Friday, January 29, 2021

অবান্তর ৩৭

   সব প্রশ্নের এক উত্তর




সব উত্তর জানার পরেও প্রশ্ন ?

সব 'না' হওয়ার পরেও উত্তর ?


এতদিন চাল ছোলা দিয়ে যে হৃদয় পুষেছি,

রক্তাক্ত মলিন করেছি তাকে।


পোষা পাখি পোষ মেনে ছিল নির্জীব,

এখন সবই 'না' শুনে হয়েছে সজীব।


হাত ঝেড়ে পা ঝেড়ে ডানা ঝাপটায়,

এখন দোর খোলার হয়েছে সময়।


চাল দাও ছোলা দাও হরি জপ তারে

আর সে থাকবে না শূন্য এ দ্বারে।


এতদিন ফাঁকা বুলি আউড়িয়ে যায়

এখন যাবার সময় ক্ষুদ খুঁটে খায়।


হৃদয়ে হৃদয় ছিল,

মনে ছিল মন,

এখন পগারপার হৃদয়রতন।


এতদিন পুষে তারে বড় ভালোবাসি,

সবই মায়া , মায়া বলে উড়ে গেল পাখি। 


Thursday, January 28, 2021

গল্পঅল্প ২

                   

                           স্বজন

শীতের কনকনে রাত, কুয়াশারা সাদা মার্কিনের ওয়াড় গায়ে ঘুমিয়ে পড়েছে সন্ধ্যাকালে, নদীর উপরের জোলো কুয়াশারা জমাট বেঁধে আছে কি এক অভিমানে। বিষন্ন ক্ষয়াটে চাঁদ কুয়াশা মাখা গায় আচ্ছন্ন। পাড়ের কাছের শ্যাওড়া গাছটায় একটা পেঁচা সবে সান্ধ্যগীত শুরু করেছে। ইতিমধ্যে দুয়েকটা শেয়ালের ছোঁকছোকানি শুরু হয়েছে এধারে ওধারে। দারকেশ্বরের কনকনে বাতাস চামড়া ভেদ করে হাড়ে সিঁধোচ্ছে। 


মড়ির চারপেয়ের উপর আয়েশ করে বসে আছে মধু ডোম, চোখ তার গেঁজে  উঠেছে ,গাঁজায়  রক্তলাল।   ঠান্ডা লাগছে কিনা তার পাথর কঠিন মুখ দেখে বোঝার উপায় নেই। ফি মাসে একবার বেওয়ারিস লাশ পোড়াবার ডিউটি তার, তাই মড়া একাই এসেছে তার সাথে। সবে আগুন ছুঁয়েছে যুবতী শরীর, গনগনে আঁচ মধুর মুখে জলন্ত অঙ্গারের মত খেলা করছে, গা সেঁকছে সে এই তাপে।


এক যুবতী ডেডবডি, বয়স ২৬, চিতায় ওঠাবার সময় লক্ষ্য করেছে মধু তার একঢাল চুল আর  সর্পিল গড়ন। অজান্তেই অভিজ্ঞ মধু কোমর আর বুকের মাপ মেপে নেয়। ঠোঁটের কোনে ফুটে ওঠে চোরা হাসি। 


একে একে স্পর্শ করছে আগুন , প্রথমেই চুল আর বস্ত্র শেষ, মধু ডোম চেয়ে আছে নিস্পলক, মনে পড়ে যাচ্ছে সোমরার বউয়ের সোমথ্থ শরীর টার কথা। তার আদরে  গলে যাওয়া বিবস্ত্র শরীর টার কথা। গেঁজেল দৃষ্টিতে দেখে সে আগুন স্পর্শ করছে যুবতী  শরীরের এক একটি আহ্লাদী অঙ্গ। স্তন, নাভীমূল, গ্ৰীবা, যোনী এমনকী বিভঙ্গ ভাঁজেদের একে একে স্পর্শ করছে আগুন ঠিক যেন মধু ডোমের ডোমনীকে আদরের চূড়ান্ত ক্ষন উপস্থিত। আগুন উস্কে দিতে দিতে নেশাতুর চোখে মন্থন করে সে।


