Thursday, November 26, 2020

 

খুব আদর চাই জানো
যতটা আদর পেলে প্রশ্নচিহ্নেরা সব নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় ।

খুব আদর চাই
যতটা আদর পেলে পোষবিড়ালীর মত বুকের ওমে গুটিসুটি থাকা যায়।

খুব আদর চাই
যতটা আদরে পৃথিবীকে তুচ্ছ মনে হয়।
আদরের লেপে ডুবে গিয়ে ডুবসাঁতার দিই খরস্রোতায়।

আদরে আদর চায়
যে আদরে নেই সংশয়।

Wednesday, November 25, 2020

অবান্তর ১১

 


            হেমন্ত, কথা বলো




আমরা মরে গেছি জেনেও আমাদের আত্মারা সংস্কার মেনে চলে,

পায়ে পায়ে ঘুরে মরে পোষবিড়ালির মত।


আমরা মরে গেছি জেনেও 

আমাদের আত্মারা ছুঁয়ে পেতে চায় সেই হাত,

বলিষ্ঠ ও নরম।


আমরা মরে গেছি জেনেও 

শীত বিকেলের হেমন্তেরা ঠোঁট ছুঁয়ে যায়

নরম শাবকের মত।


আমরা মরে গেছি জেনেও 

আমাদের আত্মারা শরীরী খেলা খেলে

অশরীরীর মত।


আমরা  মরে গেছি জেনেও

অর্ধেক আমার জীবন, অর্ধেক তোমার যাতায়াত

উঁকিঝুঁকি মারে।


আমরা মরে গেছি , তবুও 

বাঁচার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত মরে যেতে চাই

অন্তিম আদরে।


আমরা জানি আমরা মরে গেছি,

তবু দড়ি টানাটানি ,

পাকেপাকে টান লাগে, কষেকষ আঁটে

তোমার বাটে এখন চৈত্রমাস, আমার হেমন্ত।


Saturday, November 21, 2020

অবান্তর ৯

 


                      দেবী

তোমার কপালে সূর্যোদয়ের লাল টিপ, পরনে সুখী ঢাকাই শাড়ি, তোমার অঙ্গে অঙ্গে গৃহকোনের নিপুনতা,কঠিন ব্যাস্ততার ফাঁক গলে তুমি এসেছো আমার কাছে, ঠিক যেমন করে সব কাজের ফাঁকে তুমি নখে পালিশ দাও হাসিমুখে।

বোধন চলছে
আমার কঠিন মুখের সামনে নতজানু তুমি, অথচ কঠিন মুখের আড়াল থেকে আমি লোভীর মত দেখছি তোমার সুখের ঢাকাই আর লাল টিপ, তুমি ভাবছো দেবী তাকিয়ে আছেন আমার দিকে ।

তিলে তিলে গড়ে ওঠা দেবী আমি,
তাই দূরত্ব আমার আয়ত্ব,আমি বরাভয়, অথচ  তাকিয়ে থাকি তোমাদের সুখচিহ্ন সজ্জিত মাটির দিকে।

দেবীর বোধন হয় তাই বিসর্জন অবশ্যম্ভাবী,
তোমাদের তো আবাহন বিসর্জন নেই, শুধুই ধারাবাহিক সংসার।

ঢাক বাজছে চারিদিকে, বিসর্জনের বাজনাতে ডুবে যাচ্ছি আমি,
সমস্ত পূজন নিয়ে তলিয়ে যাচ্ছে বরদাত্রী,
এখনও শুধু শুন্যে উত্থিত আমার আরাধ্য কুচযুগ ও মুখমন্ডলী।

তখনও ,ঠিক তখনও, তোমাকেই দেখছি আমি
পরনে ঢাকাই শাড়ী, কপালে লাল টিপ, পরিপাটি।
মুখে জ্বলজ্বল করছে সুখচিহ্ন।

Sunday, November 15, 2020

অবান্তর- ৮

 


ভন্ড, লোভী, সুবিধেবাদী, প্রবঞ্চক আর নিঁখুতভুলের আক্ষেপ গাইতে গাইতে পার করছো তুমি দীর্ঘ পথ।

প্রতিটি নিঁখুতভুলের  বাঁকে দাঁড়িয়ে আছে একটা করে বোধিবৃক্ষ।

একটা করে পার করছো আর লাভ করছো অনন্ত অভিজ্ঞতা , সঞ্চয় করছো ধন অনন্ত কঠিনতার।

প্রতিটি বোধিবৃক্ষের পরেই আছে অনন্ত আক্ষেপ তারপর স্তিমিতি।

এখন নিঁখুতভুল গুলো ধরতে পেয়ে একেএকে পার হচ্ছো  গুছিয়ে বাগিয়ে ।

নিঁখুতভুল গুলো  বাঁক নিতে নিতেই একদিন সমান্তরাল নিঁখুত ঠিক আসবে ।

আর ঠিক তখনই সব আক্ষেপ ফেলে রেখে সমস্ত আঁকিবুঁকি সেরে টুক করে নেমে যাবে জীবন ষ্টেশন থেকে ।

অবান্তর - ৭

                      উৎসব


আজ আমার অঙ্গে অঙ্গে উৎসব

ঠোঁটের সব রক্তিম শূন্য করে মেখেছি গরল নীল।

আমার ওষ্ঠরঞ্জনী ভেদ করে যাচ্ছে গহন কালোর শূন্যতা ।

অতল, স্থবির নীল ঠোঁটে মেখে রেখেছি সমস্ত প্রেমালাপ, 

এখনও রাত্রির নৈঃশব্দ্যের মত স্থির।

শুধু পৃথিবীর চলাচল শুনতে পাচ্ছি পার্থিব সময়ে।


হে প্রেম, হে প্রিয়

 পারবে কি তুমি নীলকন্ঠ হতে ?

