Sunday, November 5, 2023

অবান্তর হেমন্তের হলুদেরা

   হেমন্তের হলুদেরা 


হেমন্তের হলুদেরা ঝরে পড়ে আমার উঠোনে ঝরা শিউলির মত চুমু দেয় আমার নাকের পাতায়, কানের লতিতে
আমার স্তন,নাভি যোনী ভরিয়ে দেয় হলুদে হলুদে।

কত হলুদ!
তারা কেউ লাল, কেউ নীল, সবুজ, বেগুনি।
উজ্জ্বল হলুদের ভিড়ে বিবর্ণ হলুদও থাকে মিশে 
শিশিরে শিশিরে ভিজে তারা আরো সবুজ হয়,
যেন মাতৃজঠর ত্যাগ করা উজ্জ্বল শিশু,
এখুনি ছড়িয়ে পড়বে সমস্ত আকাশে।

Thursday, November 2, 2023

অবান্তর১৪৭ হলুদ হেমন্ত

 হলুদ হেমন্ত

হলুদেরা  চলেছে বানপ্রস্থে
তাদের গায়ে ছিটা ছিটা রক্তের দাগ, 
ও দাগ আজীবন জীবন সংগ্ৰামের,
সংসারে অচল জেনে সময়ের আগে ওরা ছেড়ে চলে গেল।

ওদের রক্তিমতা লজ্জা নয়, কঠিন সংগ্ৰামের রক্ত ক্ষরন, যাকে সৌন্দর্য বলে ভুল হয়।

শিশির ধানকে যুবতী ঘোষনা করে ফিরে গেল যার যার ঘরে।
শুধু আমি -
শুধু আমাকেই -
তুমি ডেকে ডেকে ফেরো পথে পথে,
হাত পা ছড়িয়ে সংসার সংসার খেলি উঠোন জুড়ে।

Thursday, September 14, 2023

অবান্তর১৪৬ ইচ্ছে ৩

    ইচ্ছে ৩



একটা উদ্দাম প্রেম চাইছি ।
অশরীরী আত্মা যেমন করে ভর করে, তেমনি।
চাইছি  আষ্টেপৃষ্টে শরীরে শরীর জড়াতে  রমনে রমনীয় দুর্দমনীয় প্রেম।
হে রম্য পুরুষ -
আসলেই ক্লান্ত আমি
মুক্তি চাইছি আত্মার কাছে।

Wednesday, September 13, 2023

অবান্তর ১৪৫ ইচ্ছে ২

          ইচ্ছে  ২


একটা দুরন্ত শরীর জাগছে !
দুরন্ত দুর্দান্ত অনতিক্রম্য ছন্দ জাগছে  বহুদিন পর।
ঘুম ভাঙছে !
মাতাল হচ্ছি , যত তোমাকে দেখছি।

অথচ -
এখন ডিউটির সময়,
কি বিস্ময়!
অন্তরে বাইরে এখন কাম খেলা করে।

গন্তব্যে ফিরতে হবে
জানলা খোলা, ভাদ্রের ভদ্রতায় চোখ ঢুলুঢুলু
বাস ছুটছে কাশ পেরিয়ে।
স্বপ্ন আসে, মাঝেমাঝে চটক ভেঙ্গে দেখি গন্তব্য শেষ হল কিনা।

Tuesday, September 12, 2023

অবান্তর ১৪৪ ইচ্ছে ১

    ইচ্ছে ১

পালস রেট কমছে
মলমূত্র কফে বমিতে জড়িয়ে ধরছে দেহ
নিঃশ্বাস নিতে গিয়ে প্রশ্বাসেরা টুঁটি টিপে ধরছে,
পারলে এক্ষুনি নিংড়ে নেবে প্রান।

দাঁড়িয়ে আছে প্রিয়জনেরা
পরিজনেরা দর্শক হয়ে,
তাদের চোখেমুখে চিন্তার ভাঁজ।
আই সি ইউর নীলবাতি জ্বলছে
মনিটর জানান দিচ্ছে -
আছে আছে, এখনো প্রান আছে।

এখানে তোমার করার কিছু নেই,
তোমাকে কেউ চেনে না,
তুমি ওদের কেউ নয়।
মনিটর আগলে বসে আছে সবাই
ঐ ই এখন আশার প্রদীপ।

সব চলছে যথাযথ,
যেমনটি  হওয়া উচিত ,
অথচ  মনে পড়ছে তোমাকে !
 তবু তোমার কিছু করার নেই 
তোমাকে কেউ চেনেনা এখানে।

