Thursday, October 28, 2021

অবান্তর ৭৩, অনুগত শব্দ

    অনুগত শব্দেরা 



উড়ে যাও

মুক্তির সময় এসেছে।

ডানা ঝাপটানো পাখির মত ঝাপটাতে ঝাপটাতে 

ডানা খোলো।

বোঝো এবং বোঝাও নিজেকে

আবেগের পরিপাটি ভালো, 

শৃঙ্খলতা আনো।



ছেলেমানুষী ছাড়ো, 

আবেগীয় তত্বে সমঝোতা না করে 

মার্কস, লেনিন নেহাতই হিটলার হয়ে যাও।

নাৎসী আন্দোলনের বীজ বপন করো জঠরে 

 হৃদয়ে।


যা আর নেই,

আবেগীয় তত্ত্বের মগডালে তাকে বিরক্ত প্রশ্নচিহ্নের মত ঝুলিয়ে রেখো না।

পেড়ে ফেল একেবারে ধরাশায়ী করে,

ছেৎরে ছিন্নভিন্ন হয়ে ছড়িয়ে পড়ুক প্রেমজ আবেগরা।


লৌকিকতা বড় বালাই

যা নেই তাই নিয়ে শুধু টানাটানি , দর কষা

তারপর তিতকুটে জিভে শুধু গালাগালি,

সমস্ত অনুগত শব্দদের জব্দ করে মুছে ফেল এক নিমেষে,

আসলেই তারা অনুগত নয়,

উপসংহার মাত্র।

এরপর আর কিছু নেই, স্বস্তি বা স্বস্ত্যয়ন ছাড়া।



দাঁড়ি, কমা, কোলনের মাঝে পড়ে

অনুগত প্রশ্নেরা বিস্ময় চিহ্ন হয়ে যায়।

আবার হেমন্তে হলুদ পাতারা খসে খসে যায়,

সমস্ত প্রশ্নচিহ্ন তুলে রেখে।



শুধু অনুগত শব্দেরা 

ছড়িয়ে ছিটিয়ে নিরবিচ্ছিন্ন শান্তি খোঁজে

শীত ঘুমে শুয়ে রয় বুদ্ধ ও লেনিন ।



Friday, October 22, 2021

অবান্তর ৭১, ভয়েতে বাঁচি

         ভয়ে বাঁচি, ভয়ে থাকি





যার নেওয়ার অভ্যেস নেই ,

তাকে যদি দিতে চাও সে তো গুটিয়ে যাবেই।

তুমি তাকে উপহারে শাড়ি, গয়না, স্থাবর- অস্থাবর সব দিতে চাইছো,

অথচ এর বদলে যদি তুমি নিতে চাইতে দেখতে কত সহজে কলজেটা খুলে দিয়ে দিতাম।

দিতে চাইলেই কেমন হাত পা গুলো সেঁধিয়ে যেতে চায়,

এমনকি অসীম ভালোবাসা দিতে চাইলেও চোখ বন্ধ করি,

ভালোবাসাতেও এত ভয় পাই !

হাত বাড়ালেও হাত ফিরিয়ে নিই, 

আর তুমি ভাবো দাম্ভিকতা।


কি কি দিতে পারো আমায়?

স্থাবর কিছু আমার শরীরে আঁটবে না,

অথচ , 

কত অভিমানে অতি প্রিয় আংটিটা অনামিকা থেকে খুলে রেখেছিলাম,

আজ ,

 অভিমান গেছে

 অথচ আঙ্গুল রয়ে গেছে ফাঁকা।

হয়তো একদিন তেমনই দিতে দিতে দিতে ভালোবাসার দাম্পত্য ভয় পেতে শুরু করবে,

তারপর ,

ভয় চলে যাবে, ভালোবাসাও।



নিতে চাও ,বলো , কি কি নিতে চাও?

