Friday, December 24, 2021

অবান্তর ৮৭ , ২৫শে ডিসেম্বর

     ২৫ শে ডিসেম্বর



বিস্তির্ণ মাঠের এক কোনে একটা ছোট্ট আস্তানা ছিল আমাদের,

কুয়াশাভরা মাঠে কেমন যেন আবছা মতো ঠেকতো,

মফস্বলীয় জীবনীতে তখনো যেশাশের আবির্ভাব ঘটেনি,

শুধু জানতাম , ২৫ শে ডিসেম্বর , একটুকরো কেকের গল্প,

যেমন করে জানতাম, পৌষপরব মানেই পিঠে খাওয়া।


এমনি এক ২৫ শে , আমাদের ছোটো আস্তানায় সাজো সাজো রব,

মা সেদিন প্রথমবার তার কয়লার চুলোয় কেক বানাবেন,

আর একটুকরো নয়, খাবো গোটা গোটা।

চারিদিকে ভ্যানিলার গন্ধ বাইছে,

আমরা অপেক্ষারত কোনো এক ভীষন নতুন উত্তেজনার।

মা ভীষন ব্যস্ত আগুনের আঁচ বাড়ানো কমানোয়।

অবশেষে ,অপেক্ষার অবসান,

কেক এসেছে,

শুধু আগুন বাড়ানো কমানোর খেলায় অপারদর্শী মায়ের মুখ কাঁচুমাচু,

কেকে পোড়া গন্ধ।


এখন অনেক সুসজ্জিত কেক খাই সারাবছর,

একটুকরো নয় গোটা গোটা, পেট ভর্তি করে।

তবে সেই পোড়া গন্ধ খুঁজে পাই না আর,

বিচ্ছিন্ন হয়েছি আমি

সেই ২৫ শে ডিসেম্বরও।


অবান্তর ৮৬ সারসত্য

        সারসত্য

   অর্পিতা চৌধুরী


নিঃশব্দ প্রেম  এত প্রানঘাতী হয়?

কখন যে চুপিচুপি জুড়ে বসলে জীবন ছড়িয়ে,

আর কখন যে উঠে গেলে শীতলপাটি হয়ে যদি বুঝতাম।


ধরতে গেলেই দুরত্ব বেড়ে বেড়ে যায়,

অথচ নিংশব্দে অপলকে চেয়ে থাকো,

এর থেকে প্রানঘাতী আছে কিছু?


অস্বীকার করি কি করে?

অস্তিস্তকে অস্বীকার করি কি করে?

সারাদিন ব্যস্ততা সময় খায়,

রাত বাড়ে,

নিংশব্দে উঁকি দেয় রাতচরা বুকের ভেতর।


জানি এতদিনে,

রুপোলী কিনারেও প্রেম আসে,

ভালোবাসা হয়, 

অলৌকিক ক্ষন তৈরী হয় নিঃশব্দে।

ঘুমঘোরে শিয়রে জাগো সারারাত প্রথম দিনের মত,

ভরসা, বিশ্বাস, নিঃশব্দতা একাকার হয়ে যায়।



আজ জানি,

ভালোবাসায় প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বলে আসলেই কিছু হয় না

মুগ্ধতা সরে গেলে, 

যতবার আসে সেই প্রথম।


Saturday, December 18, 2021

অবান্তর ৮৫ বিচ্ছেদ কাব্য

        বিচ্ছেদ কাব্য


আমি যে জলে জীবন মাপি,

তুমিও কি সে জলে মাপো?

তবু 

তবু এত বিচ্ছেদ কেন?

Tuesday, December 14, 2021

অবান্তর ৮৪, না ছোড় বান্দা

       না ছোড় বান্দা




প্রেমে পড়ি বারেবারে

দুঃখ পাবো বলে

অজুহাত খুঁজি

দুঃখে থাকার,

অথবা  জয় করার।


দুঃখ খুঁজি

নিজেকে ভালোবাসি বলে

বারে বারে ক্ষয় 

তারপর ,আবার দুর্জয়, 

অপ্রতিহত গতিতে ফিরে আসা।


যখনই ছাড়তে চেয়েছি

তখনই ভেজা বেড়ালের মত পায়ে পায়ে ,

অনুগত !

অবিস্মরনীয় শব্দ,

একে বুঝি প্রেম বলে?

না ছোড় বান্দা !