      স্থান - সেবাসদন নার্সিংহোম, বাঁকুড়া 

Sunday, September 3, 2023

অবান্তর ১৪১ দেওয়ার মত কিছুই নেই

       দেওয়ার মত কিছুই নেই 


তোমাকে দেওয়ার মত  আর কোনো প্রান্তর নেই আমার 
ভিজে ভিজে দীর্ঘ হচ্ছে গাছ
অথচ, ধূসর সবজে কুয়াশা মেখে দাঁড়িয়ে আছে ঝাপসা হয়ে ।
ঝাপসা ধূসর ঘোলাটে হরিদ্রাভ সবজেরা জায়গা করছে ক্রমে ক্রমে।
বর্ষার গাছ বলে তাদের আর চেনা যায় না।


তোমাকে যে একটা উন্মুক্ত প্রান্তর দেব-
তাও নেই আমার 
যেখানে  হাত পা ছড়িয়ে আড়মোড়া দিয়ে বসবে,
অতর্কিতে ঝাপটে ধরে ঠোঁটে চুমু আঁকবে
কিংবা জড়িয়ে ধরে ঝরনা হবে আষ্টেপৃষ্ঠে।



অতি বড় সামাজিক হলে কি  প্রেমিক হওয়া যায় ?
সেখানেও হাজার জোড়া চোখ কানামাছি খেলে! ডাঁশ মশা ওড়ে।
তোমাকে একটু বেশী করে যদি অসামাজিক গড়তে পারতাম!
সে ক্ষমতাও নেই আমার ।

Wednesday, August 30, 2023

অবান্তর ১৪০ কথা ছিল আগুন হওয়ার

    কথা ছিল আগুন হওয়ার 


তুমি যখন আকাশ ভরা দুঃখ ছড়াও 
তখন আমি বারুদ ভরা নৌকা ভাসাই ।
চোখের থেকে আগুন ঝরে,
ভিতর বাহির খাঁ খাঁ করে-
জল ঝরে না, মাঠ ফাটে না, 
অশ্রুরা সব বাস্প হয়ে এক নিমেষে -
পাড় খুঁজে পায় তেপান্তরে।

তখন আমার ক্রোধই সঠিক
আগুন নারীর আগুনে আঁচ
পুড়িয়ে দেওয়া  নিয়ম মাফিক।

কিন্তু যত বেনিয়মের হিসেব নিকেশ চুকিয়ে দিয়ে,
আমি তখন দুঃখ খুঁজি
তোমার জন্য গাছ বসিয়ে,
তোমার জন্য দুঃখ খুঁজি।
আমি তখন তুমি হয়ে 
ব্যাথার প্রলেপ শিশির খুঁজি।

অথচ তখন কথা ছিল আগুন হওয়ার,
কথা ছিল ভাঙ্গন তারার দেবী হয়ে
তেপান্তরের মাঠ পেরোবার।
কোথায় আগুন!
তোমার কথায় তোমার জন্য দুঃখ ঝরে।
কথারা সব তোমার মুখের আদল ধরে,
যুক্তিরা সব তোমার দিকেই যুক্তি করে ।

তখন আমি ভীষণ একা ,
দুঃখ গুলোও একলা হতে ভয় করে,
ওরাও তখন তোমার হয়ে তোমার জন্য সওয়াল করে।
একলা করে।

Thursday, August 24, 2023

অবান্তর দুঃখযাপন

       দুঃখযাপন

দুঃখ দেওয়ার সময় হলে এসো,
আসনপিঁড়ি জলচিহ্ন  সাজিয়ে রাখবো সযতনে।
সদর দরজা খোলা রাখবো-
যত খুশি দুঃখ দিও।
জমিয়ে রাখবো তিলে তিলে যত্ন করে
একলা যাপন একা কৌটোয় ভরে রাখবো খুব গোপনে।
তিলে তিলে ভর্তি হলে শিশির ঘাসের প্রলেপ দেব।

হৃদয় ছুরির ধার শানাবো
কলজে কেটে নতুন করে বুলেটপ্রুফের হৃদপিন্ড লাগিয়ে নেব।
তখন তুমি দুঃখ দিও ইচ্ছেমতন,
বৃষ্টি হয়ে ঝরে যাবে এক নিমেষে।
মনকে তখন সবুজ দুঃখে রাঙিয়ে নেব
ঠিক বিকেলে।