ঠান্ডা বাতাসে ঢুল ধরে, জানে সে এখনো অনেক সময় বাকি। আগুনের তাপে, নির্জনপ্রান্তে বসে ঢুলতে থাকে সে, মাঝে মাঝে স্বপ্নও দেখে কি? কে জানে।


হঠাৎ ফটাস করে ফাটার আওয়াজে মধু ডোম সচকিত হয়, গেঁজেল চোখে তাকিয়ে দেখে আগুন তাপে বিস্ফারিত হয়েছে স্তনবৃন্ত,সমস্ত হিমেল ধারা যেন স্রোতের মত গড়িয়ে আহুতি দিচ্ছে অগ্নিকে, যেন এক পবিত্র যজ্ঞে আহুত হচ্ছে মাতৃস্তন্য। অস্থি, মজ্জা, দুগ্ধধারা একত্রিত হয়ে আগুনে ঘৃতাহুতি দিচ্ছে, ওঁ নমঃ স্বাহা।

অস্পষ্ট আলোকে এই প্রথম অভিজ্ঞ মধু ডোম অজ্ঞাতে করজোড়ে  দাঁড়িয়ে আছে, চোখ দিয়ে দরদরিয়ে বইছে অশ্রুধারা।


বেওয়ারিশের পাশে আজ একমাত্র স্বজন, মাতৃগর্ভ থেকে উঠে আসা এক আদিম পুরুষ ।


Wednesday, January 27, 2021

অবান্তর ৩৬

 

অসংখ্য শিকড়ের মাঝে একলা শিকড়ের খোঁজ,
যেখানে রোমকূপেরা মাটি খোঁজে মাটি আগলাবার,
কেঁচোরা মাটি খুঁড়ে উর্বরা  জীবনজমিন ।
অথচ কীটদ্রষ্ট শিকড় হাতড়াতে থাকে হাতড়াতেই থাকে তার ঢালু জমি শিকড় চারাবার।


ফুল ফোটে, ফল হয়, গাছ পায় মাটি , জমিন ফসল পায় অতি পরিপাটি।
তারপর ?
শিকড় নরম পায় রোমকূপ পেলে,
মুলতানি রাগ ছেড়ে দরবারী ধরে ।


মুঝে যানে দে ছাড় মোরী বৈয়া ।


শিকড় আলগা হয়  শাখাপ্রশাখায়,
অনন্তের পথে তবু চক্ষু মেলে রয়।


দূরযানী সাবধানী আরোহে অবরোহে,
হাতে তার শ্বেতপত্র সন্ধি করবারে,
খোঁজা খোঁজ রোজরোজ দমবন্ধ হয়,
শিকড়ের পত্রপাখা মূলেতে শুকায়।

Monday, January 25, 2021

অবান্তর ৩৫

 

        যৌনতা যেখানে ঘুমিয়ে থাকে



যুবতী ধানের বুকে শিরশিরে কিশোর বাতাসের আদুরে কাঁপন জাগছে নিভৃতে।
ঠিক তেমনই যুগলাষ্ঠ যখন চরম রমনীকোন ছুঁয়ে যায় পরম আদরে,
না , তখনও -
তখনও কোথাও যৌনতারা  পরম আদরে আঁচল  পাতেনি আমার  সর্বাঙ্গ শরীরে ,
শুধু মুক্তিরা এসে একে একে ছুঁইয়ে দিচ্ছিল তাদের রোমশ সিঁধকাঠি সঞ্জীবনী মত,
বরফ বাতাস ধুইয়ে দিচ্ছিল গা ।


