কথন
আবার এক মৃত্যুকীর্ণতা, আবার এক মরচে পড়া দিন। এ দিনের যেন শেষ নেই, কানাগলির মত, শুরু আছে শেষ নেই। অথবা শেষ হলেই সমাপ্ত বলেই এ অনন্ত। ঈশ্বর, নিরীশ্বর, প্রার্থনার মাঝে নির্লিপ্ত জীবন, যে জীবনে সংঘাত পদে পদে নৈরাশ্যের সাথে তবু সব কিছু আলগা আলগা যেন আমি বলে এখানে কোনো দুঃখ সুখের লীলা নেই, সবই দর্শকের দর্শনমাত্র। এই যে একটা দৈনন্দিন সকাল শুরু হল তারপর আবার ঘটনার পুনরাবৃত্তি অভ্যস্থ দ্রুততায় জামাকাপড়, প্রয়োজনয়াদি ব্যাগে পোরা, এখন সে যেন শিশু আমি ধাত্রী, তাই উপশমে নয় প্রয়োজনে বিশ্বাসী, দ্রুততায় সিদ্ধান্তে আসি, আবার সেই হাসপাতাল,শুশ্রুষা,বমন গা, তবু কেন জানি বিবমিষা আসে না, মুছিয়ে দিই, সরিয়ে দিই না। ক্ষিধে নেই, বোধ নেই, অনায়াসে পাঁজাকোলা করে তুলে আনি, এও বুঝি প্রাপ্তি, উপলব্ধি, নিজের সাথে নিজের। সারাদিন দাঁড়িয়ে,ক্লান্তি নেই অথচ ডাক্তার অমিল।
এই তো সেদিনও অচেতন দেহ কাছে সবাই যখন ইতস্তত তখনও কোনো এক বোধের কাছে জিম্মেদারি করেছি মন। কোথাও যেন এক বিচ্ছেদ গন্ধ তীব্র হচ্ছে দ্রুততায় অথচ কি নির্লিপ্ত আমি, যেন মুখোমুখি হতে প্রস্তুত কোনো এক ভবিষ্যতের অথচ কোনো ভয় নেই, ভাবনা নেই , সবই চলছে যন্ত্রসংগীতের মত, সুরে তালে কোথাও কোনো খামতি নেই, ওজর নেই।
বেশ একটা বোধ জন্মেছে আমিত্বে। সেই যখন করোনাকালে একলা উপরনিবাসী সন্ধ্যেবেলায় জানালাপাশে মেঝেতে বসে লিখতে লিখতে অনুভব করলুম মোটাসোটা কালোকুলো একটা সাপ ঢুকে পড়ছে জানলা দিয়ে, চমকে তাকাতেই দেখি কোথাও কিছু নেই, গা টা ছমছম করে উঠলো, দিলুম জানলাটা বন্ধ করে। অথচ ঠিক পরের দিন ভরদুপুরে অমনিই এক ঢ্যামনা জানলা দিয়ে বুকে পড়লো রান্নাঘরে, মনে মনে কেমন একটা খটকা লাগলো, বললাম না, কিন্তু খচখচানি রয়ে গেল।
আবার দেখ সেই মানুষটা যেদিন বললো মেয়েলি দুপেয়ের তেলখাবার জায়গার সে খোঁজ জানে না, হয়তো মশকরা করেই, তবু কেমন যেন সেই খচখচানিটা ফিরে এল আর তারপরই ধরনীপ্রপাত ।
আবার দেখ না এই যে সেদিন ঘুমোতে ঘুমোতে কেঁদে কেঁদে উঠলাম, দেখলাম যে ওম স্কুলে খুব অসুস্থ অথচ সেদিন রবিবার, ঠিক পরদিন ছেলে জ্বরের ঘোরে ছেলে বাড়ি ফিরলো। এ কি? এ কেন? প্রশ্ন খুঁজতে ইচ্ছে হয় না, তবু খচখচানিটা ফিরে ফিরে আসে।
