Friday, June 24, 2022

অবান্তর ১১২ জীবন

            জীবন


এমন একটা গোপন কান্না থাক
থাক একটা গোপন কোনো বুক
গোপন কাঁধ ভরসাদার সুখ
গোপন ব্যাথা তবু একটা থাক।

গোপন রেখা নাই বা প্রকাশ হল
তুমিও হও গহীন গভীর বন
আমিও হব স্রোতস্বীনি নদী
তটেই হোক হৃদয় উদযাপন।

Thursday, June 23, 2022

অবান্তর ১১১

 শ্রাবন কথা


     হৃদয় তো ধূসর
তুমি সবুজ দেখো বলেই সবুজ হয়।
ধূসর মাটি লাল কাঁকুরে তপস্বীনি,
তবু সিঁদুর রঙা বিকেল এলেই বিবাগী মন উদাসিনী।

নীলদরিয়ার সবুজ পানি বুকের মাঝে ঢেউ,
ধূসর মাটি জল ভাঙ্গছে সঙ্গে নেই তো কেউ।
সবুজ বনের ধূসর ছায়া মনের কালো মেঘ,
দেখা হলেই বর্ষা নামে উপচে পড়া আবেগ।

ঢেউয়ে ভাসবো কুলে ভিড়বো পথ যে পথে হারাই,
শ্রাবন এলেই বর্ষা কেন এমনতর হয়?
মনের কোনে মেঘ জমেছে ঘরে থাকা দায়,
ঈশান কোন স্পষ্ট ভীষণ দুয়ার আঙ্গিনায়।
ধূসর জলের ঘূর্ণি এখন স্রোতের বেগে ধায়
সবুজ বন আঁকড়ে ধরে দূর্বাঘাসের ছায়।

কাঁকুরে জল নামছে ভীষণ নাবাল জমির গায়,
নিংসঙ্গ হাত কোল পেয়েছে মনের আঙ্গিনায়।

অবান্তর ১১০ শ্রাবন

    শ্রাবন


শ্রাবন নেমেছে, 
রোদমেঘলায় দেখা হল আমাদের।
প্রতীক্ষিত, অস্থির নয়।
এ যেন নিশ্চিত প্রতীক্ষা,
অবধারিত আসার।

বলেছিলে খুব ঝগড়া করতে চাও!
দেখা হওয়া খুব জরুরী।
বুঝলাম একান্ত করে সময় চাইছো, নিজেদের মত,
অনেকদিনের পর বদ্ধ শার্সিগুলো সবুজ পেতে চাইছে।

দেখার পরের গল্পটা ?
হৃদয় ঝরলো, মেঘ রোদেতে শ্রাবন হাসলো,
সব কথা শূন্য হল দশ আঙ্গুলে।
বাকি ঝগড়া ভাদ্রের রোদে জমা থাকলো।

আসলেই আজ শ্রাবন এল শেষ বিকেলে।

অবান্তর ১০৯ দূস্তর

        দূস্তর

তোমাকে না বললে জীবন থেকেই দূরে যাই ।
অথচ হ্যাঁ তে লোভ বাড়ে।
অস্ত্যর্থক আর নঞর্থকের ফাঁক কিছুতেই বোজে না।
মনকে বোঝানো বড় দায়।

                                        
                        অর্পিতা

Monday, June 13, 2022

অবান্তর ১০

 

               হলুদ হেমন্ত

এমন হেমন্ত আসেনি কোনোদিন
এমন হলুদ হেমন্ত।
এ তো বার্ধ্যকের ঝরা পাতা নয়, এ তো আগত যৌবন,
তবু হাতে হাত রাখা হয়নি কতদিন
অথবা কচি শিশিরের ঘ্রান মৃদুতা হারিয়েছে বহুকাল,
হলুদ ফুলেরা পাক ব্রীড়ায় ঠোঁট ফোলায় অজানা উত্তাপে
হয়তো বা আগত পৌষে সমস্ত উষ্ণতা শুষে নেবে উষ্ণতার জন্য, নয়তো ফাল্গুনে।
তবু হেমন্তের গুটি গুটি প্রস্থানের আগে ভীরু চোখে ইতিউতি চাওয়া প্রেমিকের প্রস্থানের মত,
স্বপ্নচিহ্ন রেখে যাবে আরো দুরতর হেমন্তের।