ধীরে ধীরে বওনা সময় আরো ধীর পথ ।

Friday, January 22, 2021

অবান্তর ৩৪

     খেলনা ভেঙ্গে যায়




জুড়তে জুড়তে জুড়নখেলা, 

তবু খেলনা ভেঙ্গে যায়,



মেয়েবেলার  রাজপুত্র আনাচ কানাচ সংসার সাজায় ,

অথচ খেলনা ভেঙ্গে যায়।



নতুন নতুন খেলনা  চালচিত্র সাজায়,

মাটির পুতুল, শাঁখের নুড়ি , চু কিতকিত, ভাঙ্গা নুড়ি বাসর সাজায়,

তবু খেলনা ভেঙ্গে যায়।



এক দু আনি ভাঙ্গা খানি মূল্য অতি সাধারনী

কাঠের পুতুল, কাঁচের চুড়ি, রঙ্গিন রঙ্গিন বেলোয়ারী, 

রুপকথার ঐ ভূতপতরী স্বপ্ন বুনে যায়,

তবু খেলনা ভেঙ্গে যায়।


ইচ্ছে যখন ষোলআনা,

খেলাচ্ছলে হিসেব জানা,

ঘুগনিবাটি, আলুর কাঠি, শনপাপড়ি, কুলচাপাটি,

ছুটির পরে ফুসমন্তর,

আলুকাবলি একটু পাঁপড়,

উড়ছে ধুলো সাইকেলের ঐ কাদা মাখা গায়,

দেখো খেলনা ভেঙ্গে যায়।



প্রথম চিঠি প্রেমপত্র,

দুরদুরে বুক একটু দুপুর,

নিয়মভাঙ্গা ঠোঁট দুখানি

কমলালেবূ রোদ বাখানি,

মুখ টেপা রাগ লাজুক লতা,

আঙ্গুলে আঙ্গুল জড়িয়ে লতা

মুচকি হাসি ফিচেল কোনে

আবার দেখায় মন যে টানে।

থাক সে কথা, এখন বলো

বাঁচো মর কেবল চল।



চলতো যখন, ভাবছো তখন,

ভাবছো যখন হাঁটছো তখন,

খাচ্ছো যখন দেদার খাবি,

সামলে চল, সামলে চল



মাঝদরিয়ায় উঠলে তুফান

খেলনা তখন ভেঙ্গে দুখান,

সামাল সামাল রব উঠেছে,

সামলাতে কেউ নাই রে,

খেলনা যখন নিদেন আছে,

ভুলিয়ে দেনা ভবিষ্যতে,

তারপরেতে ?

নাইরে।




শুধু খেলনা ভেঙ্গে যায়।



Saturday, January 16, 2021

অবান্তর ৩৩

      অনন্ত জীবনের প্রশ্ন খুঁড়ি





এখনও রাত সাঁঝালে অনন্ত অপেক্ষায় থাকি,

হে মহাজীবন, হে দুর্ণিবার 

তোমাকে প্রনাম,

এমন অমানিশা ঘনিয়ে তোলার জন্য ।



এখনো রাত্রি ঘোর মহাবৃক্ষের তরে ,

বোধি বুদ্ধ সমাহিত, একত্রিত আমার সম্মুখে

আমি, আমি মাত্র, জড়ভরত, সমাধিস্থ।



সেই ক্ষন থেকে কত আলেকজান্ডার পুরু,

রয়ে গেছে মানবী চরিত অরচিত।

আজ সমাধিস্থ তারা একে একে উঠে এসে ,

প্রশ্ন খোঁজে,

চিৎকারে কেঁপে ওঠে নিমিলিত প্রান,

জন্মজন্মান্তরের পূর্বাভাস আজ উপ্ত হয়েছে বপনের তরে,

কান্ডারী জাগো, নয় ভাগো।


অবান্তর ৩২

 

                        সংকলন
     

একটা রাত গভীর কান্না,  শুষে নেওয়া দুই অশ্রুবিন্দুর গভীর আশ্লেষ, চোখ বন্ধ করা ভরসা, একটা নিশ্চিন্ত কাঁধ, বৃষ্টিভেজা ফ্যাকাশে হাত, আর নির্ভার দুটো ঠোঁট সমগ্ৰ গল্পমালার গ্ৰন্থিত সূচিপত্র যেন

এলোমেলো অগ্ৰন্থনের পর সুসজ্জিত গল্পমালায় নীতিকথা রূপকথা হয়,

তখন দিন কি রাত, ঘটন অঘটনের দিনলিপিরা লিপিমালায় অযূতবন্দী।

তোমার সমস্ত চাওয়া তখন হঠাৎ পাওয়ার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে রাজবেশে ।