Tuesday, August 8, 2023

চিঠিপত্র ২২শে শ্রাবন

        চিঠিপত্র                        ২২শে শ্রাবন 


আমাদের মধ্যে একটা দাম্পত্য আছে, এক বিবাহ আছে। বিবাহ মানে তো শুধু বহন নয়, তা মননও বটে। একসাথে থাকা হল না বলে, মাছের ঝোল ভাতের জীবন হল না বলে তা বহন নয় এ ভাবনা অমূলক, বরং এই যে ঘিরে থাকা, খেয়াল রাখা, দূরে থেকেও আগলে রাখা এই তো বিবাহ, এর নাম ভরসা। এ ভরসা তো কাউকে হঠাৎ হয় না, এ ভরসা সবার উপর জন্মায় না,বরং বলা ভালো বিশেষ না হলে কারোর উপরই জন্মায় না।আমি আশা না করতেই পারি কিন্তু এই ভরসাটুকুই বন্ধন, বিবাহ। এই যে দূরে থেকেও কাছে থাকা, মনে মনে ছেয়ে থাকা, মেঘের গায়ে আঁকিবুকি আলাপন, এই যে তুমি আছো, নেই এর রাজ্য, এও তো বিশেষ রূপে বিবাহ, বহন। আমাদের একসঙ্গে থাকা হল না বলে, একসাথে চলা হল না বলে আমরা একে অপরকে অতিক্রম করে গেছি তা তো নয়, বরং দৈনন্দিন লেনদেনের ঘটিবাটি না বাড়িয়ে  নির্ভার পথ চলা এও এক চলা বৈকি ,একসাথে না থেকেও ভালো রাখা, এও এক বন্ধন বৈকি। এ বন্ধনে কোথাও বাঁধন নেই অথচ জড়িয়ে আছো সর্বত্র আকাশে, বাতাসে, জলভরা বরিষনে, শ্রাবনে -
                    ইতি 
                     মেঘদূত 

Thursday, July 27, 2023

অবান্তর কি জানি

       কি জানি 


আবার যদি বিষাদ জাগে কোনে
যাবার দিন এগিয়ে আসে কাছে
তখনও তেমন চুপটি করে আমি,
রাখবো মনে-
আমরা দুজন ছিলাম না তো ভালো,
মূহুর্তরা অমর হয়ে আছে।

Wednesday, July 19, 2023

অবান্তর ১৩৮ অসংলগ্নতা

    অসংলগ্নতা 



ভালো থাকবো বলে চোখ বন্ধ রাখি, 
মন বন্ধ রাখি, জানলা বন্ধ রাখি
তবু মন বাঁধতে পারি না।


ভালো থাকা, ভুলে থাকা
থাকতে চেয়েই ভুলতে চেয়েছি।
অথচ সারাদিন তোমার কথাই ভাবছি।

ভালো আছি 
এ অহং, সর্বৈব মিথ্যে।
আসলে মনের কাছে মনের বাজি রেখেছি।

পড়ে যাওয়া, উঠে দাঁড়ানো
উঠতে, পড়তে
গন্তব্যই হারিয়ে ফেলেছি।

Monday, July 17, 2023

অবান্তর ১৩৭ মেঘদূত কাব্য

     মেঘদূত কাব্য 


তোমাকে ছুঁতে চেয়েছি বারেবারে
অথচ আকাশের দেওয়ালে তুমি লিখেছো
মরে গিয়ে জমে আছি মেঘ হয়ে।

বলে রাখি, হৃদয়ের এক কোনে সাহারা বিছিয়ে রেখেছি ,
এক টুকরো অভিমানী মেঘের কারনে।

Friday, July 14, 2023

অবান্তর ১৩৬ গল্পহীন গল্প

 গল্পহীন গল্প


জীবন গল্পহীন হলে
আকাশ ঘিরে নেমে আসবে মেঘ
গল্পের ভেতর কবিতারা চুপ করে বসে শুনবে
চরকা বুড়ির গান, 
কবিতার চরিত্ররা হয়ে যাবে দেবদূত, 
ডানা মেলে তারা উড়ে যাবে অর্ফিয়ূসের খোঁজে।
মেঘেরা উড়তে উড়তে ডানা ঝেড়ে শুকিয়ে খানিক নেবে,
হাঁসের দল নকসী গান গাইতে গাইতে হারিয়ে যাবে,
অভিমানী আকাশ চুপ করে বসে থাকবে চোখের তারায়,
তার চোখে মরমীয়া গান, মনে শ্যাম।


