চিঠি
কিছুদিন পরপর বাড়ির আনাচ কানাচ ঝেড়ে ঝুল ঝাড়ি
স্মৃতির ধুলো তাড়িয়ে নতুনকে বসতে দিই আসন পেতে।
এমনই সেদিন আলমারির কোনাচ ধরে টান দিতেই উঠে এল এক খাবলা চিঠি।
হলদে ফ্যাকাশে আর বিবর্ণ নীলচের পোষ্টকার্ড, ইনল্যান্ড,
লেখাগুলো বিবর্ন হয়ে এসেছে।
ঝাড়ন নামিয়ে একে একে খুলে আনলাম তাদের
কত কত কথারা ঘুমিয়ে আছে সেখানে
বিয়ের আগের সলাজ চিঠি, খবর নেওয়ার ইচ্ছে প্রবল অথচ লেখা আশা করি তুমি ভালো আছো ' সলাজ ছোঁয়া।
কোনো চিঠিতে ঘরকন্নার ছোঁয়া
সংসারের দরকারের অদরকারের দামি কমদামি কথা
কোথাও লেখা বাবুর জ্বর, খুকির খবর
কোথাও শুধুই 'তুমি কবে আসবে'?
কি এক রূপকথায় ঘিরে ধরলো আমাকে
চোখের সামনে কত কতও ছবি ভেসে বেড়াতে লাগলো বায়োস্কোপের মত।
বিবর্ণ প্রেমগুলোর গন্ধ নিলাম যত্ন করে,
বুঝি কোনকালে এতে কিছু পারফিউম ছিল,
অথচ শব্দগুলোর আশ্চর্য গন্ধ, মাদকতা যেন আজীবন ভালোবাসার সুগন্ধী মেখে বসে আছে।
এক্ষুনি, জীবন্ত হয়ে ধরা দেবে বলে।
আমিও ভালোবাসি তোমাকে।
যখনই ইচ্ছে হয়, মন খারাপ করে,
তখনই মেসেজ লিখি তোমাকে,
বালিশের কোন ভিজে গেলে ভিডিও কল করি।
আমিও তোমাকে চিঠি লিখি যন্ত্রের হৃদয়ে ।
তবু, সে চিঠি এত সুগন্ধী হয় না।
অথচ আমাদের দুঃখ গুলো এক
তুমি কবে আসবে?
এই কারণে সব অতীত, অতীত হয় না। কিছু অতীত স্মৃতিগন্ধী প্রাণবন্ত স্পন্দনে চিরধ্রুব; জাগরুক ... অতীতাতীত ! সে সময়ের মানুষী-মানুষী এবং তাদের মন সত্যিই অনাবিল সব সম্পদ। বহু বাধার মধ্যেও বাঁধভাঙার নন্দিত অবোধ-সুবোধপণা! এসব অপুরোনো অফুরোনো কথার চিঠি গুলো ,আমাদের প্রজন্মের কাছে সে সব একান্ত রিক্থ ! অনন্ত অর্জন।
ReplyDeleteযন্ত্র দিয়ে যখন যাতনার কথা বলতে হয় ; বলা বাহুল্য তা কতটা হাস্যকর কারুণ্যের বস্তু! তবু, এ সময়ের আপনাদের যান্ত্রিক বার্তা, দর্শনটাও একদিন আরও দ্রুতগামী সময়ে নব নব বিকল্পে মিশে যাবে। অকপট, অফুরান, অটলায়মান সম্পর্কের ;প্রেমের নিগড় উদাহরণ অবশ্যই অনেক কমে যাবে। তবু সলজ্জ, নির্ভাঁজ ,নিখাদ সম্পর্ক; প্রেম-প্রীতি থেকে যাবে। অনসংখ্য অথচ অনন্ত কিছু অনন্ত ছোটো ছোটো জোড়নীয় গীতিগাথা।
প্রণয়াভাষার যুগাতিক্রম্য ভাষ্যটির জন্য প্রিয় কবিকে আন্তরিক শ্রদ্ধা,সাধুবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।