সমস্ত গরল চুম্বন করে, নিঃশেষিত, নির্বাক ।


Tuesday, November 10, 2020

ছোটো গল্প

 


                পরকীয়া - ১

কুঁকড়া ডাকা ভোর থেকে এই পৌষের জাড়েও বুধা বাউরীর ঘরে আজ সবাই উঠে আছে। ঘরে তার বৌ, বিটি,লাতি - লাতিন, ছেলে- বৌমা অথচ সবাই একপ্রকার জুবুথুবু হয়ে যে যার মত বসে আছে। বাচ্ছাদুটা পঁটা পড়া নাকে ছড়ানো মুড়ি খুঁটে খুঁটে খাচ্ছে সেইসঙ্গে ঘরের দু-পাঁচটা মুরগীও মুড়ি খুঁটছে আপনমনে উঠানে ।

এমনসময় বুধা বুড়ার বৌ তাবি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো , মাগী মরে বাঁচল। সাঁঝ ভোরেই ভরত উপর পাড়া থেকে এসে খবর দিয়ে গেছে, এখন দাহকার্য বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত  হবে সেই বিষয়ে কেউ বুধা বাউরীকে শুধাতে সাহস পায় নাই। তাই দুই বৌমাও ইতস্তত করে আর তাদের গোলাঘরে বেরোতে পারে নাই। খবরটি পাওয়া ইস্তক বুধা বাউরী গুম হয়ে বসে আছে।

তাবির মনে পড়ে যাচ্ছে কতককালের কথা, সেই ১৩ বছরে এ ঘরে বৌ হয়ে আসা, বছর ঘুরতে না ঘুরতেই পোয়াতি হওয়া, এদিকে কংসাবতী ড্যামের তখন হড়বড়াই কাজ চলছে আর ঘনঘন সাহেবদের আনাগোনা, জিপ ড্রাইভার বুধা বাউরীর তখন নাওয়া খাওয়ার সময় নাই, কখন আসে কখন যায় তাবি জানতেও পারে না, যখন আসে মদে চুর। এদিকে তাবির শরীর ভাঙ্গতে লাগলো, ডাক্তর দেখানো ওষুধ সবই অবশ্য বুধা করেছিল, তখন উয়ার হাতে অঢেল কাঁচা পয়সা, তো সেযাত্রায় তাবি উদ্ধার হলেও আর পুরনো গত্তি ফিরে আসে নাই ।তবু একে একে চারবার কিকরে যেন পোয়াতি হল তাবি আর উৎরে গিয়ে বেঁচেও রইলো, কিন্তু বুধার ঘর আসা ধীরে ধীরে কমতে লাগলো। প্রথম প্রথম তাবি কাজের  কথা ভাবলেও পরে পরে এদিক ওদিক থেকে দুএকটা খবর উড়ে আসতে লাগলো, আর যতদিনে ভালো করে উড়লো ততদিনে বুধন বাউরি উপর পাড়ার ভারির ঘরে গেড়ে বসেছে। তারপর কত বৃথা রাগ অভিমান কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ভারিকে মেনে ও মানিয়ে নিয়েই চলতে হয়েছে তাবিকে। নাঃ,  এঘরে তাকে এনে বুধা কোনোদিনই তুলে নাই কিন্তু আসাযাওয়া এমনকি ছেলেমেয়েদের  বিয়াতেও তার উপস্থিতি সবাই মেনে নিয়েছিল।

তবে বাঁজা ভারী বলেই সবাই তাকে ডাকতো, এমনকি বুধনের ছেলেমেয়েরাও, এতে কোথাও শান্তি ছিল কিনা জানা নেই, তবে কিছুটা অভ্যাস তো ছিলই।
সেই ভারীও শেষকালে এক মা-বাপ মরা ছেলেকে মানুষ করেছিল, নিজে গোলাঘরে খাটতো আর বুধন মাসকাবারি কিছু টাকা তাকে দিতো , এভাবেই তার শেষকালটা কেটে গেল।

যাইহোক , এখন সমস্যা দেখা দিয়েছে এই যে , তার দাহকার্য ও পালন কি হবে? বুধার কোন ছেলে মুখাগ্নি করবে, কতদিন পালন করবে কেউ কিছু বুঝতে পারছে না, অথচ বুধা সকাল থেকে চুপ, কেউ যে জিজ্ঞাসা করবে সে সাহসও নাই।

বড় ছেলে বিশা বৌয়ের ইশারাতে মায়ের শরনাপন্ন হল। তাবির মনে কিছুটা হলেও দুঃখ জমা হয়েছিল, ছেলের কথায় সেসব ঝেড়ে গলা খাঁকরে বলল - ইসব আমাকে কেনে শুধাচ্ছিস, বুড়াকে শুধা। অতএব খুকখুক করে কেশে ইতস্তত করে বিশা বাপকে শুধাল , বলি বেলা তো বাড়ছে, তা পালন তো ১৪ দিনেই হবেক, নাকি ? এবার তো যেতে হয় ?

