হৈমন্তী
হৈমন্তী হলুদ ছাওয়া মাঠে,
লেগে আছে ঘরে ফেরার ডাক।
হেমন্ত মানেই তো ঘরে ফেরার গান।
গর্ভিনী ধানেরা গরবিনী পা ফেলে সন্তান বুকে করে লক্ষ্ণীর পায়ে পা ফেলে ঘরে ফিরবে।
দুয়ারে জলের ঝারি প্রস্তুত।
নিকানো খামার প্রতীক্ষা করছে আলপনা সাজিয়ে।
ঝরে পড়া হলুদ স্তুপে লেগে আছে শরতের ঘ্রান।
প্রতিটা পাতার হলদে ছোপে লেগে আছে সবুজ স্মৃতি,
এও এক গন্তব্যে ফেরা।
তুমিও শীত,গ্ৰীষ্ম, বর্ষা চেয়েছো গন্তব্যে ফেরাতে,
অথচ গন্তব্য আসার আগেই সবুজ স্মৃতিরা ভিড় করে,
অর্ধপথে ফিরে যেতে হয়,
গন্তব্যের অধরায় রাতে চাঁদ ওঠে,
গর্ভিনী ধানের বুক বেয়ে চাঁদ এসে উঁকি দেয় বালিশে শিয়রে।
বারে বারে ঘরে ফেরার ডাক আসে
অন্ধকারের বুক চিরে পৌঁছে দিতে চাও ঘরে।
নরম সর কুয়াশা সরিয়ে, সদ্য গজানো অন্ধকারে বারে বারে গন্তব্য হারিয়ে যায়।
নিকানো উঠোন, আলপনা দেয়াল, বাকল ত্যাগী পেয়ারা আর লালপেড়ে আলতা পা
নবীন শিশিরে ভিজে প্রতীক্ষা করে -
দুটি গন্তব্য এক হওয়ার ,
শিশির পায়ে হলুদে হেমন্তে চৌকাঠ ছোঁয়ার।
No comments:
Post a Comment