Saturday, May 2, 2020

মধ্যযাম ১


                  যা দেখি তা লিখি
                             ( ১)

এখন মধ্যরাত, আকাশ ঘন মেঘের চাদর মুড়ি তে নেমে এসেছে ঠিক আমার ঠোঁটের কাছে । একটুকরো লোভী চাঁদ এখানে ওখানে উঁকি ঝুঁকি মারছে । আমার বর্তমান আস্তানার নিস্তব্ধ জানালায় দাঁড়িয়ে আছি মোহাচ্ছন্ন হয়ে। এ সময় যেন নিস্তব্ধ, নিশ্চল, বড়ই একান্ত। এখন আর কোনো পিছুটান নেই, নেই কোনো কর্তব্যকর্ম অথবা ফেলে রাখা কাজের পিছুটান। শুধু সামনে একটা পট আর আমি একমাত্র দর্শক পটুয়া ।

আমার  আস্তানার সামনেই একটা অশ্বত্থ গাছ আমার কিশোরীকাল থেকে দন্ডায়মান, এই কয়দিন আগেও সে নেড়া মাথা সর্বস্ব ত্যাগী সন্ন্যাসীর মত দাঁড়িয়ে ছিল অথচ আজ দেখো ষ্ট্রিট ল্যাম্পের হলদে ক্ষয়াটে আলোয় অল্প বয়সী কচি কিশোরীর মত এক গা কচি পাতায় সেজে উঠে নির্লজ্জের মত এ ওর গায়ে চিরচির ঝিরঝির করছে । দুএকটা পাতা সোনাঝুরীর মত খসখস করে ঝরে পড়ছে ।ওদের বেহায়াপনায় বিরক্ত হয়ে ওরই মাঝে আশ্রিত দুএকটা বক স্বপ্ন দেখে এপাশ ওপাশ করছে আর পড়শী পেঁচা গুলো কর্কশ স্বরে মধ্যযামের নির্ঘণ্ট ঘোষনা করছে ।

সামনের তিনমাথার মোড়ের ষ্ট্রীটল্যাম্পের মাথায় যে শালিকটা বারো মাস তিরিশ কাল বাসা বেঁধেছে সেও এখন শাবক সমেত ঘুমে কাতর । তার তলায় ৭-৮ টা পাড়াতুতো নেড়ী এ ওর ঘাড়ে পড়ে বেকার জীবন যাপন করছে। হঠাৎ একটা তরুন নেড়ী সদ্য সিং গজানো বাছুরের মত  নিজের পৌরুষত্ব জানান দিতে মাতৃকোল থেকে লাফ দিয়ে তারস্বরে চিৎকার করলো , সঙ্গে সঙ্গে তার জেঠা, কাকারাও সঙ্গ দিল শুধু মা সারমেয় আলসেমিতে শুয়ে রইল চোখ বন্ধ করে। কিছুক্ষণ পর বেপাড়া বাজদের তাড়িয়ে এসে আবার মায়ের কোলে , কয়েকজন এদিক ওদিক শুঁকে গোয়েন্দাগিরি করতে লাগলো, অথচ জানতেও পারলো না এই পড়ন্ত রাত্রিতেও কেউ ওদের পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

জানলায় দাঁড়িয়ে ভাবি এই যে অশ্বত্থ গাছ, সামনের আকাশটাকে ঝাপড়ে আড়াল করে রেখেছে তাকে যত দেখি ততই তার পাতার কুঞ্চনে, নাচনে, ঝিরঝির মিরমির শব্দে নদীর কলতান শুনতে পাই। যেন নিশ্চিন্তে কোনো ডিঙ্গি নৌকা বেয়ে চলেছে তার নির্ধারিত ঠিকানায় আদিগন্ত কাল ধরে আলসে গতিতে।সে নিশ্চিত জানে কালরাত্রির পর প্রথম সূর্যের
আলো ঝিলমিলাবে কিশোরীর শ্যাম্পু খোলা চুলের মত

আবার রাতের প্রতীক্ষা। একান্ত সেই রাত, যে রাতের কাঁধে ঠোঁট রেখে ফিসফিসিয়ে কথা বলা যায়, যেখানে কোনো লকডাউন নেই ।
                       অর্পিতা

1 comment:

  1. একটি পাতা এভাবে অগণিত পাতাবাহারের সাতরঙা স্রোত হয়ে বয়ে চলুক...

    চলোর্মী চরৈবেতি থাক!

    ReplyDelete