কিছুদিন ধরেই এক বিচ্ছেদ সুর শুনতে পাচ্ছি, এ যেন অবচেতনের গান, এখানে কোন ভয় নেই, ভাবনা নেই শুধু কর্তব্য, সবাই কে আশ্বস্ত করার অথচ কেমন যেন নির্লিপ্ততা। সব কিছু তে থেকেও কেমন যেন হাঁসের মত গাঝাড়া দিয়ে চলেছি। বাইরের আমির সাথে ভেতরের আমির কোনো সংঘাত নেই, কোনো দ্বন্দ্ব নেই শুধু যেন বাইরের আমির জন্যে ভিতরের আমি ঘুমিয়ে থাকতে চায়। ঘুম থেকে উঠে হাই তোলে, ভাবে খুব ফাঁকি দেওয়া গেল যাইহোক। এতদিনে ভিতর আমি বুঝতে পারে এই যে মানুষগুলোকে নাড়ছি ঘাঁটছি এটাই কর্ম, এরপর অন্তিমে কে কি আড়ম্বর করলো, কে কত সখ্যতা দেখালো সবই নশ্বর, আপেক্ষিক। তখন আর তোমার কোনো কাজ নেই, তখন তোমার কোনো দায় নেই, তখন বোধহয় তোমার ক্লান্ত হওয়ার সময়, জিরোবার সময়। এখন, এই যে তুমি পাশে আছো, বারে বারে লড়াইয়ে জয়ী হচ্ছো অথচ তুমি নিশ্চিত জানো একদিন হারবেই, তবু লড়াই ছাড়ছো না এটাই প্রাপ্তি, এখানে কোনো শুন্যতা নেই, আফশোস নেই, বলন নেই, শুধুই নৈব্যক্তিকতা।
তবু মাঝে মাঝে বুঝতে ইচ্ছে হয় সত্যিই কি সব দৈন্যতা ঝরে গেছে মাটি থেকে, এখনও কোনো গাছ যদি ঋজু হয়ে দাঁড়ায়, জড়িয়ে ধরে বলে আয় তোর ছায়া হই, অনেকদিন রোদে পুড়ছিস, জলে ভিজছিস, তখনও কি , তখনও কি তামাটে রোদে রোদ ঝরবে না বৃষ্টি!
কি জানি? হয়তো বা ----
প্রতিটা বর্ণ যেন ঘুমের মাঝে হঠাৎ শিউরে ওঠা এক একটা ঘোর দুঃস্বপ্ন।
ReplyDeleteকী তীক্ষ্ণ , তীব্র, ধারালো পরিস্থিতির রুদ্রমালা! দুঃসহ সত্যের বীভৎস রূঢ়তা নিয়ে ... এগোবার পথ আগলে দাঁড়িয়ে! এ অসহায়তার সাথে লড়ে যাওয়া আপনার কাছে খুব অচেনা নয়। এবং পরিস্থিতি , প্রকৃতি আপনাকে স্বয়ংসিদ্ধা করে তুলেছে। যে গাছ নিজ বৃত্ত মাঝে সবচেয়ে ঋজু, দ্বায়িত্বপ্রবণ ... সে সমান ভরসার হাত বা কাঁধের আশা করতে পারেই ; কিন্তু, অমোঘ সত্য ... তাকেই পথে প্রথম এগোতে দেখবে। ক্রমে সহায়ক , সঙ্গত বাড়বেই।
প্রিয় লেখিকা ,
আপনার দৃঢ়তা , পারঙ্গমতাকে যথার্থ চিনি। সাহিত্য নয় ,ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি। একটু স্থির ও শক্ত হোন। আপনি পারবেন। দোহাই ভেঙে পড়বেন না।
জানিনা সত্যিই কী ঘটেছে, ঘটে চলেছে ... ; তবে অনুমান করা যাচ্ছে ... যথেষ্ট দুঃসহ কিছু!
দোহাই, নিজেকে শক্ত করুন। আপনি পারবেনই।
বনস্পতি সবার খেয়াল রাখে। ওর খেয়াল কেউ রাখতে পারে না। দোহাই, নিজের খেয়াল রাখুন।
পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক, আপনি পারবেনই।