অথচ সুসজ্জনের তখনো তোমার ঢের বাকি।
আলুথালু বেশে গ্ৰন্থিত ছন্দের সামনে তুমি দর্শক কি কুশীলব , বোধশুন্য।

চোখ তখনো বন্ধ অথচ মন খোলা অনন্ত পারে।
অন্তিম প্রেম তখনো অনন্তে ভেসে যায় ঊর্মিমালার মত।

ডোম্বি শবর তোঁহারি লাগিয়া।

Friday, January 15, 2021

অবান্তর ৩১

                      শুশুকডুব



রাত গভীর হলে ভালোবাসার নক্ষত্রেরা ঝরে পড়ে টুপটাপ করে ঠোঁটে , গালে ,

জন্মনাভিতে।

সেখানে শুশুকডুব দিতে দিতে একটা একটা করে মুক্তোবিন্দু ছেনে আনো তুমি, 

জন্মরহস্যের মোড়ক খুলতে থাকো নির্মমভাবে।


প্রতিটা মোড়ক খোলার পরেও রহস্যসঞ্জাত স্থান আরো দুর্গম হয়, আরো গভীর অন্ধকার।

অন্ধকার ছেনে আনতে রহস্যে ফের ডুব দাও তুমি,

আবার রহস্য ছেনে ছেনে  মাটি খুঁজে ফের মানবী শরীরে,

ডুবুরির মত।


অবান্তর ৩০

 একটা কান্নার এখন বছর তিনেক বয়স ,

অথচ এখনো সে ঝরতে থাকে, ঝরতেই থাকে ,

প্রথম দিনের মত।

তাহলে একি কান্নাপাখি , রাতচরাদের মত কেঁদে কেঁদে বেড়ায় , তারপর ভোর হলে বিলীন হয় ।

নাকি সুখ অ -সুখের দ্বন্দ্বে এও এক অলীকপাখি ,

অন্তিম প্রেম অনন্তে মিশে যায় ।



তাই ,

আভোর  ফটিকজলেরা ঘুরে ঘুরে মরে অনন্ত পিপাসায় ।

ঝর্নার ঝরনগীতি,  নতুন ফল্গু ধারার জন্ম দেয় , 

সে শুধু উষ্ণ প্রস্রবন, শুষে নিতে হয় আলতো করে ,আদরে সঙ্গীতে।



তারপর মাঠে মাঠে যুবতী ধানেদের বুক ভরে এলে কপোত কপোতী মত খুঁটে খেতে হয় খুদ , বারেবারে সারাদিন,

সূর্যও ক্লান্ত তখন, মেলা হাটে বাটে , বাড়ি ফেরার দিন ।

অথচ ক্লান্ত ধূলিকারা পদচিহ্ন চায় কার ,

ধূলিসিক্ত পাঁপড়, পড়ে থাকা খেলনা , বেলুনেরা উড়ে উড়ে যায়।




ভাঙ্গছে মিলন মেলা,

পুরাতন প্রস্তরেরা  শূন্যগর্ভ নিয়ে আবার বচ্ছরকার প্রতীক্ষায় প্রস্তুত,

পিতৃস্কন্ধে চেপে আছে শিশু নিখাদ ভরসায়,

জানেনা সে এ ঋণ শুধবে কিসে।



শুন্যগর্ভ নদীতীরে সরষেরা আঁচল এলিয়েছে রূপবতী মত,

তারাও জানেনা কত কথা তোমার আমার মত ।

তাই মধ্যরাতে ঝরে পড়ে যায় পূর্ণতার তরে অনন্তের পথে।

আরো একটি বছর পার ক্রন্দন পূর্ণতার,

রাতচরা হেঁকে যায় ,

ঝর আরো ঝর, 

নচেৎ - - - - -


Friday, January 8, 2021

অবান্তর ২৯

 