শুধু  তখনও কথা রাখার কথা থাকবে না কানে কানে,
কিংবা মনে মন জানে বলে কোনো কথা বাকি নেই আগত বসন্তে।
তাই এমনি চলে যাবে অনাগত অতিথির মত ঝোড়ো বাতাসের মত উড়ে উড়ে।
অথচ তখনো শালবন, লালমাটি তোমার হলুদ রঙ্গে রাঙ্গা বৌয়ের মত লজ্জাবতি,
কুসুমিকা তার সর্ব অঙ্গে রতির আরতি।
অথচ চোখে কোনো আশা নাই , মুখে নাই ভাষা
হৃদয়ের মুখ নাই, নাই ভালোবাসা।

তাতে কি সে প্রেম কমে?
যে প্রেম করেছে মোরে শীতের বৈরাগী।
খড়িওঠা পথে, ধুঁন্দুলের ছালে, নতুন গুড়ের আখনিতে মন বারে বারে ফেরে খঞ্জনী ধুলায়।
রসখড়ি ওঠা মন , কে করে যতন, অজয়ের কূলে, বৈরাগীনি সনে,
সারারাত আগুনে শরীরে ওমের পর শিশির রোদ কচি প্রেমে জাড় করে।
নতুন সে প্রেম সখি , আদুরে বেড়ালের মত ওম খুঁজে ফেরে, ঘোরে পায়ে পায়ে অচেতনে,সযতনে।

যতই ফেরাতে চাই, ততই জড়িয়ে ধরে  বারেবার, ক্ষনকাল মাত্র না ছাড়ে।
আধেক আমার প্রিয় আধেক তোমার যাতায়াত বারেবারে বেপথু করেছে আমায় ।
শীতের ওমের মত তাপ খুঁজি জানু ও জঙ্ঘায়,
স্বপ্নে কিংবা স্পর্শে হোক, সে তো একান্ত আমার,
প্রৌঢ় হেমন্তের তরে লেপ দিই মেলে শীতের উত্তাপে, বলি ভালোবাসো, ভালোবাসো,
             দীর্ঘ বাসো যারে ।

,

অবান্তর ১ যোনীসম্ভূতা

  

যোনীসম্ভূতা


ধর্ষন .......

যেন ভালোবাসার প্রতিশব্দ  ,

সিলমোহর পড়ছে  দুমদাম করে।

বেশ উপজীব্য খেলা।

কাল অথবা হয়তো আজকেও কোনো পিতা শিশুকে ভোলাতে ধর্ষন ধর্ষন খেলা খেলবে, 

তারপর হাতের কাজ সেরে এসে আর একবার খেলবে বলে সান্ত্বনা দিয়ে হাতের কাজ সারবে।

কিংবা কোনো নামধারী বিপরীত লিঙ্গ , চিপসে কামড় দিয়ে বলবে -

উঃ বোর হয়ে গেছি, চলো একটু ধর্ষন ধর্ষন খেলে নেওয়া যাক।


অবান্তর ১০৮ পুরুষ আমার কেউ নয়

পুরুষ আমার কেউ নয়


যে পুরুষকে ভালোবেসেছিলাম কৈশোর দিয়ে,
সে যখন দায়িত্বের কথা বলেছে,
তাকে ক্ষমা করেছি।

যে পুরুষকে বিবাহে জড়িয়েছি,
বুঝলাম সে শুধু এককোল ছাড়িয়ে আরেক কোলে এসেছে-
হলুদগন্ধী আঁচল খুঁজতে।

যে পুরুষকে হৃদয়ে বেঁধেছি,
সেও মনকোল খোঁজে।
আমি যখন মূর্ঝিত হই,
সেও তখন অস্তমিত হয়।  

Friday, June 10, 2022

অনুগল্প

           অনুগল্প


শেষ বিকেলে প্রেমিক পুরুষটি তার প্রেমিকার হাতে হাত রেখে বললো, তুমি তো আমার দায়িত্বের কথা জানো, আমি তো তোমাকে কিছুই দিতে পারবো না। মেয়েটি হাসলো।


