যা দেখি তা লিখি
৫
এখন ভরা জৈষ্ঠ্য , মাছেদের এখনও গর্ভিনি হওয়ার সময় হয় নাই, তাই এখনও তারা জলকেলীতেই ব্যস্ত। গৃহবন্দী মানব মানবী আজ আদিম খেলায় ক্লান্ত, তারাও হাত পা মেলতে চায় নিজের মত করে। প্রথম অনুরাগ ছিল ভালো, আজ সবই বিপর্যস্ত। শুধু এখনও টুনটুনিরা মাতৃত্বভারে ক্লান্ত হয় নাই, কি অসীম জীবনী শক্তি প্রকৃতি ওদের প্রদান করেছে, তাই মাতৃত্বের উপাখ্যানগাথা গাঁথা হয় পরপর, নির্দিষ্ট রীতিতে।সেখানে কোনো সংশয় নাই, লজ্জা নাই, বৈধ অবৈধ নাই, শুধু আছে স্বনির্ভর মাতৃত্বের যাতায়াত। এক হাতে বুনে যাওয়া ফসলের মত বিন্দু বিন্দু করে।
শুধু মানুষ প্রৌঢ়া হলে বুঝি অসামাজিক সমস্ত শব্দের উপর একটা সহজাত অধিকার জন্মায়।লোলচর্ম, লোল বসন, লোল স্তনী হতে হতে লোল জ্বিহাও যেন বয়ঃবৃদ্ধির সাথে সাথে স্বাভাবিক উত্তরাধিকারী হয়, তখন সে ভুলেই যায় সেও একদিন মসৃন যুবতী ছিল, তারও এক আকর্ষক কোল ছিল রাত্রিকালের জন্য, সোহাগের জন্য।
আমার আস্তানার দুয়ারে দীর্ঘকাল যাবৎ ফি রোববার যে বোষ্টম আসতো, তার সাথে দেখা হয় না বহুদিন। এসেই নাকিসুরে বলতো- ভিক্ষা দাও মা নন্দরানী, তোমার গোপালের ভালো হোক।। আর সব প্রশ্নের উত্তরেই বলতো - সঁবই গোবিন্দের ইচ্ছা। ঘরে তার বিকলাঙ্গ শিশু তবূ গোবিন্দের উপর সঁপে দেওয়া জীবন কি জানি কেমন আছে ।
আজকাল এক শাক তুলুনির আবির্ভাব হয়েছে আমার দুয়ারে। হিঞ্চে, গিমা, কলমী এইসব অবাঞ্ছিত রা থাকে তার কাছে। তার দৌড় দেখে মনে হয় কাঠে আগুন সাজিয়ে জল ফুটতে দিয়ে এসেছে , ঘরে তার অভুক্ত সন্তান। আমায় দেখে সেদিন থতমত খেয়ে থমকে দাঁড়াল, মনে ইতস্তত ভয়, আসলে আমি বোধহয় তার অবাঞ্ছিত শাকের খদ্দের হওয়ার যোগ্য নই । তারপর ক্রমে ক্রমে সে একটা বোকা খদ্দের পেয়ে খুশীই হল , আসলে শাকের প্রয়োজনীয়তা থেকেও তার আঁচলের কোনে যে শিশু উঁকি দেয় তাকে ফেলতে পারি না, অথচ শাকান্ন জোগাড় করা মাতাকে অহেতুক করুনাও করা যায় না। এ যেন বেশ এক লুকোচুরি খেলা। সেই শিশুর সাথে, সেই মাতার সাথে, নিজের সাথে।
অবশেষে পরিযায়ীরা শিকড়ে ফিরছে। সেদিন হঠাৎ শব্দ পেলাম , দৌড়ে গিয়ে জিজ্ঞেস কোরলাম - কেমন আছো ঠাকুর? এতদুর থেকে কিভাবে এলে? সেই অমলিন হাসি , সঁবই গোবিন্দের ইচ্ছা ,হেঁটে গ। হেঁটে ! প্রায় ২০-২২ কিমি পথ !
