Wednesday, May 5, 2021

অবান্তর ৬১

 একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে




একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে

সত্যিই একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে।

বাতাসে থাকবে পর্যাপ্ত অক্সিজেন

শিশুরা খেলবে মাঠে,

অবোধ আঙ্গুল গুলো অসীম ভরসায় আঁকড়ে থাকবে তার রক্ষাকবচ পিতাকে,

গাছ ভর্তি পাখিরা অমলতাসে ঠোঁট ভেজাবে।


তখনও প্রেমিক ধরে থাকবে প্রেমিকার হাত ময়দানের মাঠে,

ভেলপুরীর ঠোঙারা উড়ে উড়ে এক্কাদোক্কা খেলবে,

জ্যোৎস্নার সাথে নতুন করে প্রেমে পড়বে ভিক্টোরিয়ার পরী,

পাহাড়ী বাঁকের ফার্ণ গুলো নতুন পথিকের অপেক্ষা করবে,


সব ঠিক হয়ে যাবে জানো?

বাগান চত্বরে লাগানো গাছগুলো বেড়ে ওঠা বেয়াড়া নখের মত আঁচড় বসাবে,

যেতে আসতে তোমার লাগানো অমলতাসেরা বাঁদরলাঠি হবে,

একদিন সব একটু একটু করে ঠিক হয়ে যাবে,

এমনকি স্থির থেকে যাবে পাহাড়িয়া গাঁয়ের অচেনা মুহুর্ত গুলো।


শুধু 

একে অপরকে ঠিক করতে করতে আমরাই কখন  বেঠিক হয়ে পড়বো,

দুই বিন্দু সরতে সরতে যেমন বিলীন হয়ে যায়,


তবু একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে।


Monday, May 3, 2021

কোভিড ডাইরি

             কোভিড ডাইরি



আজ দিন ছয়েক পরে হঠাৎ গোধূলি বেলায় ঝোড়ো পথিকের মত হঠাৎ করেই ঝড় উঠলো,সব জানালাগুলো একে একে ভেজিয়ে দিলাম আমার বন্দী জীবনের। শুধু, উত্তর- পশ্চিম কোনের জানালাটা ভেজাতে গিয়ে ঝাঁকড়া চুলের ফলন্ত আমগাছটার মাথা দোলানো দেখে কি জানি কেন মাতন ধরানো কালবৈশাখী কে জানলায় নাক ঠেকিয়ে দেখতে থাকলাম। যেন ওর সঙ্গে আমার বহুদিন পর দেখা, আমি আমার সমস্ত আকর্ষন দিয়ে ওর মনোযোগ ফেরাতে চেষ্টা করছি । অপার ঔৎসুক্য নিয়ে দেখছি সদ্য রাঙা আমগুলো কটা খসে পড়ে ও বাড়ির ছাদে, নাকে মুখে ঝিরঝিরে জল আর ঠান্ডা বাতাস ঝাপটা মারছে, আমার এই গন্ধহীন পৃথিবীতে জানি কোনো সোঁদা গন্ধ এসে ঝাপট দেবে না নাকে তবু অবিচল নাক ঠেকিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিদ্যুতের কড়কানিও আজ বেশ ভালো লাগছে ; কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা, মনে মনে।


আজ বহু বহুদিন পর মোমবাতির স্নিগ্ধ আলো আমার ঘরের একান্ত কোনটা কে আরো একান্ত করে তুলেছে। নিরবিচ্ছিন্ন একার জগত, একার পৃথিবী যেখানে চাইলেও কেও আমাকে ছুঁতে পারবে না, জানালায় নাক ঘষলেও সব ঘ্রান শুন্য। এ এক সব আছে অথচ নেই শুন্যর দেশ। এই দেখো সবাই আছে, তাদের গলা পাচ্ছো, অস্তিত্ব পাচ্ছো অথচ একটা অভেদ্য  মসলিনের পর্দা ভেদ করে কেউ আসতে পারবে না, বেশ একটা অদৃশ্য অদৃশ্য মজার খেলা। হয় তুমি একটা সংখ্যা হয়ে যেতে পারো অথবা ঐ যে উঠোনে তোমারই রঙচটা জামা গায়ে তোমার অপত্য খেলে বেড়াচ্ছে তাকে জড়িয়ে ধরতে পারো । শুধু,  এগারো জন খেলোয়াড়ের মত ১১ দিনের অপেক্ষা।


এমন দিন তো তোমার জীবনে বহুদিন আসেনি, ইচ্ছেমত, খুশিমতো, দেদার যাপন। কথা বলতে ইচ্ছে হলে বল নাহলে পড়ে থাকো। মনে পড়ে , হোষ্টেল জীবনে কতদিন শুধু কথা বলতে ইচ্ছে করতো না বলে কথা বলতে না, অথবা ঘুম থেকে উঠে চুপ করে বসে থাকতে, অনেকেই ভুল বুঝতো, আর এখন, যাক সে কথা। পুরনো দিন তো পুরনো ট্রাঙ্কের মত তাকে যতই ঝাড়ো সে তো দেরাজ হবে না, তাই ধুলো না ওড়ানোই ভালো।


যাক এতক্ষনে গোটা দশেক আম ওদের বাড়ির টিনের চালের মাথায় পড়ে রাস্তায় গড়িয়েছে। যেন এই গুনতি করার  কাজটাই আমার বাকি ছিল, এদিকে প্রানায়ামের তাড়া, গার্গলের তাড়া, ভাপ নেওয়ার তাড়া। আবার সেই চুপ করে পড়ে থাকার ইচ্ছেটা মাথা চাড়া দিচ্ছে, ওসব অবান্তর জিনিসগুলো কে আপাতত ধামার ভিতর চাপা দিতে পারলেই বাঁচি, মোমবাতিটা চোখ টিপে ইশারা করছে, গন্ধহীন পৃথিবীর হাফ সন্ন্যেস  ঈশ্বর, যে নিজের সাথে নিজেই কথা বলে , নিজের অস্তিত্বের শিকড় খোঁজে, হতে পারে কাল সংখ্যা গনন ঘটবে, কিংবা ঘটতে পারে তবু হে ঈশ্বর নিরিশ্বর বাদী হও।