তুমি আমির কাব্যে তখন শুধুই ভিড়
কালো কালো মাথা, গিজগিজে পা, শশব্যস্ত সকাল।
মেঘেরা কখন যেন চলে গিয়েছে অপেক্ষা করে করে।
পড়ন্ত বিকেলে তারই দুএকটা রুপোলি দাগ ছাপ রেখে গেছে উঠোনে, অবেলায়, কালবেলায়।

Saturday, July 1, 2023

অবান্তর ১৩৫ ঊষ্ণায়ন

    উষ্ণায়ন 


বর্ষা এলেই সবুজ হয় গাছ
যত দূরেই যাও 
ভিজে হাওয়া, সোঁদা গন্ধ, নাবাল জমি,
মাঠের জল, পাতার চিকন মনে করায় 
তুমি, তোমাকে!
ঐ তো হোথায়, ঐ তো এখানে,
আসলেই এক অয়নবৃত্ত ।


বাঁচতে হলে দুর্দান্ত ভাবে বাঁচো
আছাড়ি পিছাড়ি বাঁচো
বাঁচো মরো যা পারো করে বাঁচো
গভীর  বিশ্বাসে  বাঁচো -
একবার মরে গেলে বেঁচে যেতে পারি
বারবার মরে যেতে নয়।

ভালোবাসো 
বাসতে হলে অসভ্যের মত বাসো,
নির্দয়ের মত বাসো ।
ভালোবাসা আর  ভালো বাসার কোনো  সংজ্ঞা হয় না।
ভরসা বিশ্বাস এসব আলগামি ছেড়ে দিয়ে দূর্দান্ত হও -
বন্যার জলের মত।

বর্ষা এসেছে 
সম্পর্কের চারাগুলো  বসাও
আসছে বসন্তে শিকড় চারিয়ে যাবে ।

Friday, June 30, 2023

গল্প স্বয়ংম্ভরা

স্বয়ংম্ভরা
অর্পিতা চৌধুরী


আষাঢ় মাসের বারো তারিখ আজ, সবে অম্বুবাচী গিয়েছে, ঝিরঝির করে বৃষ্টি পড়ছে, ভোর পাঁচটা ।এঁটেল মাটি বৈশাখের ফাট ভরিয়ে আষাঢ়ের জলে মোলায়েম হয়ে উঠেছে, অতর্কিতে পা পড়লে আর রক্ষে নেই, একেবারে সড়াৎ,প্রপাত ধরনীতল। এর মধ্যেও কেউ  সানাইয়ের রেকর্ড বাজিয়ে দিয়েছে, বেজে যাচ্ছে হিন্দোল, ভরা বর্ষায় বসন্তের প্রথম প্রহরের রাগ নিজের মনে বেজে চলেছে। এ নিয়ে অবশ্য কারো মাথাব্যাথা নেই। প্রতিবেশীদের  বিয়েবাড়ি জানান দেওয়ার মত কিছু একটা বাজলেই হল সে ভৈরবী না হিন্দোল তা এই নিম্নমধ্যবিত্ত ঘরে জানার কথা নয়।  আজ আলোর বিয়ে, পুরো নাম আলোককণা রায়, খুব যত্ন করে নাম রেখেছিলেন বাবা ঘণশ্যামবাবু, বছরখানেক আগে তিনি গত হয়েছেন। সম্বৎসর ফুরোতে না ফুরোতেই  নিজে থেকে যেচে সম্বন্ধ এলে মা রমাদেবী আর না করতে পারেননি। আলো একবার তার স্বর্গগত বাবার ও তার পড়াশোনা করে স্বাবলম্বী হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করলেও 
কলেজে ভর্তির বছরখানেকের মাথায় সে সব আপাতত তুলে আলো চললো  এখন অন্যের ঘর আলো করতে।

বৃষ্টির মধ্যে কোনোরকমে ছাদনাতলা দাঁড় করানো হয়েছে, তুমুল বৃষ্টি মাথায় করে বরবশী তারাচরণ প্রবেশ করতেই সকলের মধ্যে একটা হুলুস্থুল বেঁধে গেল। বরণ করে মিষ্টি খাওয়াতে গিয়ে আলোর পিসিঠাকুমা ঢুকরে উঠে বললো ঘনা থাকলে এমন অনাসিষ্টি ঘটতে দিতনি বাপু। বাস্তবিক, তারাচরণকে দেখে ইস্তক সবারই  মনের মধ্যে যে কথাটা আঁকুপাঁকু করছিল সেটাই যেন বামি পিসি ঠাকুমা বলে ফেললেন। আলো আর তারাচরণ যেন পূর্ণিমা আর অমাবস্যা তার উপর ঝকঝকে আকাশের মত চকচকে একখানা টাক তারাচরণের বয়সকে দ্বিগুন বাড়িয়েছে। একমাত্র আলোর এ বিষয়ে কোনো হেলদোল নেই, সে যথাসময়ে মন্ডপ আলো করে উপস্থিত হল, বিবাহ যখন সুসম্পন্ন হল  তখনও বৃষ্টি ঝরছে।

