যা দেখি তা লিখি
৭
ঝিঁঝিঁ ডাকা খর দ্বিপ্রহর , পুকুরের চারিপাশ আম ,জাম, জামরুল,কলায় ভর্তি থাকায় বাইরের সঙ্গে বেশ একটা গোপনীয় বেড় সৃষ্টি হয়েছে। সকালে ছাড়া সূয্যিও জলের মুখ দেখতে পায় না ।চারিদিক কেমন তাই শীতল শীতল, স্তব্ধ সুখময় হয়ে থাকে। এই খর প্রহরে স্তব্ধ ঘাটে ফেলে যাওয়া ভাতের কনায় ঘাই মারছে কালবউস, আর চুনোরা। এ বড় নিজস্ব সময় , হিজলেরা শুয়ে আছে এক কোনে চুপ করে কারও প্রতীক্ষায় ।
খিড়কি দোরের শুনশান পথ, যে পথ গিয়ে মিশেছে রান্না শালের পিছনে , সেখান দিয়ে কার যেন প্রলম্বিত ছায়া দেখা যায়। এ পথ সাধে না কেউ সচরাচর, শুধু সে ছাড়া, এ যে তার অভিসার পথ।
ঘাট বাঁধানো সিঁড়ির পৈঠায় সদ্য জল স্পর্শ করেছে অলক্তরঞ্জিত পা দুখানি নূপুর নিক্বন তুলে । আলতার প্রথম পোচ গুলিয়ে গিয়ে জল এক অযুতবর্ন ধারন করেছে, বাচাল পুঁটিরা ছোটো ছোটো ঘাই মারছে তার অলক্ত অঙ্গুলিতে।
এক নিস্পৃহ ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে কলাবতী ,গায়ে আজ তার সদ্য ঘৃতের বাস। চোখে সেঁটে আছে এক স্থির চিত্র, নাপতেনি বসেছে দাওয়ায় হাঁক পাড়ছে বৌ ঝিদের, এক পিতা তখন নিজ হস্তে রঞ্জিত করছে কন্যার পা, তারপর দুটো আলতা চোবানো পা দুহাতের জোড়ে নিয়ে মাথায় ঠেকিয়ে বিড়বিড়াচ্ছে - আমার জগজ্জননী। আজও সেই বিষুত বার ।
তার গম রঙা শরীর দেড় যুগ পরেও নির্মেদ, ঈর্ষক। এ বড় একান্ত সময় তার , কুলুঙ্গি থেকে ঝেড়েঝুড়ে তুলে রাখা মনটা তুলে আনে সে ডুব দেবে বোলে হিজলের সনে।
তার নিতম্ব বেষ্টিত চুল পুকুর ছড়িয়ে আছে,মসৃন বাহু থেকে গড়িয়ে পড়ছে জল, আধডোবা দুর্গা প্রতিমার মত চকচক করছে ঘামতেল, যেন এখুনি গড়িয়ে যাবে পদ্মপাতার মত। তার নাভি স্পর্শ করছে শীতল জল, তার স্তন, মসৃন বাহু, বাহুমূল শুধু জল আর জল, যেন জল সাথে জল হয়ে মিশে যেতে চায় আজ।
মনে বড় সাধ, ঐ যে পুকুরের মাঝখানে বুড়বুড় ওঠে সারাক্ষন সেখানে সে যাবে একদিন , ডুব দিয়ে পার হবে সূক্ষ পথ, দাঁড়াবে যখার কাছে যক্ষিনী হয়ে । কেন যেন যেতে চায় মন, সব শূন্য ,শূন্য মনে হয় । শুধু যক্ষিনী মন নিরন্তর ঘুরে মরে । সে জলের স্পর্শ পেতে চায়, জলের ঘ্রান পেতে চায়, জলের শব্দ ছুঁতে চায় জল হয়ে শামুকের মতো। হিজলের মত শুয়ে থাকে তাই জলের উপরে অবিন্যস্ত, সময় বয়ে যায়, ঝরে পড়ে দু ফোঁটা স্বেদ ভালোবাসা হয়ে , মরাল গ্ৰীবার মত ঠোঁট তুলে রাখে অন্তিম সময়ের তরে।
এদিকে ঠিক সেইসময় উত্তর পুবে ঈশান কোনে পোড়ো আমগাছ থেকে তাকিয়ে আছে প্রাগৈতিহাসিক জ্বলজ্বলে দুটো চোখ, ধূসর ছিপছিপে শরীর টাকে কালো আমডালের তলা দিয়ে পেঁচিয়ে জলের কিনারে এগিয়ে যেতেই চোখে পড়ে কলাবতীর আধভাসা শরীর, মুহূর্তে পাক মারে সে, পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে লাফ দেয় উল্টোদিকের ঘেসো ঝোপে , সড়সড় করে চলে যায় , কলাবতী জানতেও পারেনা। যেমনটা, বাস্তুখরিসটা যেদিন পূর্ণিমা রাতে বাগানের ঢ্যামনার সাথে শঙ্খে মেতেছিল, কলাবতী তাদের ভালোবাসাবাসি দেখে সরীসৃপ পা ফেলে লাছদুয়ারে তালা দিয়েছিল, ঠিক তেমনই।
পৃথিবীর কত যে চোখ, কে জানে! কখনও জল হয়ে, কখনও মীনবৎ, কখনও বা প্রাগৈতিহাসিকের মত প্রাচীন চোখে। শুধু অন্ধ কলাবতী খুঁজে ফেরে তার যখাকে যক্ষিনী হয়ে।
অর্পিতা
৭
