Tuesday, March 31, 2020

কবিতা ২৩

                    সংক্রমন


কাঁটা খোঁচা স্বপ্ন গুলো একটু একটু করে        জোড়া লাগছে ,
অথচ তুমি বুঝতেও পারছো না।
সংসারিক ফুটিফাটাগুলোও জোড়া লাগছে নিঃশব্দে, আবার আগের মতন ।
বাসন মাজা কেজো হাত গুলো আবার মসৃণ হয়ে উঠছে সেই পুরনো বেলার মত।
দাম্পত্য বোরোলিনের ছোঁয়ায়, স্নিগ্ধ আঁচলের হলুদ বাস আজ বিশ্ব শঙ্কাকেও দূর করে ।


আমি দেখতে পাচ্ছি, জানালার পাশে বসে রয়েছো তুমি সুদুরপানে , পাশে পড়ে নিস্তব্ধ কলম।
যা লিখছো, ভাবছো অনেক বেশি, দেখছো তারও কম ।
শুধু অতি পরিচিত এক ফেনা গন্ধ দিয়েছে তোমাকে নিশ্চিত অবকাশ ।
চলে নীল শাড়ি নিঙাড়ি নিঙাড়ি
        পথ পানে চেয়ে থাকি।

 
                           অর্পিতা

Friday, March 27, 2020

কবিতা ২২

             কয়েদবন্দীর রোজনামচা

                             ১
            আজ সকালেই তুমি এসেছিলে,
                               স্বপ্নে
     অথচ, তোমাকে জড়িয়ে ধরা তো দূর
                ছুঁতেই চাইলাম না ,
           ব্যস্ত হয়ে পড়লাম, তোমাকে
             সুস্থিত নীড়ে ফেরাবার জন্য।

                                   ২
        এখন ভালোবাসাটাও হয়ে গেছে চার
                      দেওয়ালে বন্দী ।
      কোথাও তার লাফালাফি , ঝাঁপাঝাঁপি নেই,
       পরম সুস্থিত, পরিপাটি, বাগানো, গোছানো
           একবার করে শুধু বেঁচে থাকার
                   শব্দতরঙ্গেই বন্দী ।
           ।     ঠিক যেন ধ্যানরত বুদ্ধ ।

                              ৩
    আমাদের ভালোবাসা এতটাই গভীর যে
   একে অপরকে সর্বদাই মনে করিয়ে দিই,
        যাও কর্তব্য কর, তারপর ভালোবেসো ।
        আমাদের দায়িত্ব এতটাই গভীর যে,
         দায়িত্বটাকেই ভালোবেসে ফেলেছি ।

                                ৪
     বাগিয়ে গুছিয়ে বাঁচার মত অবসর কই?
     আমরা তো আর পারিনা কার্ফু লাগাতে।
বলতে পারিনা সজোরে, দায়িত্বরা ঘর ঢোকো
        এবার আমরা একটু ভালোবাসবো ।

                                 ৫
     সেই ঝর্না, পাথর, জঙ্গল সবই আছে ,
                 শুধু মানুষ ,ঘরবন্দী ।
মনবন্দী তো নয় ? তাই মাঝেমাঝেই উড়াল দিই
                         সেই স্বপ্নপারে ।

মনমাঝি তোর বৈঠা নে রে, আমি আর বাইতে                          পারলাম না ।



                           অর্পিতা






Thursday, March 26, 2020

কবিতা ২১

                   মানুষসোর

আবার কোনো একদিন গভীর অরণ্যবুক হতে
অথবা প্রস্তর গুহায় অগুনতি জীবাশ্ম খুঁজে পাওয়া যাবে।
সেই হাড়গোড়, জীবাশ্চর কান্নায় উঠে আসবে আরো এক সিন্ধু সভ্যতার গল্প ,
নাম হবে মানুষসোর ।

ডাইনোসরের মতই তারা হাহাকার করে বলবে,
আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী ছিলাম,
আমরা ,পৃথিবীতে সবচেয়ে স্বার্থপর প্রানী ছিলাম।

আর তখন গাছপালার ভিতর থেকে পাখপাখালিরা গান ধরবে- ছিলাম, ছিলাম, ছিলাম।
আর আমরা - আছি, থাকবো, থাকবো।