এতক্ষনে বুধা ছেলের মুখ দিকে তাকাল , তারপর অবাক দৃষ্টিতে বললো , পালন ! কিসের পালন ?

 বিয়াই তো করি নাই ।

Monday, November 9, 2020

অবান্তর ৬

 


                            তূন

পাহাড়ের অন্তিম ঢালে দুটি অবয়ব খাঁজে খাঁজ , ভাঁজে ভাঁজ মিশে আছে।
তাদের নাক, মুখ ওষ্ঠ, স্তন,জঙ্ঘা এখন সবই অবিভাজিত,
অস্পষ্ট পাহাড়ী কুয়াশার মত।
এ শুধু ছুঁয়ে থাকা নয় , অন্তিম ঢালে মিশে থাকা, নির্বিকার।
এরপর হয়তো বা অজন্তা ইলোরার সূচিপত্র তৈরী হবে,
নয়তো বা পত্রমোচিত ন্যাড়া গাছ টিকি দোলাবে আকাশে।

ছুঁয়ে থাকার পরও যদি অন্তিম জাগে , তবে মরনের কি দোষ বল ?
মিশে থাকার পরও যদি কম্পন জাগে , তবে চোখ খোলো ।
চেয়ে দেখো - আমি রাধা নই,
  অর্জুন ।

Sunday, November 8, 2020

অবান্তর ৫

 

               হতেই হবে মহীরুহ

ধীরে ধীরে মহীরুহরা ঝিমিয়ে আসছে /ওদের ঘুম পাচ্ছে এবার / শীতঘুম / ঐ যে সোনালী উপত্যকা দেখছো / ও আসলে অন্তিম হেমন্তের আভা / তাই এত ঝকঝকে / ঠিক সত্যনারানের পিতলের বাসন /  কাজ শেষ/ তুলে রাখার সময় হল / এবার শীত / এবার আর বসন্ত আসবে কি / গুলি মাখা মামাচাটনি আর মাছ লজেন্স এখনও হাতে / মহীরুহরা কি যেন বলছে / যেন বলছে / গুল্ম এবার মহীরুহ হও
               গুল্ম এবার মহীরুহ হও
                               হও ।

অবান্তর ৪

 


      চকমকি


একটা মজবুত গাছ

কিছু নিশ্চিন্ত শাখাপ্রশাখার জড়ামড়ি

একটা নিশ্চিন্ত শষ্প ছায়াতল

নীল পাখির নিশ্চিন্ত বাসায় হলুদ -সবুজ ডিম

খুব সহজ কথা অথচ -

মেলানো খুব জটিল

ধরতে গেলেই মিলিয়ে যায়

কোল খুঁজতে ঠাঁইনাড়া

ঠাঁই খুঁজতে কোল

কেমন করে হিসেব মেলাই

মেলা হিসেব রই  


Saturday, November 7, 2020

অবান্তর ৩

 


                কোনো প্রশ্ন নেই

এলিজা কার্লসনের মতোই আজ আর কোনো প্রশ্ন চিহ্ন জেগে নেই।
প্রতীক্ষা করতে করতে ওরা এখন কোলের শিশুর মত নিস্পাপ নিদ্রাতুর।

দেখছো না ওদের দেয়ালা হচ্ছে,
অথচ সেখানেও কোনো প্রশ্ন নেই,
এক থেকে একক প্রশ্নোত্তরে মেতেছে ওরা ,সব উত্তর তবু ওদের অজানা নয় আজ-
কিছু জানে, কিছু অনুমানে।
কেননা জানতে হয়, জানার কোনো হিসেব নেই মানা।

যে সমুদ্র ভোরে ওদের জন্ম হয়েছিল, কোল পেতে পেতে ওরাও আজ নিরুত্তাপ ।
আজান দেওয়া ভোরের ধ্রুবতারায়,
জোনাকিরা জোনাকিপথ তৈরী করে নতুন প্রেমের ব্রীড়ার মত।

শুধু দুর থেকে কিছু প্রশ্ন কাস্তের মত দুলে দুলে ভাসতে থাকে,ভাসতে থাকে,  ভাসতেই থাকে।
যদি ধরতে পারো, হয়তো ওরা বলে বসবে -
                  জানো কি ?
ঠিক কতটা উপযুক্ত হলে এক পৃথিবী আরেক পৃথিবীর খবর রাখতে পারে ?
স্যাটেলাইটের ওপারে --------