তারাচরনেরা চারভাই, তারাচরণ ছোটো হলেও  বেশ করিৎকর্মা আর হিসেবি। নিজে পঞ্চায়েত অফিসের কেরানী হওয়ার সুবাদে ডানের চেয়ে বাঁয়ের রোজগার সে ভালোই রপ্ত করেছে, তার উপর প্রচন্ড পরিশ্রমী হওয়ায় মাঠের ধান, পুকুরের মাছের অভাব নেই। আলোকে মধ্যবিত্ত স্বামীর মত সামনে বিশেষ আদর না দেখালেও কোনো জিনিসের অভাব সে রাখেনি, ফলে আলোর চেহারা দিনকে দিন আরো খোলতাই হয়েছে। অন্য জায়েদের কাছে তা হিংসের কারনও বটে। তারাচরণ এ নিয়ে মুখে কিছু বলে না । তবে যেদিন পোয়াতি আলোর বাসন ধুতে গিয়ে পুকুরঘাটে পা পিছলে প্রথম সন্তান নষ্ট হল, তার ছমাসের মধ্যেই পাশেই কিনে রাখা জমিতে দুকুঠরি ঘর তুলে আলোকে নিয়ে  সংসার পাতলো তারাচরন । দিদিরা কিছুটা হিংসে করে বলে - তারা সবসময় তার চাঁদের চরণ ধরে বসে থাকে। এখন আলোর বেজায় সুখ। দুই সন্তানের মা সে,  ফেটে পড়ছে রূপ, গোয়ালে পাঁচটা দুধেল গাই, ক্ষেতে সবজি, পুকুরে মাছ। তারাচরণ ভোরে উঠে গরুদের ছানি কেটে সংসারের যাবতীয় কাজ সেরে অফিস যাওয়ার তোড়জোড় করে। তারাচরণ অফিস বেরিয়ে গেলে  দুধ দুইয়ে সেই দুধ আলো দিয়ে আসে ডেয়ারি অফিসে, এছাড়া খাঁটি বলে তার দুধের কদর প্রতিবেশীদের কাছেও সবসময়। আলো মজা করে বলে, গরুর সামনেটা তারার পেছনটা আমার। দুধের টাকায় তার অফুরন্ত শাড়ি আর একটু একটু করে গড়ানো গয়নার সম্ভার কম নয় এতদিনে। প্রায়দিন নিত্য নতুন শাড়ি আর গা ভর্তি গয়নায় শুতে যাওয়ার আগে আলো যখন ঘসে ঘসে বসন্তমালতি মাখে সেসময় উঠোনের লেবু গাছের মৌমাছিরাও চঞ্চল হয়। দিন যায় বছর ফুরোয় ছেলেরা একে একে বাইরে পড়তে যায়, চাকরিতে ঢোকে, তারাচরণ আরো হিসেবি হয় , অবসরগ্ৰহনের সময় হয়ে আসছে, কিন্তু সংসার খরচ কমছে না। ছেলের বিয়ে দেবে, আবার একটা নতুন মানুষের খরচ, এখন আর গরু বাছুর নেই, তারাচরণ আর সময় দিতে পারছিলো না বরং এখন হিসেব করে গরুর পিছনে যা খরচ হোত তার কিছুটা টাকা সে আলোর হাতে তুলে দিয়ে সংসারের শান্তি বজায় রাখে, এতে টাকা ও খাটনি দুটোই বেঁচেছে তার। যদিও টাকাপয়সা যেটুকু জমিয়েছে তাতে টান না পড়লেও অবসরের পর যে বাবুয়ানী চলবে না তা সে ভালোই জানে। এদিকে বড় ছেলের বিয়ে আর অবসর গ্ৰহনের সময় একই মাসে হওয়ায় চাপে আছে সে, চাপা স্বভাবের তারাপদ চুপচাপ খায় অফিস যায় ফিরে এসে কাজ করে। অবশেষে অবসরের দিন চলে আসে, সারাজীবনের কেজো পাট চুকিয়ে কিছু উপহার নিয়ে বাড়ি ফেরে সে, মনে মনে ভাবে গুষ্টির জিনিস না দিয়ে যদি টাকা দিয়ে দিতো বরং কাজে লাগতো তার। এদিকে প্রথম ছেলের বিয়ে আলোককণার বাজার করার কমতি নেই, কোনোকথাই মানতে সে নারাজ। এদিকে ছেলেও হয়েছে বাপের বেটা, পয়সা কড়ির ব্যাপারে বাবার এককাঠি দড়, তার উপর নতুন চাকরি। মুখ বুজে সব সহ্য করছে তারাচরণ। 
অবশেষে বিয়ে শেষ, এবার একটু রয়েবসে চলতে হবে, ঘরে নতুন বৌমা সেও যাতে বেচাল না হয় তাও ভাবতে হবে, মাছভাজা দিয়ে মুড়ি খেতে খেতে এসবই ভাবছিলো তারাচরণ, দাওয়াতে সবজি কাটছে নতুন বৌ। এমনসময় আলোককনা অভ্যাসমত এসে বলে বসে আমার হাতখরচের টাকাখানি দাও দিকিনি বেশ কদিন হল বসন্তমালতি ফুরিয়ে গেছে। রে রে করে ওঠে তারাচরণ, চিৎকার করে বলে দুর হয়ে যা চোখের সামনে থেকে এখনো গতরের শখ যায়নি, বড় ছেলেও সঙ্গত দেয় বাবাকে, রোজগার তো করতে হয়না বুঝবে কি তার মর্ম? এখন তোমায় দেখে আমার বৌ টাও শিখুক  আর কি? মূহুর্তে  ঘটে যাওয়া ঘটনায় নতুন বৌ দ্রুত কুটনো ফেলে ঘরে ঢুকে যায়, আলোককনা উঠোনে দাঁড়িয়ে থাকে স্থানুবৎ। তারাচরণ তখনো বলে চলেছে নিজের হাতখরচ এবার নিজেই রোজগার কর, বিনি মাগনায় আর খাওয়াতে মাখাতে পারবনি। 