এ কোন পরিযায়ী ! ঘর ছেড়েছে গোবিন্দর ইচ্ছায় নয়, আজ পেটের দায়ে । ভাবতে থাকি, ভাবতেই থাকি , কখন সে চলে গেছে তার ভিক্ষাপাত্র নিয়ে , তবু দাঁড়িয়ে থাকি। কিছু ভাবি কি? কি জানি? শুধু কানে বাজে -
সঁবই গোবিন্দর ইচ্ছা , তোমার গোপালের ভালো
হোক ।
অর্পিতা চৌধুরী
৫
এখন ভরা জৈষ্ঠ্য , মাছেদের এখনও গর্ভিনি হওয়ার সময় হয় নাই, তাই এখনও তারা জলকেলীতেই ব্যস্ত। গৃহবন্দী মানব মানবী আজ আদিম খেলায় ক্লান্ত, তারাও হাত পা মেলতে চায় নিজের মত করে। প্রথম অনুরাগ ছিল ভালো, আজ সবই বিপর্যস্ত। শুধু এখনও টুনটুনিরা মাতৃত্বভারে ক্লান্ত হয় নাই, কি অসীম জীবনী শক্তি প্রকৃতি ওদের প্রদান করেছে, তাই মাতৃত্বের উপাখ্যানগাথা গাঁথা হয় পরপর, নির্দিষ্ট রীতিতে।সেখানে কোনো সংশয় নাই, লজ্জা নাই, বৈধ অবৈধ নাই, শুধু আছে স্বনির্ভর মাতৃত্বের যাতায়াত। এক হাতে বুনে যাওয়া ফসলের মত বিন্দু বিন্দু করে।
শুধু মানুষ প্রৌঢ়া হলে বুঝি অসামাজিক সমস্ত শব্দের উপর একটা সহজাত অধিকার জন্মায়।লোলচর্ম, লোল বসন, লোল স্তনী হতে হতে লোল জ্বিহাও যেন বয়ঃবৃদ্ধির সাথে সাথে স্বাভাবিক উত্তরাধিকারী হয়, তখন সে ভুলেই যায় সেও একদিন মসৃন যুবতী ছিল, তারও এক আকর্ষক কোল ছিল রাত্রিকালের জন্য, সোহাগের জন্য।
আমার আস্তানার দুয়ারে দীর্ঘকাল যাবৎ ফি রোববার যে বোষ্টম আসতো, তার সাথে দেখা হয় না বহুদিন। এসেই নাকিসুরে বলতো- ভিক্ষা দাও মা নন্দরানী, তোমার গোপালের ভালো হোক।। আর সব প্রশ্নের উত্তরেই বলতো - সঁবই গোবিন্দের ইচ্ছা। ঘরে তার বিকলাঙ্গ শিশু তবূ গোবিন্দের উপর সঁপে দেওয়া জীবন কি জানি কেমন আছে ।
আজকাল এক শাক তুলুনির আবির্ভাব হয়েছে আমার দুয়ারে। হিঞ্চে, গিমা, কলমী এইসব অবাঞ্ছিত রা থাকে তার কাছে। তার দৌড় দেখে মনে হয় কাঠে আগুন সাজিয়ে জল ফুটতে দিয়ে এসেছে , ঘরে তার অভুক্ত সন্তান। আমায় দেখে সেদিন থতমত খেয়ে থমকে দাঁড়াল, মনে ইতস্তত ভয়, আসলে আমি বোধহয় তার অবাঞ্ছিত শাকের খদ্দের হওয়ার যোগ্য নই । তারপর ক্রমে ক্রমে সে একটা বোকা খদ্দের পেয়ে খুশীই হল , আসলে শাকের প্রয়োজনীয়তা থেকেও তার আঁচলের কোনে যে শিশু উঁকি দেয় তাকে ফেলতে পারি না, অথচ শাকান্ন জোগাড় করা মাতাকে অহেতুক করুনাও করা যায় না। এ যেন বেশ এক লুকোচুরি খেলা। সেই শিশুর সাথে, সেই মাতার সাথে, নিজের সাথে।
অবশেষে পরিযায়ীরা শিকড়ে ফিরছে। সেদিন হঠাৎ শব্দ পেলাম , দৌড়ে গিয়ে জিজ্ঞেস কোরলাম - কেমন আছো ঠাকুর? এতদুর থেকে কিভাবে এলে? সেই অমলিন হাসি , সঁবই গোবিন্দের ইচ্ছা ,হেঁটে গ। হেঁটে ! প্রায় ২০-২২ কিমি পথ !
এ কোন পরিযায়ী ! ঘর ছেড়েছে গোবিন্দর ইচ্ছায় নয়, আজ পেটের দায়ে । ভাবতে থাকি, ভাবতেই থাকি , কখন সে চলে গেছে তার ভিক্ষাপাত্র নিয়ে , তবু দাঁড়িয়ে থাকি। কিছু ভাবি কি? কি জানি? শুধু কানে বাজে -
সঁবই গোবিন্দর ইচ্ছা , তোমার গোপালের ভালো
হোক ।
অর্পিতা চৌধুরী