হলুদ হেমন্ত
এমন হেমন্ত আসেনি কোনোদিন
এমন হলুদ হেমন্ত।
এ তো বার্ধ্যকের ঝরা পাতা নয়, এ তো আগত যৌবন,
তবু হাতে হাত রাখা হয়নি কতদিন
অথবা কচি শিশিরের ঘ্রান মৃদুতা হারিয়েছে বহুকাল,
হলুদ ফুলেরা পাক ব্রীড়ায় ঠোঁট ফোলায় অজানা উত্তাপে
হয়তো বা আগত পৌষে সমস্ত উষ্ণতা শুষে নেবে উষ্ণতার জন্য, নয়তো ফাল্গুনে।
তবু হেমন্তের গুটি গুটি প্রস্থানের আগে ভীরু চোখে ইতিউতি চাওয়া প্রেমিকের প্রস্থানের মত,
স্বপ্নচিহ্ন রেখে যাবে আরো দুরতর হেমন্তের।
শুধু তখনও কথা রাখার কথা থাকবে না কানে কানে,
কিংবা মনে মন জানে বলে কোনো কথা বাকি নেই আগত বসন্তে।
তাই এমনি চলে যাবে অনাগত অতিথির মত ঝোড়ো বাতাসের মত উড়ে উড়ে।
অথচ তখনো শালবন, লালমাটি তোমার হলুদ রঙ্গে রাঙ্গা বৌয়ের মত লজ্জাবতি,
কুসুমিকা তার সর্ব অঙ্গে রতির আরতি।
অথচ চোখে কোনো আশা নাই , মুখে নাই ভাষা
হৃদয়ের মুখ নাই, নাই ভালোবাসা।
তাতে কি সে প্রেম কমে?
যে প্রেম করেছে মোরে শীতের বৈরাগী।
খড়িওঠা পথে, ধুঁন্দুলের ছালে, নতুন গুড়ের আখনিতে মন বারে বারে ফেরে খঞ্জনী ধুলায়।
রসখড়ি ওঠা মন , কে করে যতন, অজয়ের কূলে, বৈরাগীনি সনে,
সারারাত আগুনে শরীরে ওমের পর শিশির রোদ কচি প্রেমে জাড় করে।
নতুন সে প্রেম সখি , আদুরে বেড়ালের মত ওম খুঁজে ফেরে, ঘোরে পায়ে পায়ে অচেতনে,সযতনে।
যতই ফেরাতে চাই, ততই জড়িয়ে ধরে বারেবার, ক্ষনকাল মাত্র না ছাড়ে।
আধেক আমার প্রিয় আধেক তোমার যাতায়াত বারেবারে বেপথু করেছে আমায় ।
শীতের ওমের মত তাপ খুঁজি জানু ও জঙ্ঘায়,
স্বপ্নে কিংবা স্পর্শে হোক, সে তো একান্ত আমার,
প্রৌঢ় হেমন্তের তরে লেপ দিই মেলে শীতের উত্তাপে, বলি ভালোবাসো, ভালোবাসো,
দীর্ঘ বাসো যারে ।
,
কবিনীর হেমন্ত , হেমন্ত নয় ; এ যেন পীতধড়া অমরায়ু কৃষ্ণ।
ReplyDelete