     দেখা হওয়ার পরের গল্প

অনন্ত অপেক্ষার পর যখন সত্যিই আমাদের দেখা হবে,
তখনও ঠিক তখনও আমরা অনর্গল বকে যাবো, অশ্বডিম্ব প্রসব করে।
অথচ আমাদের মনের ভিতর তখন ধু ধু করা আগুন জ্বলছে, ছুঁয়ে থাকার , কাছে থাকার।
তারপর ,পরিপাটি গল্প ফেঁদে আবার আমরা নিরক্ষরেখায় পাড়ি দেবো।

Wednesday, January 6, 2021

অবান্তর -২৮

 

       অনন্ত অপেক্ষায় রাজি আছি

সোনালী মূহুর্তরা একবারই আসে পৃথিবীতে অশরীরী হয়ে,
আবার হাজার বছর অপেক্ষা করতে পারি সেই নিশ্ছিদ্র ক্ষনের জন্য,
মরে যেতে?
তাও পারি বুঝি এখন এক আলোমুখো দিন পেলে।
বুদ্ধ ফিরেছেন পাশ, যীশু হাসে ক্রুসেডের তরে, আর সব যার যা কফিনে বন্দী পরিপাটি ,
ধ্রুপদ জীবন ।

তারপর আর কিবা বাকি থাকে বল,
ঈশ্বর যখন ঈশ্বরী বেশ ধারন করে অঙ্গাঙ্গী হন,
তারপর শুধু পড়ে থাকে শুকরী জীবন, নামমাত্র ধারনের তরে।

তখনও নেমেছে রাত নীলগাত্রে,
রাতপরী শুরু করেছে তাদের চরকী পাক
ধীরে ধীরে চাঁদ হাত বাড়িয়ে চাঁদ ধরতে চায়,
চরকাবুড়ি অবিরাম পাক দেয় সুতায় ,
ঊর্ণনাভ জাল গুটাচ্ছে এখন,
গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন বিছানা স্বপ্ন দেখে ,
আবার নেমেছে রাত পাহাড়চূড়োয় মনের মতন।

Tuesday, January 5, 2021

অবান্তর ২৭

 বুনো তুলসীর বীজের মত ভালোবাসা ছড়িয়ে দেব সোঁতা মাটিতে।

নরম মাটির আদরে ভালোবাসারা  বেড়ে উঠবে ফনফনিয়ে,

বীজ ফেটে ছড়িয়ে পড়বে ভালোবাসা পেঁজা তুলোর মত,

বুনো ঝোপের ডালে, বেড়া কলমীর ডগায়।

জল পেয়ে , মাটি পেয়ে গাছ তার শিকড় ছড়াবে,

যেমন ছড়ায়  মর্ত্যের সোহাগ আদরে বেরাদরে ।


Sunday, January 3, 2021

অবান্তর ২৬

 




        

      প্রাসঙ্গিক


আমরা বড় প্রাসঙ্গিকে বাঁচি

দুহাত বাই তিনহাত বেড়ে খুশি,

জীবন এখন বড্ড পরিপাটি

ব্যালকনিতে মানিপ্ল্যান্ট পুষি।


দরজা বন্ধ জানলা এখন খোলা

বাইরে উদার মনে কড়াকড়ি ,

বন্ধ কপাট , সদর দরজায় লিখি,

অতিথি তুমি দেব ভবময়।


উঠোন এখন ফ্ল্যাটের ব্যালকনিতে

সাজায় গোজায় পরিপাটি ভাঁজে

আমরা এখন বড্ড এলোমেলো,

রাতদুপুরে হাতড়ে বেড়ায় মাটি।


প্রেমের মধ্যে ভীষন কোলাহল,

নিক্তি মেপে নিড়েন দেওয়ার চল,

পাশা খেলার মত গুটির চাল

তক্ষকেরা করছে বাজিমাত।


হাতের উপর হাত ছুঁয়েছে যেই,

শূণ্য বিকেল আর তো মনে নেই

কোথায় পাবো শ্যামলা নদীর ধার

পড়ে আছি শীতের বালিশেই।


গল্প বলো আবার কথা কব,

শূন্য হৃদয় আধেক হৃদয়পুর

একজীবনে শূন্য সবই হলে

ভালোবাসবো সপ্ত সমুদ্দুর।