                        অর্পিতা

                   মানুষসোর

আবার কোনো একদিন গভীর অরণ্যবুক হতে
অথবা প্রস্তর গুহায় অগুনতি জীবাশ্ম খুঁজে পাওয়া যাবে।
সেই হাড়গোড়, জীবাশ্চর কান্নায় উঠে আসবে আরো এক সিন্ধু সভ্যতার গল্প ,
নাম হবে মানুষসোর ।

ডাইনোসরের মতই তারা হাহাকার করে বলবে,
আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী ছিলাম,
আমরা ,পৃথিবীতে সবচেয়ে স্বার্থপর প্রানী ছিলাম।

আর তখন গাছপালার ভিতর থেকে পাখপাখালিরা গান ধরবে- ছিলাম, ছিলাম, ছিলাম।
আর আমরা - আছি, থাকবো, থাকবো।

                        অর্পিতা


Friday, March 20, 2020

কবিতা ২১


      অর্ধরাত্রির  গান

শাবকের কাছে ঘৃনিত জেনেও
যে মাতা বিবর্ণ বসন্ত বহন করে না ,
তাকে আর যাই বলো ,
বুদ্ধিমান বোলো না ।

চন্দন গন্ধ বুকে রেখেও যে নারী চন্দনী হল না,
সেখানে নারীদিবস আর গরুর বিয়ে সমার্থক ।

আঙ্গুলের ফাঁকে ফাঁকে যখন শাল ফুল ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়,
তখনও যেন দুর থেকে বেদবানী  ঘৃণাগুলো ঝরে ঝরে পড়ে,
অনিশ্চিত কাব্যের মত ।

প্রান্তিক আলুরা ঢিবি হয়ে পড়ে থাকে প্রান্তবেলার মাঠে, ঘরে ফেরার আশায় , পলাশতলির পাশে পাশে ।


তখনও কারো পৌঁছনোর তাড়া, কারো বা ফেরার,
তবু অফুরান জিজ্ঞাসা প্রশ্ন চিহ্নের মতো পাক খায় -
এখনও ঘৃনাদেরকে গুছিয়ে রাখতে পেরেছো তো পরিপাটি করে ? খাপে খোপে সযতনে ?
শুনতে‌ পাচ্ছো? জেগে আছো কি? অনন্তকাল-
           
         লেখনী - অর্পিতা চৌধুরী

Monday, March 2, 2020

কবিতা - ২০


                         পিতৃভূমি
জানো, এটা আমার  জন্মভূমি নয়, পিতৃভূমি।
এখানে আমি বড় হইনি , তাই এখানে আমার কোনো শৈশব নেই।
নেই কোনো কৈশোর বা কিশোরী বেলার প্রেম।
তবু যখনই ফিরে ফিরে আসি,
স্মৃতিচিহ্নের মত লম্বা টানা বারান্দা,টিমটিমে হ্যারিকেনের আলোয় কচিকাঁচাদের পাত পেড়ে  সার সার মাথা, আর হাতপাখা গুলো প্রশ্ন চিহ্নের  মতো দুলতে থাকে, দুলতেই থাকে ।
এখন আর কোন রাগ নেই, ভাগ নেই, চিৎকার ক্যাঁচ ক্যাঁচ এমনটি বাসন মাজার শব্দ টুকুও নেই।
সব যেন শালগ্রাম শিলা, নিটোল নিশ্চুপ।
এমনকি পায়রা, কাকগুলোও ভদ্রলোকের মত ঘড়ি ধরে এসে খেয়ে যায়।
সবকিছু নিটোল নীরব ।
এখানে তুমি নেই, আমি নেই , নেই কোন প্রশ্নচিহ্ন।
সারি সারি তালা বন্ধ ঘরেদের পিছনে নেই কোনো অদেখা রহস্য,
তবু বড় নিশ্চিন্ত হই।
রঙচটা জামায়, না আঁচড়ানো চুলে এলোমেলো দিনযাপন বড় প্রিয় আমার।
এ যেন এক অন্য সুখ, শুধু একার, চেটেপুটে খাওয়ার।
ঝরাপাতার মত ঝরতে ঝরতে ,
যখন নিশ্চিন্তে বিছিয়ে থাকি,
তখনই তো আনন্দ,
এ পুজো আমার ,একান্ত আমার, নিজস্ব ।
               লেখনী- অর্পিতা চৌধুরী