একটা গোটা পৃথিবী? না অধিশ্বরী নই,

তবে তোয়াক্কা না করা একটা পৃথিবী তোমার সামনে রাখতে পারি,

খড়কুটোর মত সমস্ত সমাজের মুখে লিউকোপ্লাস্ট চেপে ধরতে পারি,

হ্যাঁ, আরো কিছু পারি বইকি,

শুধু , দিতে চেও না।


যদি , দিতে চাও -

একটুকরো সময় দিও, একমেঘ ভালোবাসা আর একডাল ভরসার কাঁধ যেখানে জল ঝরে বারোমাস,

তবু ভয় পাই।

Tuesday, October 19, 2021

অবান্তর ৭১, অসময়ের অতিথি

 অসময়ে এসে অচেতন করে মন

কত করি যে যতন

কাজের পিঠে কাজ খুঁজে যাই

ভুলে থাকার ভাবনা বৃথাই

কাজের মাঝেও মুখ ঢেকে যায়

মন যে উচাটন,

এমন করে ডাকিস নে আর

ঘোর পিয়াসী ক্ষন,

বড় অসময়ে এলে যে আজ

মন যে উচাটন।


অসময়ে বাদল ঝরে

মনের মাঝে বাহির ঘরে

মন বসে না, মন থাকে না 

বাহিরে মগন,

এমন অসময়ে উদয় হলে,

বুকের ভিতর মন।


ভালোবাসার কান্না যত

রামধনুর ঐ রঙের মত

মেঘ দেয়ালার বৃষ্টি হলে

শিশির ভেজা কোন,

ও তা নরম ঠোটের আলতো আভাস

মন যে উচাটন,


বুকের পরে মনের ঘরে

মনের ভেতর যে বাস করে

বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না

অন্তরে মগন,


তবে যদি এলেই বন্ধু,

কিসের এত লাজ

অন্তরে আজ যে জন আছে

বাহিরেও সে আজ।


আজের সাথে ভীষন যখন

মনের টানাটানি,

কুটনো কোটা, বাটনা বাটা

চক্ষে  পড়ে পানি

মনের ভিতর মনের খবর

পাড়াটি নিঃঝুম।


উপর পাড়া , নামো পাড়া 

মধ্যেখানে চর,

চরের ভিতর চোরাবালি

মন কেমনের ঘর।


আসার যদি ছিলই বন্ধু

সাঁঝাল বেলায় কেনে ?

ঝিঙ্গাফুলের ভালোবাসা

কুড়মিলতা যেন।







অবান্তর ৭০

         কোজাগরী



তোমায় ছাড়া তোমায় নিয়ে  উঠছে ভরে মন

কোত্থাও নেই কিচ্ছুটি নেই

জড়িয়ে আছে ক্ষন,

ভালো থাকার  হিসেব ভারী

আলতো ঠোঁটে, মিষ্টি শাড়ি

মন পড়ে রয় একলা ঘরে

অভাব সঙ্গোপন,

লুকিয়ে রেখে ফুটিয়ে তুলি শিল্পী অনুক্ষন।


আমার আছো, নাই বা হলে

তাতেই কি অভাব

ভালোবাসার ভাবনারা আজ পরেছে মেঘ সাজ

ঠোঁট ফুলিয়ে বলে আড়ি

ভাব করেছে মেঘের বাড়ি

আকাশ আজ ভার নিয়েছে 

কাঁদছে সঙ্গোপন

শরতে আজ মন ভিজেছে বর্ষা উদযাপন।


কোজাগরী চাঁদ উঠেছে

উঠোন পানে রই

ঠোঁটের উপর ঠোঁটটি রেখে মনের কথা কই

নাই বা রবে ঠোঁটের যাপন, আলতো ছোঁয়া ভরসা জ্ঞাপন,

মনের ঘরে মন পড়ে রয়

ভরিয়ে অনুক্ষন।


চারদিকে তে আবেশ মেখে জড়িয়ে আছে সাজ

নিজের সাথে অনন্ত প্রেম কেন এত লাজ

জেদাজেদি আড়াআড়ি কথার পিঠে কথার আড়ি,

মন পেতে রই নীরব ঘরে

স্পর্শ সর্বক্ষন।


বন্ধ চোখে চোখ খুলে যায়

নীরব কথা মুখ খুঁজে পায়

মনের সাথে মনের কথা 

নিরন্তর যাপন।


আজ মন মজেছে, মন পুড়েছে

লক্ষ্মী আবাহন।


         কলমে - অর্পিতা


Wednesday, October 6, 2021

অবান্তর ৬৯

           স্মৃতিতে বাঁচি




অবেলার সবজির মত কিছু প্রেম বাকি রয়ে গেছে,

যখনই অনটন, দুর্যোগ,

 তখনই কুড়িয়ে বাড়িয়ে জম্পেশ করে রাঁধি।

অথবা ঘন দুর্যোগে বেশ করে খিচুড়ি পাকাই।


দেখা হলে ভালো,

না হলে কাঁথা পেতে শীত রোদে দেওয়া,

গরম, বসন্ত, হেমন্ত যাই হোক,

সব কাল রয় এরকম ।


এ যদি প্রেম হয়

বাকি থাকে কি?

কুশলতা বিনিময়

মনে মনে আধ বেঁচে থাকা।


বিনিময় প্রত্যাশা, কর্ম ধূসরতা

সব ছেড়ে দিয়ে নির্জনতা খুঁজি,

নির্জন কোন, একলা দুপুর, একলা মাদুর, পড়ন্ত রোদ , শেষ বিকেলের।

একলা স্মৃতি, চিলতে হাসি , ঠোঁটের কোনে আলতো থাক,

নজর লাগা বিকেল এখন,

স্মৃতিটুকু সামলে রাখ।


                   অর্পিতা