ঝিঁঝিঁ ডাকা খর দ্বিপ্রহর , পুকুরের চারিপাশ আম ,জাম, জামরুল,কলায় ভর্তি থাকায় বাইরের সঙ্গে বেশ একটা গোপনীয় বেড় সৃষ্টি হয়েছে। সকালে ছাড়া সূয্যিও জলের মুখ দেখতে পায় না ।চারিদিক কেমন তাই শীতল শীতল, স্তব্ধ সুখময় হয়ে থাকে। এই খর প্রহরে স্তব্ধ ঘাটে ফেলে যাওয়া ভাতের কনায় ঘাই মারছে কালবউস, আর চুনোরা। এ বড় নিজস্ব সময় , হিজলেরা শুয়ে আছে এক কোনে চুপ করে কারও প্রতীক্ষায় ।
খিড়কি দোরের শুনশান পথ, যে পথ গিয়ে মিশেছে রান্না শালের পিছনে , সেখান দিয়ে কার যেন প্রলম্বিত ছায়া দেখা যায়। এ পথ সাধে না কেউ সচরাচর, শুধু সে ছাড়া, এ যে তার অভিসার পথ।
ঘাট বাঁধানো সিঁড়ির পৈঠায় সদ্য জল স্পর্শ করেছে অলক্তরঞ্জিত পা দুখানি নূপুর নিক্বন তুলে । আলতার প্রথম পোচ গুলিয়ে গিয়ে জল এক অযুতবর্ন ধারন করেছে, বাচাল পুঁটিরা ছোটো ছোটো ঘাই মারছে তার অলক্ত অঙ্গুলিতে।
এক নিস্পৃহ ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে কলাবতী ,গায়ে আজ তার সদ্য ঘৃতের বাস। চোখে সেঁটে আছে এক স্থির চিত্র, নাপতেনি বসেছে দাওয়ায় হাঁক পাড়ছে বৌ ঝিদের, এক পিতা তখন নিজ হস্তে রঞ্জিত করছে কন্যার পা, তারপর দুটো আলতা চোবানো পা দুহাতের জোড়ে নিয়ে মাথায় ঠেকিয়ে বিড়বিড়াচ্ছে - আমার জগজ্জননী। আজও সেই বিষুত বার ।
তার গম রঙা শরীর দেড় যুগ পরেও নির্মেদ, ঈর্ষক। এ বড় একান্ত সময় তার , কুলুঙ্গি থেকে ঝেড়েঝুড়ে তুলে রাখা মনটা তুলে আনে সে ডুব দেবে বোলে হিজলের সনে।
তার নিতম্ব বেষ্টিত চুল পুকুর ছড়িয়ে আছে,মসৃন বাহু থেকে গড়িয়ে পড়ছে জল, আধডোবা দুর্গা প্রতিমার মত চকচক করছে ঘামতেল, যেন এখুনি গড়িয়ে যাবে পদ্মপাতার মত। তার নাভি স্পর্শ করছে শীতল জল, তার স্তন, মসৃন বাহু, বাহুমূল শুধু জল আর জল, যেন জল সাথে জল হয়ে মিশে যেতে চায় আজ।
মনে বড় সাধ, ঐ যে পুকুরের মাঝখানে বুড়বুড় ওঠে সারাক্ষন সেখানে সে যাবে একদিন , ডুব দিয়ে পার হবে সূক্ষ পথ, দাঁড়াবে যখার কাছে যক্ষিনী হয়ে । কেন যেন যেতে চায় মন, সব শূন্য ,শূন্য মনে হয় । শুধু যক্ষিনী মন নিরন্তর ঘুরে মরে । সে জলের স্পর্শ পেতে চায়, জলের ঘ্রান পেতে চায়, জলের শব্দ ছুঁতে চায় জল হয়ে শামুকের মতো। হিজলের মত শুয়ে থাকে তাই জলের উপরে অবিন্যস্ত, সময় বয়ে যায়, ঝরে পড়ে দু ফোঁটা স্বেদ ভালোবাসা হয়ে , মরাল গ্ৰীবার মত ঠোঁট তুলে রাখে অন্তিম সময়ের তরে।
এদিকে ঠিক সেইসময় উত্তর পুবে ঈশান কোনে পোড়ো আমগাছ থেকে তাকিয়ে আছে প্রাগৈতিহাসিক জ্বলজ্বলে দুটো চোখ, ধূসর ছিপছিপে শরীর টাকে কালো আমডালের তলা দিয়ে পেঁচিয়ে জলের কিনারে এগিয়ে যেতেই চোখে পড়ে কলাবতীর আধভাসা শরীর, মুহূর্তে পাক মারে সে, পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে লাফ দেয় উল্টোদিকের ঘেসো ঝোপে , সড়সড় করে চলে যায় , কলাবতী জানতেও পারেনা। যেমনটা, বাস্তুখরিসটা যেদিন পূর্ণিমা রাতে বাগানের ঢ্যামনার সাথে শঙ্খে মেতেছিল, কলাবতী তাদের ভালোবাসাবাসি দেখে সরীসৃপ পা ফেলে লাছদুয়ারে তালা দিয়েছিল, ঠিক তেমনই।
পৃথিবীর কত যে চোখ, কে জানে! কখনও জল হয়ে, কখনও মীনবৎ, কখনও বা প্রাগৈতিহাসিকের মত প্রাচীন চোখে। শুধু অন্ধ কলাবতী খুঁজে ফেরে তার যখাকে যক্ষিনী হয়ে।
অর্পিতা
বিমুগ্ধ অতীতের মৃতসঞ্জীবনী লেখন;শত শতাংশে সৎ ভিতে প্রতিষ্ঠ বলে ... এ প্রবাহের প্রাণোচ্ছলতা অশেষ! ধন্যবাদ আপনাকে। এভাবে মুগ্ধতায় আবিষ্ট হবার সুযোগ দিয়ে চলুন ...
ReplyDelete