স্বজন
শীতের কনকনে রাত, কুয়াশারা সাদা মার্কিনের ওয়াড় গায়ে ঘুমিয়ে পড়েছে সন্ধ্যাকালে, নদীর উপরের জোলো কুয়াশারা জমাট বেঁধে আছে কি এক অভিমানে। বিষন্ন ক্ষয়াটে চাঁদ কুয়াশা মাখা গায় আচ্ছন্ন। পাড়ের কাছের শ্যাওড়া গাছটায় একটা পেঁচা সবে সান্ধ্যগীত শুরু করেছে। ইতিমধ্যে দুয়েকটা শেয়ালের ছোঁকছোকানি শুরু হয়েছে এধারে ওধারে। দারকেশ্বরের কনকনে বাতাস চামড়া ভেদ করে হাড়ে সিঁধোচ্ছে।
মড়ির চারপেয়ের উপর আয়েশ করে বসে আছে মধু ডোম, চোখ তার গেঁজে উঠেছে ,গাঁজায় রক্তলাল। ঠান্ডা লাগছে কিনা তার পাথর কঠিন মুখ দেখে বোঝার উপায় নেই। ফি মাসে একবার বেওয়ারিস লাশ পোড়াবার ডিউটি তার, তাই মড়া একাই এসেছে তার সাথে। সবে আগুন ছুঁয়েছে যুবতী শরীর, গনগনে আঁচ মধুর মুখে জলন্ত অঙ্গারের মত খেলা করছে, গা সেঁকছে সে এই তাপে।
এক যুবতী ডেডবডি, বয়স ২৬, চিতায় ওঠাবার সময় লক্ষ্য করেছে মধু তার একঢাল চুল আর সর্পিল গড়ন। অজান্তেই অভিজ্ঞ মধু কোমর আর বুকের মাপ মেপে নেয়। ঠোঁটের কোনে ফুটে ওঠে চোরা হাসি।
একে একে স্পর্শ করছে আগুন , প্রথমেই চুল আর বস্ত্র শেষ, মধু ডোম চেয়ে আছে নিস্পলক, মনে পড়ে যাচ্ছে সোমরার বউয়ের সোমথ্থ শরীর টার কথা। তার আদরে গলে যাওয়া বিবস্ত্র শরীর টার কথা। গেঁজেল দৃষ্টিতে দেখে সে আগুন স্পর্শ করছে যুবতী শরীরের এক একটি আহ্লাদী অঙ্গ। স্তন, নাভীমূল, গ্ৰীবা, যোনী এমনকী বিভঙ্গ ভাঁজেদের একে একে স্পর্শ করছে আগুন ঠিক যেন মধু ডোমের ডোমনীকে আদরের চূড়ান্ত ক্ষন উপস্থিত। আগুন উস্কে দিতে দিতে নেশাতুর চোখে মন্থন করে সে।
ঠান্ডা বাতাসে ঢুল ধরে, জানে সে এখনো অনেক সময় বাকি। আগুনের তাপে, নির্জনপ্রান্তে বসে ঢুলতে থাকে সে, মাঝে মাঝে স্বপ্নও দেখে কি? কে জানে।
হঠাৎ ফটাস করে ফাটার আওয়াজে মধু ডোম সচকিত হয়, গেঁজেল চোখে তাকিয়ে দেখে আগুন তাপে বিস্ফারিত হয়েছে স্তনবৃন্ত,সমস্ত হিমেল ধারা যেন স্রোতের মত গড়িয়ে আহুতি দিচ্ছে অগ্নিকে, যেন এক পবিত্র যজ্ঞে আহুত হচ্ছে মাতৃস্তন্য। অস্থি, মজ্জা, দুগ্ধধারা একত্রিত হয়ে আগুনে ঘৃতাহুতি দিচ্ছে, ওঁ নমঃ স্বাহা।
অস্পষ্ট আলোকে এই প্রথম অভিজ্ঞ মধু ডোম অজ্ঞাতে করজোড়ে দাঁড়িয়ে আছে, চোখ দিয়ে দরদরিয়ে বইছে অশ্রুধারা।
বেওয়ারিশের পাশে আজ একমাত্র স্বজন, মাতৃগর্ভ থেকে উঠে আসা এক আদিম পুরুষ ।
দুর্দান্ত বলন!
ReplyDelete