Monday, November 15, 2021

অবান্তর ৭৪ ওপরকক্ষ নীচকক্ষ

    ওপরকক্ষ  নীচকক্ষ



আমার নীচকক্ষে  একজন স্মৃতিতে থাকে আর একজন স্মৃতিচারণায়,

কালের নদীতে শুশুক ডুব দিয়ে দিয়ে তুলে আনে ক্ষয়াটে মনিমুক্তোর হাড়পাঁজর।

দিনশেষে পড়ন্ত বেলায় সারাক্ষন ঝগড়া করে

গা আউলায়

অথবা গুনে গেঁথে ওষুধ বাঁচায়।

স্মৃতিপথে যত  তাগিদ আসে, আঁশশেওড়ার ডালের  ওপর পা ঝুলিয়ে  ক্ষেন্তি বুড়ির দিদি শাশুড়ির গল্প করে।

পুরোনো জিনিস ঝালিয়ে ঝুলিয়ে নেয়,

পুরনো কাপড় চোপড় পোঁটলা করে স্মৃতিতে সাজিয়ে রাখে।


অদেখা মানুষ আর অচেনা সমস্ত বিষয়ে মনোযোগ দিয়ে নিজেকে প্রয়োজনীয় করে তোলে সংসারে।

অস্তিত্ব রক্ষার বড় দায়।



অথচ একদিন ছিল,

দুহাতে দুপায়ে হামাগুড়ি দেওয়ারও  অবসর ছিল না ।

টগবগে ভাতে গরম ফ্যান ফেলে খাওয়ার ফুরসত নেই,

চুলের জট চুলেতে গিঁটিয়ে, ব্যাগ তুলে দৌড়,

ফিরে এসে পুনরাবৃত্তি, কোনো কোনো দিন রাতজাগরন, কোলের শিশুকে কোলে করে।


আর আজ

খনি খুঁড়ে চলে

ধারাবাহিক মনুষ্য জীবন,

বাসা বাঁধে, ডিম পাড়ে, তা দেয় , 

ডানা শক্ত হলে উড়াল দেখে।


তারপর 

একটা চেয়ার, কিছু পোঁটলা,মাথার কাছে কিছু ওষুধের আনাগোনা, একলা নীল বাতি আর

একটা কাজের মেয়ে।

জীবনের সবচেয়ে আপনজন, ওপারের আলো।

তেল মাখে, গল্প করে জীবনের অন্ধি সন্ধি ক্ষন।

সঞ্চিত পুঁটুলিরা নিশ্চিন্তে ঘুমোয়।

এদিকে শুকনো রুটি ফুলতে ফুলতে আকাশ রচনা করে।

মানুষটি তখনো স্বপ্নে বিভোর ।




No comments:

Post a Comment