জীবন উদ্বৃত্ত হলে,

প্রেম পড়ে রয়।

ঝরা বকুলের মত চল, তুলে এনে মালা গাঁথি।

জীবন থেকে দুরে গেলে,

 উদ্বৃত্ততেই ফিরতে হয়।


যত বলি নিজেকে ভালোবাসি

আসলে ' নাছোড় 'তোকেও তা বাসি,

শুধু অজুহাত খুঁজতে হয় গোপনে গোপনে।



Friday, December 10, 2021

অবান্তর ৮৩ স্বীকার করতে ভয় পাই

   স্বীকার করতে ভয় পাই




ভয় পেয়ো না।

 ভয় পাই বলেই ,

জুজু দেখাতে ভালোবাসি।

এ এক দখলদারীর গল্প,

মানুষ করায়ত্বকরন।


তাতেও না কাজ হলে,

চোখের জলে দুঃখ ভিজিয়ে,

পাঁউরুটি  জ্যাবজেবে করে

মেলে ধরি,

পাঁপড় শুকানোর মত।


কে কত ভালোবাসে

কার কত দায়িত্ব

অথবা কে কার কাছে দামী

নিক্তি মাপে বেতনক্রমে।


ওজনদারীর খেলায়

তার কেটে গেলে,

কুমিরছানারা ঘুঁটি হয়ে যায়

তাদের সামনে রেখে চলে পাশা খেলা।


অথচ নিজের কাছে অনস্বীকার্য

শীত নামছে বটের ঝুরিতে

এবার আর এক্কা দোক্কা নয়,

শুধু ঘরে ফিরে চলা।



Thursday, December 9, 2021

অবান্তর ৮২, সহজ কাজ

   সহজ কাজ




ভোলা গেলে সহজ হোত

সহজ হোত কাজ

অন্তরে আজ দহন ঝরে

বাইরে কর্মসাজ।


ভুলতে চাও তুমিও পুরুষ

ভোলাও নিজেকে আজ

অথচ শুধুই ধরা পড়ে যাও

সাজাও নিজেকে একই সুতোয়

আলমারীর এক কোনেতে হাতড়ে মর সাজ।


পরার সময় যে জন ঘুমোয়,

সেই আসে হাতের কাছে,

রঙ জ্বলা সেই জামাটাকেই,

আঁকড়ে রাখে বুকের কাছে।


শীতে বন্দী শীতজামাটা

উষ্ণ পরশ স্পর্শ মাখা,

মানুষ ভোলার ছল করি যে,

নিজের কাছে রোজ।


কত ব্যাথা জমলে পরে

শীতের আবার বর্ষা ঝরে

ভুলতে চেয়ে ভুল হয়ে যায়

মনের উপর ক্ষোভ।


যখন দেখি একই নিদান

অপরপক্ষে এক পরিধান

বুঝি আমি বোঝ তুমি, ছল করেছি রোজ।

ভিতর বাহির ঝড় বহেছে

বর্ষাতে আজ বাঁধ ভেঙ্গেছে 

ভিতর তাহার পরশ না পায়

বাইরে কঠিন সাজ

নিজের থেকে পালিয়ে যাই

পথ হারিয়ে আগলে বেড়াই,

একই পথের পথিক হলেও

ভিন্ন পথের খোঁজ।


আজ বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না

পরস্পরের উভয় চেনা

দিনের শেষে ফিরতে হবে অন্ধকারে রোজ।





Wednesday, December 8, 2021

অবান্তর ৮১

  ভালোবাসা দুঃখবাসা




ভালো না বাসলে 

জানা হোত না দুঃখ কাকে বলে।


যাব বললেই ফেরা যায় কি?

আসলে তো সেই অন্ধকারেই ফিরতে হয়।


ফিরতে ফিরতে সেই বাড়িমুখো

তারপর নিভৃতে নিজের সাথে বাস।


ভালোবেসেছি বলেই কষ্ট পেতে পারি,

অভিমান,আমার একার সম্পত্তি,

তবু নতুন সূর্যের অপেক্ষায় থাকি।


যে হাতে হৃদয় ছুঁয়েছি

সে হাত এখনও মুঠো

মুঠোর প্রতীক্ষায়।


আপনি আর তুইয়ের মাঝে 

একসমুদ্র তুমি' থাকে

আপনির সীমাবদ্ধতায়

তুই ভেসে যায়।


আমার প্রতিটি পাতা যদি আঁচল পেতে থাকে

আঁচলে এসে রোদ ঝরে,

তাতে বসে কষ্ট পাবে।


নকশি কাঁথা বুননে দিন যাক

প্রতিটি বুনটেই হৃদয় আঁকা থাকে,

হৃদয় তো লালই  হয়, রক্তাক্ত দায়ভাগ।


যে মাটিতে আসন পেতেছি

আঁচড়ে আর শাকে ভাতে পুড়েছি বলেই

বারেবারে হৃদয় সেঁকতে ভালোবাসি

জ্বলন্ত আগুনে।


মাঠে মাঠে ধান পাকে, মেলা বসে,

কোন খোঁজে চাতক চাতকী।

দর্শক আসনে বসে হাততালি কুড়োই,

জীবন তোকেই ভালোবাসি।








Monday, December 6, 2021

অবান্তর ৮০ , কৈফিয়ত

           কৈফিয়ত



আজ বছর কয়েক পরে তুমি তোমার নিরুপায়তার হিসেব নিকেশ শোনাচ্ছো।

সংসার, আচার, ব্যবহার, দায়িত্ব।

তুমি খুউব , খুউব আন্তরিক ভাবেই বোঝাতে চাইছো,

তোমার নিরুপায়তা।

ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বার বার একই গল্প শোনাতে চাইছো,

যে -

তুমি আমার সম্বন্ধে ভীষন উদগ্ৰীব, 

কিন্তু নিরুপায় বলেই -

বারবার আমাদের বন্ধন গুলো মনে করিয়ে দিচ্ছো।


হিসেবের খাতায় একের পর দুই , দুইয়ের পর তিন জমা করছো,

আর ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছো গন্তব্যের দিকে।

অথচ -

আমি কেন জানি শুনতে পাচ্ছি -

বহুকাল আগের এক বুকজ্বলা কান্না,

আর বুঝতে পারছি, 

তুমি নিরুপায় বলেই ...........


Saturday, December 4, 2021

অবান্তর ৭৯, অভিশম্পাত

 এখন আর  অতি প্রিয়জনকেও গালি দিতে ইচ্ছে হয় না,

কিংবা অভিশম্পাত।

শুধু মনে মনে বলি,

একটা প্রেম করো, প্রেম করো,

একটা সত্যিকারের ভালোবাসো জীবনে।