কেতুপুরের বাজার ছোট হলেও জমজমাট। সবাই সবাইকে চেনে, বাজারের ছলে ভালোমন্দ খবরাখবর সবাই সবাইকার পায়। তবে আজ সবাই একেবারে বাক্যহরা। বাজারের মাঝখানে  এক বড় ছাতা মাথায়, গা ভর্তি গয়না আর চওড়া পেড়ে তাঁতের শাড়িতে ঝুড়ি ভর্তি সবজি আর একগাল হাসি নিয়ে বাজার আলো করে বসে আছে আলোককনা, গা থেকে যেন আত্মবিশ্বাস ঠিকরে বেরোচ্ছে।









Friday, June 23, 2023

অবান্তর না পড়েই কি লেখা যায়

       না পড়েই কি লেখা যায়



তোমাকে পড়িনা এখন, শুধুই লিখি
লিখে যাই আদিগন্ত-
 মনে মনে ভাবি-
ভাবতে ভাবতে তলিয়ে যাই,
অথচ তোমাকে খুঁজি না ।
বৃষ্টি নামে পাতায় পাতায় , চোখের কোনে,
অথচ চড়া বালি ধোয়া হয় না

কতদিন  উঁকি মেরে দেখি না নিজেকে
কতদিন ভালোবেসে ছুঁই না তোমাকে
কতদিন ভালোবাসা বাকি পড়ে আছে শুধু ঋণে
বারোমেসে বারোকাল ধারবাকির জীবনে। 

Saturday, June 10, 2023

অবান্তর নিয়তি

        নিয়তি 


আমার জীবনে এক পুরুষ আছে নিয়তি পুরুষ
তার জীবনে আমি গহীন নারী
আমাদের মিলন নেই
তবু নিয়তি সর্বৈব চরৈবেতি

কখনো আমরা ঝরনা, কখনো নদী
কখনো উচ্ছ্বল, কখনো স্থিতধি
কাঁসাই শিলাই কংসাবতী হয়
আমরা তবু তুমি হই না।

