যা দেখি তা লিখি
২
আজ আরো একবার এই মধ্যযামে নিশিডাকের মত এসে দাঁড়িয়েছি আমার আস্তানার ছাতে । পড়শী নেড়ীগুলো আজ কোথাও বেপথুমান। বুড়ো পাহারাদার কিছুক্ষণ আগেই লাঠি ঠুকে নিশ্চিন্ত করে গেছে, তার উপস্থিতি অতএব 'আল ইজ ওয়েল' ।
২
আজ আরো একবার এই মধ্যযামে নিশিডাকের মত এসে দাঁড়িয়েছি আমার আস্তানার ছাতে । পড়শী নেড়ীগুলো আজ কোথাও বেপথুমান। বুড়ো পাহারাদার কিছুক্ষণ আগেই লাঠি ঠুকে নিশ্চিন্ত করে গেছে, তার উপস্থিতি অতএব 'আল ইজ ওয়েল' ।
তারা খচিত চাদরের উড়নি উড়িয়ে আমি শুয়ে রয়েছি আকাশ চাঁদোয়ার তলে। এ বড় নির্লিপ্ত সময়, এ সময় কারো প্রতীক্ষা করে না , শুধু উদাসীন দৃষ্টিতে আকাশ বারোয়ায় নির্নিমেষ তাকিয়ে থেকে প্রতীক্ষা করে, কিসের কে জানে? এক অদ্ভুত নির্লিপ্ততা প্রতিটি কোনায় কোনায় আলগা শিশিরের মত ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়। যেমনটি ছোটবেলায় সকালবেলা ঘাসের ডগা থেকে আঙ্গুলের ডগায় শিশির মাখলে এক অবোধ আনন্দ জাগতো ঠিক তেমনি।
কেমন এক উদাসীন ভালোলাগা এই রাত অবেলার চারপাশে ঘুরঘুর করে মরে। কানে বাজে 'খন্ডন ভব বন্ধন/ জগবন্ধন বন্দি তোমায়' ।অথচ ঐ যে পাছাপেড়ে শাড়ির বুটিদার গায়ে চাপিয়েছি সেই প্রতিটি বুটি যেন শৈশবের কথা কয়, কিশোরী বেলার নলেন জীবনের হাতছানি দেয়। বন্ধন মুক্তি কি এতই সহজ খ্যাপা ,এ শুধু খনিক জীবনের বাচালতা আর সর্বৈব ভন্ডামি ।
কি জানি, এ বুঝি বুড়িয়ে যাবার ডাক বিদায় বেলায় উঁকিঝুঁকি মারে। তবু এ রাত আমাকে আমার করে , আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধে পরম উষ্ণতায়, অসীম নির্লিপ্তিতে জড়িয়ে রাখি বুকে - দু হাত ভরে, বিশাল ব্যাপ্তিতে ক্ষুদ্রতা ঢাকি বিহানের তরে।
আধো ঘুমে আচ্ছন্ন আমি ঘুমজড়ানো মনে আধো শুনতে পাই সেই বুড়ো বৈষ্ণব ফাগুনের ভোরে গেয়ে যাচ্ছে গান- শুক বলে ওঠো সারি / ঘুমাইও না আর , আমি ভুলে যায় এ ভরা শীতের ফাগুন নয় এ আমমুকুলের বোশেখ ভোর। অর্ধচেতনে লেপ খুঁজে বেড়াই , আর আমার শুক সারি রা স্বপ্নের মধ্যেই ঘুরঘুর ঘুরপাক খেয়ে মরে আরো একটু ওমের আশায়।
অর্পিতা
স্বাদু...
ReplyDelete