নার্সিংহোমের এগারো নম্বর বেড, এক ষাটোর্ধ্ব  মহিলা বেডে বসে আছেন , সামনে তরুন ঝকঝকে স্মার্ট ডাক্তার খসখস করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ লিখে যাচ্ছেন দ্রুত। সঙ্গে শত ব্যস্ততায় উপস্থিত নার্সকে কিভাবে ক্যানসারের কেমোর ডোজ ঠিক করতে হবে তার প্রয়োজনীয় উপদেশাবলী দিচ্ছেন । নার্সটি একবার মিনমিন করে বলার চেষ্টা করলো, কেমো শুরুর সময় যদি তিনি একটু উপস্থিত থাকতেন। ডঃ ঘোষের এখন সময় নেই অন্য নার্সিংহোম থেকে সমানে ফোন আসছে তাই নার্সকে গুরুত্ব না দিয়ে রুগিনীকে চোখের  কোন দিয়ে একবার জরিপ করলেন, বৃদ্ধ হলেও একমাথা কোঁকড়া  চুল তার নজর এড়ালো না। এটি তার সেকেন্ড কেমোথেরাপি, অবজ্ঞার সুরে টাকা গুনতে গুনতে বললেন , জানেন তো আপনার এই কোঁকড়ানো চুল গুলো আর থাকবে না, সব ঝরে  গিয়ে ন্যাড়া হয়ে যাবেন।প্রথম ডোজে পড়েনি তবে সেকেন্ড ডোজের পর ঝরে যাবে।বলেই দ্রুততার সঙ্গে বললেন, সঙ্গে তো কাউকে দেখছি না, নামটা বলুন, লেখাপড়া জানেন তো না কি? 

ভদ্রমহিলা ক্লান্ত দৃষ্টিতে তাকালেন একবার, তারপর মৃদু হেসে ঋজুকন্ঠে বললেন ডঃ আরাত্রিকা মজুমদার, গাইনোকোলজিস্ট আ্যন্ড অবসষ্ট্রেটিক্স, স্পেশালিষ্ট ইন ইনফার্টিলিটি।

অবান্তর ১০৭ ফোনকল

            ফোনকল


অনেক দিন পর বৃষ্টি নেমেছে
বোশেখের গনগনে পুরুষ বৃষ্টি নয়, 
জৈষ্ঠের নারী বৃষ্টি।
সব কেমন লজ্জা পাচ্ছে দেখতে পাচ্ছো?
বহু প্রতীক্ষিত দেখা যেন
আদরে সোহাগে লজ্জায় জড়জড়
অথচ সুন্দর।

আজ পাহাড়টিলাটার মনেও কুয়াশা ফুটেছে
মেঘকুয়াশার ধোঁয়াশা সরিয়ে বৃষ্টিকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নিচ্ছে গায়, কামরাগে।
ভিজছে, সবাই ভিজছে,
প্রতীক্ষিত অবগাহন।

অনেক দিন পর একটা ফোন এল
কেমন আছোর বার্তা,
বহু প্রতীক্ষিত।

অনেক দিন পর বৃষ্টি নেমেছে .....

অবান্তর১০৬ শ্রাবন

         শ্রাবন


ঠোঁট থাকবে ঠোঁটের উপর
হাতে থাকবে হাত,
বন্ধু আবার দেখা হবে
আসছে শ্রাবন মাস।

চোখের উপর চোখ থাকবে
জল ঝরবে আঝোর,
সুখের দিনে আবার এক
দুখের বীজ রুই।

অঝোর ধারে শ্রাবন আবার
ভিজিয়ে দেবে গা,
স্পর্শ পাবো মাতাল প্রেমের,
ভিজিয়ে দুই পা।

শ্রাবন তুমি পুরুষ ভীষণ
এলোমেলো ঝড়,
বুকের ভিতর টুকরো মেঘের 
কান্না খোঁজো কই?

তোমায় ছুঁয়ে সুখ খুঁজি কি দুখের বীজ বুনি,
তবে এবার দেখা হবেই মনে মনে জানি।




অবান্তর ১০৫ স্বীকারোক্তি

       স্বীকারোক্তি


স্বীকার করতে দোষ নেই।
এখনও তুই হারিয়ে গেলে,
আমি এলোমেলো হই।

এত অভিমান  মেঘের কোলে ডুব দেয়।
যখন তুই হারিয়ে যাস,
আমিও  বানভাসী হই।

হাতড়াই না তোকে, নিজেকেও।
অথচ  হারিয়ে যাই,
আজও এলোমেলো হই ।

প্রলাপ, বিলাপ, আলাপ, কূতুহল
কোথায় যে যায় !
অথচ সবই নিজের মধ্যে রয়,
তবু যখন তুই লুকিয়ে যাস,
আজও যাযাবর হই।