Wednesday, May 3, 2023

অবান্তর ১৩২ রাতকথা

           রাতকথা 

আমার রাত জানে আমার জেগে থাকার মানে
আমার রাত জানে যন্ত্রনার মানে
রাত্রি যেথা গভীর হয়ে আসে
তখন এসে আমার পাশে বসে
নির্জনে মুখোমুখি দুজন
তখন আমি দাঁড়িয়ে থাকি একলা এক কোনে।

নিঝুম নিগুঢ় মাঝরাত্তির বেলা
শূন্য যখন বিশ্ব চরাচর
স্মৃতির মাঝে একলা ছুটে চলা
রইছে পড়ে শূন্য বাড়িঘর
ইচ্ছে মত তোমার খেয়াল খুশি
রাতের পরে রাত জাগিয়ে রাখে
ভবঘুরের জীবন সে-ও দামি
শুধুই কেবল তুচ্ছ তোমার কাছে

এখন শুধুই রাত্রি তোমায় চাই
বুঝি এখন একলা থাকার মানে
একলা মানেই স্মৃতির রোশনাই
ভালো আছি স্মৃতি রোমন্থনে।
আমার রাতই জানে রাত্রি জাগার মানে।


Friday, April 28, 2023

অবান্তর ১৩১ কারো কোনো দায় নেই

দায়হীন দায়িত্ব
অর্পিতা চৌধুরী 


তোমার কোনো দায় নেই।
এই যে, রাজপথে এত মিছিল চলে-
সেখানে কোনো মুখ নেই, কোনো আয়না নেই,
সব যেমন নির্জীব সাজানো গোছানো ।

তেমনই, তোমার কোনো দায় নেই।
যতক্ষন তুমি মিছিলে আছো,
তোমার কোনো দায়ই নেই।
ভালো থাকার , খারাপ লাগার কোনোকিছুর,
তখন তোমার কোনো দায় নেই।
আসলে তখন তুমি মুন্ডুহীন লেজমাত্র।

তাই, তোমার কোনো দায় নেই।
সেই উড়ে যাওয়া আঁচল প্রতি-
ঘামে লেপ্টে থাকা টিপের প্রতি-
সেই ক্লান্ত মুখের প্রতি।
কারন, সে তখন আর তোমার মুখ নয়
তখন আর সে জ্বলজ্বল করে না।

তখন, ঠিক  সেই মূহূর্তে -
তোমার সত্যিই আর কোনো দায় নেই । 


Tuesday, April 25, 2023

অবান্তর ১৩০ আহা রে জীবন

            আহা রে জীবন 


এসো 
একদিন গাছ হয়ে বাঁচি
গাছেদের দু্ঃখগুলো ঝরে ঝরে দাবানল হয়ে যাক
মচমচে পাতা তৈরী থাকুক বারুদ হবার জন্য।


এসো 
হৃদয়ের পাথরে পাথরে দুঃখ জমাই
কান্নাগুলো জোড়াতালি দিয়ে ঘর বানাই
পাষানের ফাঁকফোকর গুলো আচ্ছা করে বন্ধ রাখি
যাতে ঝর্ণা ঢুকতে না পারে।


এসো
 কখনো গাছের তলার ছায়াভরা ঘাস হয়ে থাকি
নরম সবুজ, বুকের ওমের মত পেঁজা পেঁজা
ভারি কচি অথচ নরম সবুজ ঘাস
যতবার ওরা মরে , ততবার  বেঁচে ওঠে,
ওদের মারা যায় না, শুধুই ভালোবাসা যায় ।
চলো, একবার ঘাস হয়ে বাঁচি।


Sunday, April 2, 2023

অবান্তর ১২৯ চিঠি

       চিঠি 


কিছুদিন পরপর বাড়ির আনাচ কানাচ ঝেড়ে ঝুল ঝাড়ি
স্মৃতির ধুলো তাড়িয়ে নতুনকে বসতে দিই আসন পেতে।
এমনই সেদিন আলমারির কোনাচ ধরে টান দিতেই উঠে এল এক খাবলা চিঠি।
হলদে ফ্যাকাশে আর বিবর্ণ নীলচের পোষ্টকার্ড, ইনল্যান্ড,
লেখাগুলো বিবর্ন হয়ে এসেছে।
ঝাড়ন নামিয়ে একে একে খুলে আনলাম তাদের
কত কত কথারা ঘুমিয়ে আছে সেখানে
বিয়ের আগের সলাজ চিঠি, খবর নেওয়ার ইচ্ছে প্রবল অথচ লেখা আশা করি তুমি ভালো আছো ' সলাজ ছোঁয়া।
কোনো চিঠিতে ঘরকন্নার ছোঁয়া
সংসারের দরকারের অদরকারের দামি কমদামি কথা
কোথাও লেখা বাবুর জ্বর, খুকির খবর
কোথাও শুধুই 'তুমি কবে আসবে'?

