Tuesday, May 24, 2022

অবান্তর ১০৪ প্রেম

     প্রেম


ক্ষনিকের পথ চলা শেষে,
যখন বিরহ এসে মেশে,
সব সত্য স্বপ্ন মনে হয়।
হাতে হাত রাখা,শব্দ অপচয়।
ছিল না প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কথা
নিংশর্তে আত্মসমর্পণ।
চোখে চোখে কিছু অবুঝ কথন
বলার চেয়ে না বলা অনুক্ষন,
নিরুচ্চারিত শব্দ যোজনায়
দুয়ে দুয়ে চার করে বুঝে নিতে হয়।
তাতে বুঝি বাকি থেকে যায়, কিছু পরিপাটি।

ভুল বোঝার হালখাতা সেরে
সময় গড়িয়ে চলে। 
যেটুকু এলিয়ে পড়ে আছে
সে তো অচেতন, 
সেটুকুই মন, ভাঙ্গাকোন।

ফিরে যেতে যেতে বলি,
বাকি রয়ে গেল কিছু টুকরো জীবন ।
না পাওয়া বাকিটা চির প্রেম,
বাকি সব চির পুরাতন।

Monday, May 9, 2022

অবান্তর ১০৩ অমিমাংসিত

   অমিমাংসিত

তুমি আমার কে? 
উত্তরে বলি ,
আসলেই সব নও , সবটা।
কিছু সম্পর্ক খুব কম দামী
তবু জানি খুঁটি স্তম্ভের মত তারাই ধরে থাকে মাটিতল।
ক্ষনিক হলে, এতদিনে ঝোড়ো হাওয়া উড়িয়ে নিতো কোনকালে
থেকে যাবে বলেই জাপটে ধরে আছড়ে মারে,
তারপর, ফিসফিসে অভিমানে বলে,
আমি তোমার কে?

অবান্তর১০২ চরাচর

       চরাচর


জ্বলন্ত বোশেখ , বৃষ্টি হাত,
শিরশিরে সকাল,
এত হন্তদন্ত ত্রস্ত ব্যস্ততায় ,
তবু,মাঝপথেই ফিরতে হয়
আসলে -
বুক ভিজলেও বৃষ্টিতে তোমায় আমায় ফিরতে হয়।
সব বৃষ্টিতে ভেজা যায় না,
সব বৃষ্টিতে ভেজা হয় না,
ঝকঝকে তারাদের গা থেকে জল ঝরে,
তবু ভেজা হয়না বহুকাল।

শ্যাওলা জমতে জমতে ,
পিছল গায়ে জল ধরে না,
ঘেঁটু ফুলের বাস ওড়ে না,
কুঁড়চি লতায় ফুল ঝরে না,
না এর রাজ্যে হ্যাঁ বসে না,
তবু ,কোথাও যেন বৃষ্টি ঝরে বৃষ্টি পড়ে
বারো মাস তিরিশকাল।

Saturday, May 7, 2022

অবান্তর ১০০ সময়

               সময়

বন্ধ দরজার চাবি হন্যে হয়ে খুঁজছি,
আসলে সে তো ভেতর থেকেই বন্ধ। 

বারে বারে ধাক্কা খাচ্ছি বলেই, 
অন্ধকারকে দোষারোপ করি।
আসল সত্য, কোনো হাত কেউ বাড়ায়নি।

অঝোর ধারায় ঝরছি বলেই-
ঝরনা বইয়ে যাবে,
এমন ভালোবাসা, থাক।

সামাল দিতে দিতে সমুদ্র পার ,
তারপরের হাত 
আপেক্ষিক , অদরকারী।

একা হতে হতে বিস্তৃত,
তারপর অন্তিমে চলা।
তখন সবই কৌতুক, চরাচর।

অথচ ,
এই ভালোবাসার জন্যই উচ্ছন্নে যেতেচেয়েছিলাম,
এখন পথই আমার ঘর।

Tuesday, May 3, 2022

অবান্তর ১০১ দূরত্ব

       দূরত্ব



দুরত্বের একটা নিশ্চুপ গন্ধ থাকে।
তুমি আছো অথচ নেই,কিংবা আছো,
অথচ অস্বীকার করছো জনসমক্ষে।
কি আশ্চর্য !
তবু আমার দুঃখগুলো আগের মত আর ঝর্না হচ্ছে না
জলের সঙ্গে ঝর্নার দূরত্ব বাড়তে বাড়তে খরজমি।
দূরত্বের ফাটলে হাত বাড়ালে হাত লম্বা হতে হতে বেনাগাল।
অনুগতর জার্সি পরে যখন দাঁড়ালে 
তখনও ঘরে ফেরার আনন্দ হচ্ছে না বুকের ভেতর,
দ্রিমিদ্রিমি শব্দেরা সব উধাও আজ।

সবই কেমন নিটোল, নিভাঁজ, সাজানো, পরিপাটি, তবু  বোশেখ শূন্যতা।
যেন আগে যেমন কোথাও ছিল না, এখনো নেই।
শুনছি সবই!
তবু, গরম লু এর মত  ঝাপটা মারছে না, 
অ- সুখ

প্রান পুড়ছে না, শরীর গলছে না।
সব ঝর্না কি আসলেই একসঙ্গে শুকিয়ে মস্তিষ্ক হয়ে যায়?
এত এত প্রশ্ন!
তবু কেমন নির্লিপ্ত ধারাবাহিকতা।
যেন ছিল তাই আছো , না থাকলেও থাকবে।