অনুগল্প
শেষ বিকেলে প্রেমিক পুরুষটি তার প্রেমিকার হাতে হাত রেখে বললো, তুমি তো আমার দায়িত্বের কথা জানো, আমি তো তোমাকে কিছুই দিতে পারবো না। মেয়েটি হাসলো।
নার্সিংহোমের এগারো নম্বর বেড, এক ষাটোর্ধ্ব মহিলা বেডে বসে আছেন , সামনে তরুন ঝকঝকে স্মার্ট ডাক্তার খসখস করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ লিখে যাচ্ছেন দ্রুত। সঙ্গে শত ব্যস্ততায় উপস্থিত নার্সকে কিভাবে ক্যানসারের কেমোর ডোজ ঠিক করতে হবে তার প্রয়োজনীয় উপদেশাবলী দিচ্ছেন । নার্সটি একবার মিনমিন করে বলার চেষ্টা করলো, কেমো শুরুর সময় যদি তিনি একটু উপস্থিত থাকতেন। ডঃ ঘোষের এখন সময় নেই অন্য নার্সিংহোম থেকে সমানে ফোন আসছে তাই নার্সকে গুরুত্ব না দিয়ে রুগিনীকে চোখের কোন দিয়ে একবার জরিপ করলেন, বৃদ্ধ হলেও একমাথা কোঁকড়া চুল তার নজর এড়ালো না। এটি তার সেকেন্ড কেমোথেরাপি, অবজ্ঞার সুরে টাকা গুনতে গুনতে বললেন , জানেন তো আপনার এই কোঁকড়ানো চুল গুলো আর থাকবে না, সব ঝরে গিয়ে ন্যাড়া হয়ে যাবেন।প্রথম ডোজে পড়েনি তবে সেকেন্ড ডোজের পর ঝরে যাবে।বলেই দ্রুততার সঙ্গে বললেন, সঙ্গে তো কাউকে দেখছি না, নামটা বলুন, লেখাপড়া জানেন তো না কি?
ভদ্রমহিলা ক্লান্ত দৃষ্টিতে তাকালেন একবার, তারপর মৃদু হেসে ঋজুকন্ঠে বললেন ডঃ আরাত্রিকা মজুমদার, গাইনোকোলজিস্ট আ্যন্ড অবসষ্ট্রেটিক্স, স্পেশালিষ্ট ইন ইনফার্টিলিটি।
নামকরণ করুন।
ReplyDelete