কি এক রূপকথায় ঘিরে ধরলো আমাকে
চোখের সামনে কত কতও ছবি ভেসে বেড়াতে লাগলো বায়োস্কোপের মত।
বিবর্ণ প্রেমগুলোর গন্ধ নিলাম যত্ন করে,
বুঝি কোনকালে এতে কিছু পারফিউম ছিল,
অথচ শব্দগুলোর আশ্চর্য গন্ধ, মাদকতা যেন আজীবন ভালোবাসার সুগন্ধী মেখে বসে আছে। 
এক্ষুনি, জীবন্ত হয়ে ধরা দেবে বলে।

আমিও ভালোবাসি তোমাকে।
যখনই ইচ্ছে হয়, মন খারাপ করে,
তখনই মেসেজ লিখি তোমাকে, 
বালিশের কোন ভিজে গেলে ভিডিও কল করি।
আমিও তোমাকে চিঠি লিখি যন্ত্রের হৃদয়ে ।
তবু, সে চিঠি এত সুগন্ধী হয় না।
অথচ আমাদের দুঃখ গুলো এক
তুমি কবে আসবে?

Wednesday, February 22, 2023

অবান্তর ১২৮ অনন্য চেতন

      অনন্য চেতন


মৃত্যু -
 এখন  দাগ কাটে না মনে।
ক্ষত  বিক্ষত করে না আর
সে এখন শুধুই লৌকিক ফসল মাত্র
নিয়মের কাঁটাছেড়া।
মানুষের ভেতর প্রেম খুঁজি না আর 
তবে  ভালোবাসার  ঝিটেবেড়া  খুঁজি।
এ আমার ধৃষ্টতা বললে ধৃষ্টতা, বোকামি বললে বোকামি।

ঐ যে ধূসর কুয়াশায় কালো সাদা পাখি আগুনের ঝিলিকের মত লাল রঙা বুক চিরে ওম দিয়ে যায়।
তাদের লেজের পাখায় ধূসর সবুজ হয়, শিশির কান্না হয়ে গলে,
ট্যাপট্যাপ করে জল পড়ে জীবনের আরো এক অপচয়।
আর অপচয়ের অবক্ষয়ে সংজ্ঞা খুঁজতে থাকা আমি।

অচেতনে সেই কিশোরীর মুখ মনে পড়ে।
যে কিনা জনসমক্ষে স্থির অথচ উদ্বেলিত ভিতরে ভিতরে।


Sunday, January 29, 2023

অবান্তর ১২৭ পৃথিবী খোঁজা এখনও বাকি

  পৃথিবী খোঁজা এখনও বাকি



যতদিন তোমাদের মিলনের দিন আসবে
ততদিন মনে পড়বে আমরা ভিজেছিলাম সেইদিন খুব করে,
পাতারা ভিজেছিল, গাছেরা ভিজেছিল আর ভিজেছিল অনন্ত প্রতীক্ষারা আমাদের মত ,
যেমন করে ভিজে বাঁশ  থেকে ঝরা জল জমে বাঁশের কোটরে, 
ঠিক তেমনি জলে ভেজা আঙ্গুলজোড়া আগলে ছিল আমাদের মন।
বহুদিন পর বৃষ্টি পরদায় ঢেকে নিরুদ্দেশ হয়েছিলাম, আসলে সেইদিন পৃথিবীটা হারিয়ে গিয়েছিল আর আমরা  হারিয়ে যাওয়া পৃথিবী খুঁজতে বেরিয়েছিলাম।

অথচ সেইদিন তোমাদের মিলনের দিন ছিল, সংসারী রাত ছিল,
তবু এই তো সেদিন ছাতা ছাড়াই আমরা পৃথিবী খুঁজতে বেরিয়েছিলাম।

Wednesday, January 18, 2023

অবান্তর ১২৬ , অঙ্গাঙ্গী

           অঙ্গাঙ্গী

পুরুষকে সময় দেওয়ার মত সময় নেই আমার 
পুরুষকে ভালোবাসার মত বিশ্বাস আমার নেই।
যদি তুমি বল, তাহলে তুমি কে?
তুমি আমার আত্মা,
আত্মা ছাড়া আমার কোন অস্তিত্ব নেই।