
কাঁধ দুখানি চিবুক ছুঁয়ে যেথা।

তখন আমি বড্ড প্রেমিক হব
প্রেম মাখবো যতন ক্রিমের মতো
নাক ভর্তি গন্ধ বুকে মেখে
ভালোবাসবো দূরের দূরত্বটাকেই।

Wednesday, February 3, 2021

অবান্তর ৩৮

        কি জানি কি লিখি




শরীর থেকে  হয়েছে বিচ্ছিন্ন  মন

এখন শুধুই ঘুরে বেড়ানো উমনো ঝুমনো,

ইরানী বেদের  যাযাবর বৃত্তি শরীরকানাচে

ভিক্ষার থালা নিয়ে দুয়ারে চিৎকার,

আমরা তিন লোক মা,

উত্তরে পেটের টাকে দেখিয়ে, বাড়িয়ে দিই থালা,

একমুঠো বেশীর আশে।


তারপর  সদগুরু নিদ্রাগত হলে

খুঁটে খাই ধান, জাবর কাটি, চর্বিত চর্বন।

ডিম পাড়ি ,তা দিই

আরো দু মুঠো অন্নের তরে,

ইটের বালিশ শয্যা, চোখে ঢুল স্বপ্ন,

ছেঁড়া পুটুলিতে আগলায় কোলের নেড়িকে,

তারপর আবার রো -মন্থনের স্বপ্ন দেখি, অথবা গো- মন্থনের।

পৃথিবী তখনো মন্থন করছে দুগ্ধভান্ড,

ঘোল মুয়াবার তরে।